মির্জা খালেদ,পাথরঘাটা > একটি মৌসুমি ফল, নাম ‘গাব’, দেশের কোথাও ‘বিলাতি গাব’ নামে পরিচিত। ফলের উপরি অংশ খয়েরি ভেলভেট রঙ এ দৃষ্টি নন্দন,দেখতে আপেলের মত গোল আকৃতির। পাতলা বাকল ফেলে দিলে ভেতরে হালকা ক্রীম রঙে এর মাংশ, খেতে বেশ মিষ্টি। হালকা লোমশ ও পাতলা বাকল আবৃত এবং গায়ে লাগলে চুলকায় । এর ভিতরে আছে বড়বড় খয়েরি রঙ এর একাধিক বিচি। ফল জৈষ্ঠ মাসে পাকে। ফলগাছটি পল্লী এলাকায় অযতœ ও অবহেলায় বেড়ে ওঠে। নেই কোন পরিকল্পিত চাষ।

এই অপ্রচলিত আদর বা কদর বিহীন বিলাতি গাবের গবেষণা হচ্ছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ে। ইতোমধ্যে এর দুইটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে । স্বীকৃতি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়। হচ্ছে আরো জাত উন্নয়ন তৎপরতা।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড.মাহবুব রব্বানী জানালেন ওই সুসংবাদটি। তার নেতৃত্বে এক দল গবেষক কাজ করছেন । তিনি মূলতঃ আপেল ও নাাশপতি বিষয়ে গবেষনা করেছেন এবিষয়ে জাপান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন।
ড. মাহবুব রব্বানী জানালেন, পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ে যোগদিয়ে তিনি অপ্রচলিত এবং অযতেœ জন্মানো বিলাতি গাবের উপর গবেষনা শুরু করেন। তার গবেষনায় ইতোমধ্য দুইটি উন্নত জাতের উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। ওই ২টি জাতের স্বীকৃতি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়। গত ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদনের পত্র তিনি পেয়ে পূর্ণ উদ্যোমে আরো উন্নয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জাত ২টির নাম দেয়া হয়েছে পিএসটিইউ বিলাতী গাব-১ ও পিএসটিইউ বিলাতী গাব-২। নামের শুরুতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সংক্ষিপ্ত রুপ (PSTU) নেয়া হয়েছে। তিনি জানালেন, নতুন উদ্ভাবিত বিলাতী গাবের একটি ফল বেশ বড় অন্যটি আকারে ছোট ,বাজ্যিক আকৃতি দেখতে আপেলের মত, খেতে মিষ্টি। উদ্ভাবিত নতুন গাবে কোন বিচি নাই (Seed less)| । এখন থেকে শুধু বীজ থেকে নয় কলম থেকে বংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব। জোর কলম পদ্দতিতে বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। নতুন গাছ হবে ছোট আকারের দাড়িয়ে ফল আহরণ সম্ভব। খাদ্যমান নিয়ে মানুষের ধারনা না থাকায় এ ফল মেহমানদারিতে খুব কম ব্যবহার হয় কিন্তু বিলাতি গাব আয়রণ,ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন-বি এর উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নতুন জাতে খাদ্য বা পুষ্টি মানের কোন তারতম্য হবে না। ইফতারে বিদেশী ফলের পরিবর্তে একটি বিলাতী গাব পরিবেশন দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা দেয়া হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ড. মাহবুব রব্বানী আশা করছেন, আগামী বছর থেকে কৃষকদের মধ্যে এ নতুন জাতের চারা বিতরণ করা হবে। এর আগে সেমিনার কর্মশালা করে কষক ও সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হবে। এজন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহায়তা নেয়া হবে।
পাথরঘাটা কৃষি বিভাগের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল হাকিম বলেন, বিলাতি গাব একটি অপ্রচলিত দেশী ফল কিন্তু এর আদর বা কদর নাই কিন্তু পল্লী অঞ্চলের দরিদ্রদের একটি অর্থকরি ফসল। উপকূলেে স্যাঁতস্যাতে মাাটিতে জম্মে থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খাদ্য শষ্য উইং এর সাবেক পরিচালক কৃষিবিদ জিএমএস আলম অপ্রচলিত এ ফসলের অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় বহুমাত্রিক ব্যবহার নিয়ে কাজ করা দরকার বলে মত প্রকাশ করেন। বিলুপ্ত প্রায় বিলাতী গাবের গবেষণায় দেশীয় গবেষকদের কৃতিত্বকে প্রশংসা করতে হবে। এগিয়ে নিতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে ভূমিকা নেয়ার আহবান জানান তিনি।

বিলাতী গাব দেশের দক্ষিনাঞ্চলে প্রচুর উৎপাদন হয়। গাছের পাতা গাড় সবুজ কিন্তু কচিঁ পাতা পিংক রঙের হয়। দেখতে আপেলের মত বলে গাবকে ‘ভেলভেট আপেল’(Velvet Apple) বলা হয় , এর ইরেজী বা স্পেনিশ ভাষায় Mabolo bv নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম bvg Diospyros Blancoi ।

এর আদি নিবাস ফিলিপাইন ও চীনে তবে বাংলাদেশ সহ ভারতে এ ফল প্রচুর জন্মে। সাধারনতঃ বীজ থেকে গাছ হয়, বাড়ির পাশে বা বাগানে অযত্নে বা কম যত্নে বেড়ে ওঠে। মার্চ- এপ্রিলে ফুল ধরে এবং জুলাই-আগস্টে ফল পাকে। পাকা ফল পল্লী এলাকা থেকে শহরে চালান দেয়া হয়। গাব গাছ দেবদারু গাছের মত সোজা উর্দ্ধমূখী, কান্ড শক্ত। উচ্চতা প্রায় ২০/২৫ ফুট । খুব শক্ত বলে গ্রামে গাব গাছ দিয়ে খুটি তৈরী করা হয়।

প্রতিবেদক > মির্জা খালেদ,দৈনিক কালের কণ্ঠের পাথরঘাটা(বরগুনা)প্রতিনিধি ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন