তারিকুল ইসলাম পান্নু কাউখালী (পিরোজপুর) >>

জলবায়ূর পরিবর্নের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে উপকূলীয় পরিবেশ। জলবায়ূর প্রভাব উপকূলীয় এলাকায় কৃষিতে প্রভাব পড়ছে। কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। ফলে সময় উপযোগি কৃষি হুমকীর মুখে। কৃষি বাঁচাতে তাই কৃষককে নানা কৌশল অবলম্বন করে টিকে থাকতে হচ্ছে।
পিরোজপুরের কাউখালীতে পরীক্ষামূলক আমনধানের ভাসমান বীজতলা তৈরীতে সাফল্যতা লাভ করেছে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের আমন চাষীরা। বন্যার পানিতে ডুবে যাবার কারণে বীজতলা করার মত উঁচু জমি পাওয়া না গেলে অথবা পানি নেমে যাবার পর চারা তৈরির যথেষ্ট সময় পাওয়া না গেলে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বন্যার পানি, পুকুর, ডোবা বা খালের পানির উপর বাঁশের চাটাইয়ের মাচা বা কলা গাছের ভেলা তৈরি করে তার উপর ২-৩ সে.মি পুরুকাদার আস্তর দিয়ে কাদাময় বীজতলার মতই বীজতলা করা যেতে পারে। বীজতলার আকার কলা গাছের আকৃতির উপর নির্ভর করে, তবে চার থেকে পাঁচটি কলা গাছ একত্র করে ভেলা তৈরি করে করাটা সুবিধাজনক। তৈরিকৃত ভেলায় প্রতি বর্গমিটারে ৮০-১০০ গ্রাম অংকুরিত বীজ ফেলতে হবে। পানির উপর ভাসমান থাকার কারণে এরূপ বীজতলায় পানি সেচের দরকার হয় না। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পরেই চারা রোপনের উপযোগী হয়ে যায়। এভাবে তৈরিকৃত ১ বর্গমিটার বীজতলার চারা দিয়ে ২০ বর্গমিটার পর্যন্ত রোপন করা যায় অর্থ্যাৎ ১ শতাংশ জমির চারা দ্বারা কমপক্ষে ২০ শতাংশ জমি রোপন করা যায়।

এ মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পাঁচটি ভাসমান বীজতলা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে শংকরপুর গ্রামের চাষী মো. সাবারেক খান বলেন ভাসমান বীজতলায় যে চারা হয়েছে তাতে তিনি ভীষণ খুশি এবং বন্যার কবল থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য ভবিষ্যতে এধরনের বীজতলা স্থাপন করবেন এবং অন্যদেরকেও অনুপ্রাণিত করবেন। তিনি অত্র ব্লকে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব গৌতম বরণ মজুমদার পরামর্শে তিনি এই প্রথম ভাসমান বীজতলা স্থাপন করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার জানান, তৈরীকৃত ভেলায় প্রতি বর্গমিটারে ৮০-১০০ গ্রাম অংকুরিত বীজ ফেলতে হয়। পানির উপর ভাসমান থাকার কারনে এরূপ বীজতলায় পানি সেচের দরকার হয় না। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পরই চারা রোপনের উপযোগী হয়ে যায়।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন