দেবদাস মজুমদার ↪️

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপকূলে এবার বর্ষা মৌসুমে নতুন সবজি হিসেবে লালিমের আবাদ করে লাভবান হয়েছেন। চাল কুমড়া সদৃশ লালিম এ উপকূলে নতুন জাতের সবজি। পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়ে লালিমের আবাদে আপদকালীন সবজি হিসেবে এলাকার কৃষকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা লালিম আবাদের দিকে কৃষকরা ঝুঁকছেন। কেননা যে মাঠে কৃষক শীতের নানা রকম সবজি আবাদ করবেন সেই মাঠে বর্ষা মৌসুমে আগাম সবজি হিসেবে লালিম আবাদ করা সহজ। এতে কৃষকের খরচ যেমন একদিকে যেমন কম তেমনি আপদকালীন আগাম সবজি হিসেবে লাভজনক।

মঠবাড়িয়ার উত্তর সোনালী গ্রামের কৃষক মো. জয়নাল আবেদীন কুমড়া জাতীয় সবজি মুসকান লালিম চাষে সফলতা অর্জণ করেছেন। সবজি লালিম মঠবাড়িয়ার কৃষকের কাছে একটি নতুন ফসল। কৃষক জয়নাল মঠবাড়িয়ার একজন মডেল কৃষক । তিনি প্রতিবছর নতুন নতুন নানা জাতের সবজি আবাদ করে এলাকার এখন সফল কৃষক।

এবার তিনি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় ১০ কাঠা জমিতে মুসকান লালিম নামে একটি নতুন সবজি আবাদ করেছে লাখ টাকা আয় করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, কৃষক জয়নাল আবেদীন তাঁর বসতবাড়ির সামনে ১০ কাঠা জমিতে কান্দি বেড় পদ্ধতিতে মাচা গড়ে সেখানে নতুন সবজি লালিমের আবাদ করেছেন। চাল কুমড়া সদৃশ এসব লালিম ফসলে মাচা নূয়ে পড়ার উপক্রম। ফুল আর লালিম সবজি ভরে আছে মাচা।
কৃষক জয়নাল জানান, তিনি প্রতিবছর দেশী প্রজাতির নানা সবজি আবাদ করে আসছেন। তবে কখনও কুমড়া জাতীয় সবজি লালিমের আবাদ করেননি। এটি দেশে নতুন এক সবজি। এবছর তিনি বীজ সংগ্রহ করে নিজেই চারা তৈরী করেছেন। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতে তিনি বাড়ির সম্মূখ ১০ কাঠা জমিতে বেড় পদ্ধতিতে মাচা তৈরী করে লালিমের আবাদ করেছেন। জৈব সার আর নিজস্ব পরিচর্যায় তিনি ভাল ফলন পেয়েছেন। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খরচে তিনি লালিম আবাদ করেছেন। এপর্যন্ত তিনি ১০০ মন লালিম ফলন পেয়েছেন। ক্ষেতে আরও ৫০মন লালিমের ফলন অবশিষ্ট রয়েছে। এ যাবত তিনি ৭০ হাজার টাকার লালিম বিক্রয় বরেছেন। আরও ৫০ মন লালিম সবজিতে তিনি আরও ৫০ হাজার টাকা রোজগারের আশা করছেন।

তিনি আরও জানান, লালিম কুমড়া জাতীয় একটি সবজি। ভাজি কিংবা তরকারী হিসেবে উপাদেয়। এছাড়া পাকা লালিম এমনিতেই খাওয়া যায়। বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে লালিম বিক্রয় হয়। এলাকায় নতুন সবজি হিসেবে লালিমের চাহিদা ব্যাপক। যে কেউ এটি অতি সহজেই বাড়ির আঙিনায় আবাদ করতে পারে।

এ বিষয়ে আমড়াগাছিয়া কৃষি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লালিম এলাকার নতুন সবজি। কৃষক জয়নাল স্ব উদ্যোগে এর আবাদ করে সফল হয়েছেন। তিনি এলাকার সফল কৃষক। তার দেখা দেখি অনেকেই লালিম আবাদে ঝুঁকছে। কারন অল্প খরচে লালিম একটি লাভজনক সবজি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, লালিম আমাদের উপকূলে তো বটেই দেশেই নতুন প্রজাতির এক সবজি। এটি মূলত বর্ষাকালের সবজি । চালকুমড়া জাতীয় লালিমের বাজারে চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে উপকূলে এ সবজির এখনও বাণিজ্যিক আবাদ গড়ে ওঠেনি। নতুন ফসল হিসেবে কৃষক জয়নাল এর আবাদ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিউকার বিটেসি গোত্রের সবজি লালিম আবাদ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ পরিকল্পনা গ্রহণের চেষ্টা করছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন