শাকিল আহমেদ >>

আবদুস সালাম আজাদী। পেশায় একজন সাংবাদিক। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত। তবে তিনি একজন মায়াবি মানুষ। গুণি এ মানুষের মানবিক গুণাবলী দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই। আর এ কারণে নিবেদিত পেশাদার সাংবাদিক ও ব্যাক্তি মানুষের সমাজে গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে ।

পরিচিত হোক অথবা অপরিচিত হোক কারো কোন দুঃসংবাদ শুনলে তিনি ব্যাথিত হন। অন্যেও নানা সংকটে চোখের নোনা জল আসে। মাঝে মাঝে সজোরেও কাঁদেন। তবে একটু মেজাজিও রয়েছে তার । হুট করে রেগে যান। তাও ভালো। কিছু সময়ের মধ্যে আবার পুরোপুরি ঠান্ডা। তার সবচেয়ে বড় গুণাবলী হচ্ছে কোন কারনে কারও ওপর রাগ কললে অল্প সময়েই তা আবার ভুলে যান।
যা আমরা অনেকেই সহজে পারি না। কারো সাথে রাগ করলে আমাদের রাগের সেই অভিমান ভাঙ্গতে সময় লাগে। কিন্তু আবদুস সালাম আজাদীর ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মঠবাড়িয়ায় একসময় জনপ্রিয় সাংবাদিক ছিলেন ইব্রাহিম খলিল মন্টু। সৌদি আরবে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ইব্রাহিম খলিল মন্টুর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমরা সবাই ব্যতিথ। কিন্তু হাউ-মাউ করে কেঁদে দিলেন আবদুস সালাম আজাদী। তার চোখ বেয়ে পানি জড়তে শুরু করলো। ইব্রাহিম খলিল মন্টু ভাই অনেকের কাছের মানুষ হলেও সালাম আজাদীর মতো কাউকে কাঁদতে দেখিনি। দুই বছর আগে মারা যান বেতমোর আশ্রাফুল উলুম (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হালিম। তাঁর বাড়ি ছিল পার্শ্ববর্তী পাথরঘাটা উপজেলায়। মাওলানা সাহেব মারা যাওয়ার বছর তিনেক আগে ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। একজন ভালো বক্তা ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে মঠবাড়িয়ার আলেম সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। হয়তো সেই সুবাদে আবদুস সালাম আজাদীর সাথেও তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাওলানা সাহেবের মৃত্যুর পর মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। একজন মাওলানা সাহেবের জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য আমিও হাজির। জানাজায় যেয়ে দেখি অনেক লোকের সমাগম। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিও কম নয়। মাওলানা আবদুল হালিম সাহেব কেমন লোক ছিলেন এ নিয়ে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখছেন। এক পর্যায়ে চোখ গেল আবদুস সালাম আজাদীর দিকে। নারিকেল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন। হাটতে হাটতে কাছে গেলাম। যেয়ে দেখি তাঁর দু’চোখ বেয়ে পানি ঝড়ছে। চোখ মুুচছেন আর কাঁদছেন। সালাম আজাদীর চোখের পানি দেখে আমি তাঁর কাছে নতজানু হই। এবার পাথরঘাটা থেকে আগত মাওলানা সাহেবের আত্মীয়-স্বজনসহ গোটা মাঠ ঘুরলাম। সালাম আজাদীর মতো কেউ কাঁদছে কিনা? মাঠ ঘুরে দেখলাম সবারই মন খারাপ। কিন্তু আজাদীর মতো কেউ কাঁদছেন না। আমি ঘুওে ফিরে আবার আজাদী ভাইয়ের পাশে এসে দাঁড়ালাম। দেখলাম ডান হাতে মোবাইল ফোন আর বাম হাত দিয়ে চোখের পানি মুচছে। তখন মনে হলো আসলেই আজাদী একজন মায়াবি মানুষ। সেই শুভজন যে রক্তের কেউ না হলেও অপরের শোকে যিনি কা*দ পারেন।
গুণি ও নিবেদিত এ মানবিক মানুষের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি ।

লেখকঃ দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার মঠবাড়িয়া উপজেলা সংবাদদাতা ও সাপ্তাহিক মঠবাড়িয়ার খবরের বার্তা সম্পাদক।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন