কাউখালী প্রতিনিধি >>

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কুমিয়ান গ্রামের দিনমজুর আবুল হোসেন মাঝির মেয়ে সপ্তম শ্রেণি পড়–য়া সাবিনা আক্তারের (১৩) সাথে একই উপজেলার চিরাপাড়া গুচ্ছ গ্রামের দিনমজুর জয়নালের হোসেনের ছেলে রিকশাচালক সাগর হোসেনের (১৭) বাল্য বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিল বর ও কনের দুই পরিবার। আাজ বৃহস্পতিবার বিয়ের সকল বাজারঘাট করা শেষে কনের বাড়িতে গানবাজনার ধুমধাম চলছিল। আগামীকাল শুক্রবার কনের বাড়িতে এ বাল্য বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত দিন। কিন্তু বিয়ের আগেই তাহমিনা আক্তার নামে দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সামাজিক উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্য বিয়ে পন্ড করে দেয। গানবাজনা বন্ধ সেই সাথে বিয়ের বাজারঘাট ফেরত চলে যায় দোকানে। আর বর পক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয় সমাজ ও প্রশাসনের নির্দেশে সাবিনা আর সাগরের বিয়ে হচ্ছেনা।

কাউখালীর কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনির শিক্ষার্থী সাহসী তাহমিনা আক্তারের এমন সামাজিক উদ্যোগেই আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় সপ্তম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী সাবিনা। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুদ্দোহা চান, সামাজিক উদ্যোক্তা আবদুল লতিফ খসরুকে নিয়ে ঘটনা স্থলে পৌছে মেয়ের অভিভাবকদের বুঝিয়ে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা করা হয় সাবিনাকে। এসময় বিবাহ আয়োজনের সকল প্রস্তুতির বাজারঘাট ফেরত পাঠানো হয়।

বাল্য বিয়ের হাত থেকে রেহাই পেয়ে স্কুল ছাত্রী সাবিনা আক্তার বলে, তাহমিনা আপুর জন্য আমি বাল্য বিয়ের হাত থেকে রেহাই পেলাম। আমি আরও লেখা পড়া করতে চাই।

এ বিষয়ে আমরাজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুদ্দোহা চান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাল্য বিয়ে আয়োজনের বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। সাহসী স্কুল ছাত্রী তাহমিনা আমার কাছে এসে বিষয়টি জানালে কে সাথে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিয়ে পন্ড করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য স্কুল ছাত্রী তাহমিনা বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সমাজকে জাগ্রত করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাইকেলে ঘুরে ও স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে তার সাহসী কার্যক্রম এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন