দেবদাস মজুমদার >

অর্থকরী পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় এই আমড়া। ফলে বেড়ে গেছে আমড়ার চাষ ও উৎপাদন। বিশেষ করে দেশের যেসব অঞ্চলে এই ফলটি ভালো জন্মায়, সেসব স্থান এর চাষ বেশি হচ্ছে। পিরোজপুরের কাউখালীতে বাণিজ্যিকভাবেই আমড়ার আবাদ হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। আমড়ার এখন ভরা মৌসুম। চলতি মৌসুমে এবার কাউখালীতে আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে যা গত ১০ বছরের তুলায় অনেক বেশী বলে দাবী করেছেন চাষীরা।
প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের আর একটি অর্থকারী মৌসুমী ফলের নাম আমড়া যার ইংরেজী নাম গোল্ডেন আ্যপেল। প্রতিবছর কাউখালীর মোকাম থেকে শত শত টন আমড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়ে থাকে। ফলে কাউখালীতে সৃষ্টি হয়েছে আমড়ার বাণিজ্যিক বাজর।

কাউখালীর এমন কোন বাড়ী পাওয়া যাবেনা যে বাড়িতে কম করে দুই /চারটি আমড়া গাছ নেই। ছোট-বড় সড়কের পাশে গ্রামের বসতবাড়ির আশপাশে আমড়া গাছের দেখা মেলে। পতিত জমিতে কান্দি কেটে অনেকেই ফসলী জমিতে আমড়া আবাদ হচ্ছে । এলাকার কোন কোন চাষীর বাগান থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় হয়। শ্রাবণ ও ভাদ্র্র মাসে পরিপক্ক আমড়া মেলে। কাউখালেিত আমড়া কেনা বেচার বাজার সৃষ্টি হয়েছে কয়েক যুগ ধরে। আমড়ার বেপারীরা ফালগুন চৈত্র মাসে কুড়ি দেখেই আগাম টাকা দিয়ে বাগান কিনে ফেলে। আবার অনেক চাষী নিজেরাই ভরা মৌসুমে বিক্রি করেন। আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত গাছ থেকে আমড়া পেড়ে বাজারে নিয়ে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হয়। এজন্য বিভিন্ন বাজারে রয়েছে অসংখ্য আমড়ার আড়ৎ। কাউখালীর আমড়া আড়ৎদারদের মাধ্যমে দেশের নানা স্থানে চালান হয়। বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে কাউখালীতে আমড়া আবাদ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
কাউখালী উপজেলার প্রধান বন্দর লঞ্চঘাট,দক্ষিণ বাজার, চৌরাস্তা পাঙ্গাশিয়াসহ বিভিন্ন বড় বাজারে রয়েছে অসংখ্য আমড়ার আড়ৎ। ওইসব আড়তে বেপারীদের কাছ থেকে আমড়া কিনে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, মেঘনাঘাট, এলাকায় আমড়া চালান করা হয়। সেখানের আড়তদাররা বিভিন্ন মোকামের খুচড়া বিক্রেতা ও পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করে খুচরা বিক্রেতা ও হকারদের হাত হয়ে আমড়া সাধারন ক্রেতার কাছে পৌছায়।
কাউখালী শিয়ালকাঠি গ্রামের আমড়া চাষি মো. মহিদুল ইসলাম জানান, বেপারীরা চাষিদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া ৮ শত/ শত টাকায় কিনে কাউখালী মোকামে বিক্রি করে থাকেন ১হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা করে।
কাউখালী শহরের উত্তর বন্দরের আড়ৎদার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রতিবছর শত শত টন আমড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে কাউখালী থেকে চালান হয়। একটি আড়ৎ থেকে ঢাকা ,চাঁদপুর বা মুন্সিগঞ্জ এক বস্তা আমড়া পৌছাতে খরচ হয় ২১০ থেকে ২১৫ টাকা। এরপর আড়তে বিক্রয় মূল্যের শতকরা ১০ ভাগ আড়তদারী দিতে হয়। প্রতিটি বস্তায় বর্তমানে ১৫০০ আমড়া বোঝাই করা হয়। বর্তমানে কাউখালীতে এক বস্তা আমড়ার দাম ১৫ শত থেকে ১৬ শত টাকা। ঢাকায় বিক্রি হয় ১৮ শত থেকে ২ হাজার টাকায়।

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার বলেন, আমড়া একটি গুরুত্বপূর্ন অর্থকারী ফসল। এ বছর কাউখালীতে কয়েক বছরের তুলনায় আমড়ার ফলন ভাল হয়েছে। এর বাগান করা বা চাষ করা খুই সহজ। রোদেলা স্থানে উচু আইল করে সারিবদ্ধ ভাবে চারা রোপন করতে হয়। চারা রোপনের ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ফসল ওঠে। আমড়া লাভ জনক ফসল বিধায় এ দিকে চাষীদের নজর বেশী। রোগবালাই কম তবে চারা রোপনের সময় গর্তের মধ্যে কিছু দানাদার কীটনাশক প্রয়োগ করলে গাছ মরা রোগ হয়না। এ অঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়া আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তিনি জানান, আমড়ার চারা লাগানোর জন্য উৎসাহিত করা এবং ফলন বৃদ্ধি ও রোগ-বালাই দমনের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাষীদের পরামর্শ দিয়ে থাকে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন