মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি <>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ছয় জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যু কর্তৃক অপহৃত হওয়ার চারদিন পর মুক্তিপণের বিনিময়ে বাড়ি ফিরেছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ^র নদ তীরবর্তী ক্ষেতাছিড়া ২২ ঘর জেলে পল্লীর ছয় মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসে। সাপলেজা ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য মো. আফজাল হোসেন বেপারী বিষযনি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অতি দরিদ্র ওই ছয় জেলেকে অপহরণ করে সুন্দরবনে তিনটি ট্রলারসহ আটকে রাখার পর ২৮ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃত জেলেরা মুক্তি পায়। প্রাণভয়ে ঈধহৃত জেলেদেও পরিবার থানা পুলিশকেও বিষয়টি জানায়নি।

অপহৃত জেলেরা হলেন, ক্ষেতাছিড়া জেলে পল্লীর মৃত হাসেম শরীফের ছেলে জেলে বাদল শরীফ(৫০), তার ছেলে এমরান শরীফ (১৭) মৃত আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে হালিম হাওলাদার(২৫), সাহেব আলী হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদার(১৮), কেতাব আলী হাওলাদারের ছেলে মোফাজ্জেল হাওলাদার (৩০), মৃত আফজাল মৃধার ছেলে মনির হোসেন মৃধা( ২৮) ।

অপহরণের কবল হতে ফিরে আসা জেলে, বাদল শরীফ জানান, গত বৃহস্পতিবার( ২৪ মে) মঠবাড়িয়ার ক্ষেতাছিড়া জেলে পল্লীর ছয় জেলে তিনটি ছোট ট্রলার যোগে সুন্দরবনে সংলগ্ন ছাপড়াখালী ও চানমিয়াখালীর শ্যাওলা দুধমুখী নদীর পশ্চিম দিকে বড়শী ও ছান্দি জাল দিয়ে মাছ ধরতে ছিল। এসময় বেলা ১১টার দিকে একটি ট্রলারযোগে ১০/১২ জনের জলদস্যু ছয় জেলেকে অপহরণ করে সুনন্দরবনের গহীন বনে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে। এসময় অপহরণের খবর পুলিশকে জানালে জেলেদেও হত্যার হুমকী দেওয়া। ফলে অপহরণের বিষয়টি চাপা রেখে ২৮ হাজার টাকা মুক্তিপণ পরিশোধ করে ঘটনার চারদিন পর আজ রোববার জেলেদের মুক্তি দেয় জলদস্যুরা। অপহৃত জেলেরা ফিরে এসে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবহিত করেছেন।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম ছরোয়ার  জানান, বিষযটি ভূক্তভোগি জেলে পরিবারের কেউ পুলিশকে অবহিত করেনি। তবে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। অপহরণের ঘটনাস্থল শরণখোলা রেঞ্জের আওতায় পড়েছে। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন