ডিপ মিডউইকেটের ওপর লম্বা একটা ছক্কা। ইনিংসের এবং তাঁর শেষ বলটা যেন পুরো ছবির বিপরীত। মুস্তাফিজুর রহমানের ​দুর্বোধ্য ধাঁধার উত্তরই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না নিউজিল্যান্ড। মাত্র ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁ হাতি পেসার। ৮ উইকেটে ১৪৫ রান করেছে নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় স্কোরটা তেমন বড় নয়। কিন্তু ইডেনের এই উইকেটে এই রান তাড়া করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সেই চ্যালেঞ্জ উতরে যেতে পারবে কি?

এমনিতে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের। হারানোর কিছু নেই। তবে পাওয়ার আছে অনেক কিছু। একটা বড় প্রাপ্তি তো অবশ্যই মুস্তাফিজের এই ৫ উইকেট। এবারের বিশ্বকাপে এটাই সেরা বোলিং। বিশ্বকাপে সেরা ব্যাটিংটাও কিন্তু বাংলাদেশের, তামিম ইকবালের ১০৩।
দুই​ কিউই ওপেনারকেই ফিরিয়েছেন। আউট হওয়া শেষ চার ব্যাটসম্যানের তিনজনও তাঁর শিকার। এর মধ্যে শেষের দুজনকে ফিরিয়েছেন শেষ ওভারে টানা দুই বলে। ছিলেন হ্যাটট্রিকের সামনে। এ নিয়ে কতবার যে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়ালেন। পাঁচবার জোড়া উইকেট শিকার করেও হ্যাটট্রিকটা হচ্ছে না। আজও হলো না। শেষ বলে উল্টো ছক্কা হজম করলেন।
তবে ওই ছক্কা ছাড়া বাকিটা সময় ছিল তাঁরই দাপট। তাঁর ৪ ওভারে যে এর আগে এক​টাই বাউন্ডারি নিতে পেরেছিল টুর্নামেন্টের সেরা দল নিউজিল্যান্ড। নিজের ২৪ বলের মধ্যে ওই দুটিতেই ১০ রান দিয়েছেন। বাকি ২২ বলে ১২ রান। ডট দিয়েছেন ১১টি। পাঁচ উইকেটের চারটিই বোল্ড করে!
দুই থেকে চার—নিউজিল্যান্ডের এই তিন ব্যাটসম্যানের ইনিংসেই ভর করে তাদের পুঁজি। উইলিয়ামসন ৪২, মানরো ৩৫, টেলর ২৮। এর মধ্যে মানরো ৮ রানেই ফিরতে পারতেন। সাকিবের বলে পরিষ্কার এলবিডব্লু হয়েও বেঁচে গেছেন অবিশ্বাস্যভাবে আম্পায়ার না-বোধক মাথা নাড়ানোয়। টেলরও ৯ রানে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন মাশরাফির বলে আল আমিন সহজ ক্যাচটি ফেলায়।
তবে শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজের আলো ছড়ানো। হাসিমুখে মাঠ ছাড়া। দেখা যাক, এই হাসি শেষ পর্যন্তও থাকে কি না।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন