প্যারালাইসিস হলে শরীরের এক অংশের মাংশপেশীর কার্যক্ষমতা কমে যায় । যার ফলে শরীরের সেই অংশটি সঠিকভাবে নড়াচড়া করতে পারে না । অনেক সময় সেই অংশটির অনুভূতিও কমে যায়… কারন হচ্ছে মস্তিস্ক এবং মাংসপেশীর মধ্যকার সংযোগ সঠিকভাবে না পৌছানো।

প্যারালাইসিস কি করে হয়ঃ
মস্তিস্কের রক্তনালীর অক্সিজেন চলাচল বন্ধ হলে, রক্তক্ষরন হলে স্ট্রোক হয় যার ফলে কথা বলতে,বুঝতে,গিলতে এবং নড়াচড়া করতে অসুবিধা হয় । এছারা নার্ভাসসিস্টেম যেমন — মেরুদন্ডের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে,কিছু রোগ যেমন –জিবিএস,পোলিও,স্পাইনা বাইফিডা সহ কিছু রোগের কারনেও প্যারালাইসিস হতে পারে।

প্যারালাইসিস কত প্রকারঃ
প্যারালাইসিস শরীরের এক অংশ হতে পারে আবার চার হাত পা হতে পারে এটা নির্ভর করে মস্তিস্ক এবং মেরুদন্ডের ক্ষতিগ্রস্ততার ধরনের উপর …

প্যারালাইসিস কি পুরোপুরি সুস্থ হয়ঃ
প্যারালাইসিস পুরোপুরি সুস্থতা নির্ভরকরে এর ক্ষতিগ্রস্ততার পরিমানের উপর । তবে বেশীরভাগই পুরোপুরি সুস্থ সম্ভব নয় । চিকিৎসার উদ্দেশ্য হচ্ছে রোগীকে স্বাধীন ভাবে কারো সাহায্য ছাড়া চলাচল করানো এবং কিছু জটিলতা থেকে মূক্ত করা । অনেক ক্ষেত্রে কারন এবং শরীরের প্যারালাইসিস অংশটিকে সচল করার চিকিৎসা করা হয় । চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছেন নিউরোলজিস্ট,নিউরোসার্জারী এবং ফিজিওথেরাপিষ্ট।

ফিজিওথেরাপী যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিৎ । এতে করে আক্রান্ত অংশটির রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং মাংসপেশী সচল হয় যাতে করে পেশীর অসারতা বাধাগ্রস্ত হয় ও পেশীর টোন বৃদ্ধি পায়… যার ফলে আক্রান্ত অংশটির শক্তি বেড়ে যায় এবং রোগীর হাত এবং পায়ের বিকৃতি হতে পারে না । ফিজিওথেরাপী স্নায়ু এবং পেশী সচল করে থাকে । এছারও ব্রেস,ক্যান এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে থাকে ।

সতর্কতাঃ অবশ্যই ডিগ্রীপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপিষ্ট এর অধীনে চিকিৎসা নিতে হবে অন্যথায় জটিলতা দেখা দিতে পার ।

প্যারালাইসিস রোগীর খাদ্যঃ
প্যরালাইসিস রোগীর খাদ্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে । খাদ্যের মধ্যে আছে ভিটামিন বি এবং নিয়াসিন যা নার্ভাস সিস্টেমকে সচল করে ।এছারা রয়েছে কলা,বিনস্,রাজমা, মসুর ডাল, ইস্ট,কুমরোর বিচি,ওয়ালনাট,আলু।

সিকদার অরুপ
কনসালটেন্ট ফিজিওথেরাপিষ্ট
০১৭৬৬৫৬৮৬৮৪
দি পেইন ফিজিওথেরাপী এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন ক্লিনিক ধানমন্ডি,ঢাকা ।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন