দেবদাস মজুমদার >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ষাটোর্ধ দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের দুই পা এখন অচল। স্বাভাবিক চলা ফেরা করাতে পারছেন না। দুই পায়ের হাঁটুর ওপরে জয়েন্টে(হিপ জয়েন্ট)ক্যালসিয়াম শুকিয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর ওই জয়েন্টে অপারেশন লাগবে। কিন্তু এ অপারেশন করার মত ন্যূনতম অর্থ তাঁর নেই । প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ফুফল॥হভা আবেদনও করেছিলেন দরিদ্র এ মুক্তিযোদ্ধা । কিন্তু চিকিৎসা সহায়তা না মেলায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনীয়া গ্রামের দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা নিভৃত পল্লীতে শয্যাশায়ি অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন।

অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান,তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তখন তিনি পার্শ্ববর্তী বরগুনার বেতাগী উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। ওই অবস্থায় দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ৭১ সালের জুন মাসে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। বাড়ি পালিয়ে পাশ্ববর্তী দেবত্র গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল হকের কাছে যান। তিনি ওই গ্রামের ঘরামী বাড়িতে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগ দেন। এরপর অক্টোবর মাসের শুরুতে পটুয়াখালী অঞ্চলের সাবসেক্টর কমা-ার ক্যাপ্টেন মেহেদী আলী ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা উপকুলীয় বরগুনার বামনা ও বেতাগীর বিষখালী নদী তীরবর্তী বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ২০০৫ সালের ১৪ মে গেজেটভূক্ত হন। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা সদন নম্বর-৮৩৭৮৬,গেজেট নম্বর- ৯৭৩ ও তার মুক্তিবার্তা নম্বর-০৬০৫০৬০৫৯৩।
দেশ স্বাধীনের পর তিনি এইচ.এস.সি পাস করেন। কিন্তু দরিদ্র কৃষক বাবা মৃত ওয়াজেদ আলীর পক্ষে ছেলেকে আর পড়াশুনা করাতে পারেননি। মোস্তফাকে তাউ কৃষক হতে হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কৃষিকাজ ও বর্গা জমি আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল মোস্তফাকে বর্তানে চার সদস্যেও পরিবারের ভরণ পোষণ চালাতে হয়। ছেলে জসিম উদ্দিন অসুস্থ পিতার বেহাল সংসারের হাল ধরতে গিয়ে মাধ্যমিক স্কুলের পাঠ শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়তে হয়। এমন অবস্থার মধ্যে ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফার দুই হাঁটুর জয়েন্টে(হিপ জয়েন্ট)ক্যালসিয়াম শুকিয়ে গেলে তাঁর স্বাভাবিক হাটা চলা বন্ধ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য ব্যাংক হতে ঋণ আর আত্মীয় স্বজনের কাছে হাত পেতে ঢাকায় চিকিৎসা করে এখন স্বর্বশান্ত। সর্বশেষ তিনি ঢাকায় অ্যাপেলো হাসপাতালের অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. প্রশান্ত আগরওয়ালের চিকিৎসা নেন। চিকিৎসক জানান মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফার দুই পায়ের হিপ জয়েন্টে অপারেশন লাগবে। দরিদ্র কৃষক মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে উন্নত চিকিৎসার অর্থ সংস্থানের কোন উপায় নেই। চিকিৎসার ব্যায় মেটাতে গিয়ে তিনি ব্যাংক ও আত্মীয় স্বজন মিলিয়ে দেড় লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন অবস্থার মধ্যে অসুস্থ এ মুক্তিযোদ্ধা বিনা চিকিৎসায় গ্রামের বাড়িতে বিছানায় শুয়ে বসে দিন কাটছে।
অসুস্থ এ মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসার আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে গত ২০১০ সালের ৩০ আগস্ট রিখিত আবেদন জানান। আজ অবধি ওই আবেদনে সাড়া মেলেনি।

জীবন যুদ্ধে পরাজিত অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে এখন হতাশ। তিনি চিকিৎসা ও বাঁচার আকুতি জানিয়ে মৃত্যুর আগে অন্তত এক মূহুর্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমা-ার মো. বাচ্চু মিয়া আকন জানান,মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত। তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না । অর্থাভাবে তার উন্নত চিকিৎসা মিলছেনা।

মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফার সাথে যোগাযোগ-মোবাইল নম্বর-০১৭৪১৪২৫৪০২, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর- ৫৯৪,অগ্রণী ব্যাংক
মিরুখালী ইউনিয়ন শাখা,মঠবাড়িয়া.পিরোজপুর।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন