দেবদাস মজুমদার ▶️

যৌতুকের দাবি তুলে গৃহবধূ লীমা বেগমকে (২০) মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে তার সাত মাসের শিশু রাবেয়াকে আটকে রাখা হয়। এর ৯ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার বিকেলে উদ্ধার শিশু রাবেয়া তার নির্যাতিত মা লীমা বেগমের কোলে ফিরেছে।উপজেলার বকশীর ঘটিচোরা গ্রামের অভিযুক্ত স্বামী শহীদুল ইসলামের বাড়ি থেকে শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করে। তবে  পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্যাতিত গৃহবধূ লীমার স্বামী শহীদুল ইসলাম ও শ্বশুর নয়া মিয়া পালিয়ে যান।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের কৃষি শ্রমিক মো. আব্দুর রশীদের মেয়ে লীমা বেগমের বিয়ে হয় উপজেলার বকশীর ঘটিচোরা গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের সময় ৭৬ হাজার টাকাসহ অন্য মালামাল প্রদান করে লীমার পরিবার। লীমা ও শহীদুলের সংসারে গত সাত মাস আগে রাবেয়া নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

সম্প্রতি স্বামী শহীদুল ব্যবসার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন স্ত্রী লীমার পরিবারের কাছে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় শহীদুল স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। গত ৩০ অক্টোবর শহীদুল যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায় শহীদুল স্ত্রীকে মারধর করেন। এরপর দুগ্ধপোষ্য  শিশু কন্যাকে আটকে রেখে মা লীমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য বহু চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন মা লীমা। পরে আদালতে প্রতিকার চেয়ে লীমা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত স্বামী শহীদুল ও শ্বশুর নয়া মিয়াকে আসামি করে গত ৭ নভেম্বর মঠবাড়িয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজিরের জন্য মঠবাড়িয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালতের নির্দেশ পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে মঠবাড়িয়া থানার এসআই শাহনাজ পারভীনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযুক্ত শহীদুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় শহীদুল ও তার বাবা নয়া মিয়া পালিয়ে যান।

নির্যাতিত গৃহবধূর দিনমজুর বাবা আব্দুর রশীদ বলেন, “বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য ৭৬ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছি। পরে জামাই শহীদুল গরুর ব্যবসার কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। দিতে না পারায় মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে। আমার দুগ্ধপোষ্য নাতনীকে আটকে রেখে আমার মেয়েকে মারধর করে  বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম বিষযটি নিশ্চিত করে বলেন, “উদ্ধার শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর আদালতের বিচারক জি এম সরফরাজ শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন। পরে শিশুটিকে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়। ” এ ঘটনায় অভিযুক্ত শহীদুল ও তার বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন