মেহেদী হাসান >>
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সাইক্লিস্টস্ গ্রুপের আয়োজনে  সাপলেজা কুঠিবাড়ি সাইকেল রাইড অনুষ্ঠিত হয়েছেে।
আজ শুক্রবার সাইক্লিষ্ট গ্রুপের প্রধান সঞ্চালক ও আয়োজক প্রিন্স মাহমুদের নেতৃত্বে একদল তরুণ সাইক্লিস্ট এ শিক্ষা মূলক রাইডে অংশ নেন। 
  মঠবাড়িয়া শের-ই-বাংলা পাঠাগার চত্বর থেকে সাইক্লিস্ট দল যাত্রা শুরু করে সবুজ বেষ্টিত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর দলটি সাপলেজা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কুঠিবাড়িতে পৌঁছে।
ঐতিহাসিক এ স্থান পরিদর্শন করে এখানকার সম্পর্কে সাইক্লিস্ট দল নানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে।  আনুমানিক আঠারো শতকের গোড়ায় জনৈক ইংরেজ জমিদার এডওয়ার্ড প্যারি ক্যাসপার এ কুঠিবাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। সোয়া নয় একর জমির উপর নির্মিত হয় ক্যাসপারের কুঠিবাড়ি । কথিত আছে, মি. ক্যাসপার ঘটনাক্রমে সাপলেজা ভ্রমণকালে স্থানীয় ধনাঢ্য ফরাজউল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করতে উক্ত জমি উপহার দেন। পরবর্তীকালে এখানে ক্যাসপারের জমিদারী সমপ্রসারিত হয়। প্যারি ক্যাসপারের উপস্থিতিতে প্রতিবছর পৌষ মাসের শেষভাগে কুঠিবাড়িতে পুণ্যাহ উৎসব উপলক্ষে খাজনা আদায়সহ প্রজাদের মনোরঞ্জনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এর মধ্যে যাদু প্রদর্শনী, লোকগান, যাত্রা ও নিমাই সন্ন্যাস পালায় প্রচুর লোক সমাগম হতো। কুঠিবাড়ির মূলভবন নির্মাণে প্রচালিত ধারার বৃটিশ স্থাপত্যরীতিতে চৌকোণাকৃতির ১৮টি খিলানের উপর দোতলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য স্থাপনা ও বড় একটি পুকুর ছিলো। কুঠিবাড়ির উপরের তলায় প্যারি ক্যাসপারের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মূল্যবান সামগ্রী ও তৈজসপত্র ছিল। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর বৃটিশরা চলে গেলে ভবন ও সম্পত্তি তখনকার সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অজ্ঞাত কারণে ভেঙ্গে দেয়া হয় মূল ভবনটির দোতলার সম্পূর্ণ অংশ। তখন এ অংশে রক্ষিত মূল্যবান মালামাল বেহাত হয়ে যায়। লিখিত আকারে এই ভবনের বিস্তারিত ইতিহাস না পাওয়ায় এডওয়ার্ড প্যারি ক্যাসপার ও তাঁর জমিদারী বিষয়, ব্যক্তিগত জীবন, ভবনের নির্মাণশৈলী ইত্যাদি সম্পর্কে তেমন জানা যায়নি। ধারণা করা হয় বৃটিশ আর্কাইভ বা কোন প্রকাশনায় কুঠিবাড়ির তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ক্যাসপারের ব্যবহূত যে দু’টি তরবারিসহ কিছু তৈজসপত্র ছিল তাও এখন নিখোঁজ। বর্তমানে টিনের ছাউনির কুঠিবাড়িটি দু’শ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে অযত্ন-অবহেলায় দাঁড়িয়ে আছে। শানবাঁধানো ঘাটসহ পুকুর জৌলুশহীন। কুঠিবাড়ির তৎকালীন ম্যানেজার সুরেন্দ নাথ সুর ও নায়েব সতীশ চন্দ্রর  কোনো বংশধরের খোঁজ পাওয়া যায় না। প্রথমে ক্যাসপার সাহেবের মূল বাড়ি সংস্কার করে ও পরিবর্তন করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস (তহসীল অফিস) হিসাবে ব্যবহার করা হয়। একই জমিতে অন্য স্থানে নতুন ভূমি অফিস ভবন নির্মিত হওয়ায় ক্যাসপারের বাড়িটি বর্তমানে পরিত্যক্ত তবে স্থানীয় ডাকঘরটি ক্যাসপারের পিতা শিলার সাহেবের নামে এখনও শিলারগঞ্জ নামে পরিচিত। স্থানীয় চিকিৎসক নুরুল আমি রাসেল জানান, ঐতিহাসিক এই কুঠিবাড়িটি সরকারের অবহেলায় অরক্ষিত পড়ে আছে। স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধন করা হলে দর্শনার্থীরা আরও আনন্দ পাবেন।
সাইক্লিষ্ট সঞ্চালক মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমরা রাইড করে অনেক ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করছি এবং অনেক কিছু শিখতে পারছি এটা অত্যন্ত আনন্দদায়ক। প্রধান সঞ্চালক প্রিন্স মাহমুদ বলেন, উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সাইক্লিষ্টদের মাধ্যমে সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার জন্য বরাবরই আমরা এরকম রাইডের আয়োজন করে আসছি। আপনারা জানেন যে গত রাইডে আমরা সাইক্লিষ্টদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সূর্যমনীতে “সূর্যমনী বদ্ধভূমি রাইড” আয়োজন করেছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের এই আয়োজন। মঠবাড়িয়া সাইক্লিষ্ট গ্রুপ সর্বদা এ পরিবেশ বান্ধব যানটিকে জনপ্রিয় করতে সচেষ্ট।
সাইক্লিষ্টদের সফরসঙ্গী কবি মেহেদী হাসান(সাদা কাঁক) বলেন, সাইকেল রাইড করে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানানোর এ প্রয়াস অবশ্যই প্রশংসনীয়। এতে করে ইতিহাসকে চাক্ষুস দেখে তরুণেরা শিখছে এবং তাদের শিক্ষাটা ছড়িয়ে দিতে পারছে। আমি এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে গর্বিত ও আনন্দিত। মঠবাড়িয়া সাইক্লিস্টস্ গ্রুপের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
এবারের রাইডের সার্বিক সহায়তা করেন,ক্যরিয়ার কেভ এর কো-ফাউন্ডার এবং মোটিভেশনাল স্পিকার সিফাত আহমেদ। পরিবেশ আন্দোলন কর্মী রাসেল সবুজ, আরাফাত খান, সাব্বির মো. খালিদ, আমিন রোমান সহ বিশিষ্টজনেরা মুঠোফোনে আয়োজকদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন