নূর হোসাইন মোল্লা >

(৬ষ্ঠ পর্ব)

জাতীয় রক্ষী বাহিনী গঠনঃ

স্বাধীনতা লাভের পর স্বাধীনতা বিরোধী ডান ও বাম দলগুলো সংগঠিত হয়ে সারা দেশে সশস্ত্র আক্রমন, নর-নারী হত্যা, হাটবাজার লুটপাট, বাড়ীঘর ও পাটের গুদামে অগ্নি সংযোগ, পুলিশ ফাঁড়ি, থানা ও ব্যাংক লুট এবং বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করেছিল, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যে মুক্তি বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর মধ্য থেকে বাছাই করে ৮ হাজার লোককে নিয়ে ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ জাতীয় রক্ষী বাহিনী গঠন করেন। এর সদর দপ্তর করা হয় শের-এ বাংলা নগর। এ বাহিনীর পোষাক ছিল ভারতয়ি সশস্ত্র বাহিনীর তখনকার পোষাকের মমত- জলপাই রঙের । রক্ষী বাহিনী গঠনের আদেশে এ বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয় যে, সরকারের আদেশে প্রয়োজনে এ বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী ও সেনা বাহিনীকে সব ধরণের সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়া , সরকার প্রয়োজন মনে করলে এ বাহিনীকে অন্য দায়িত্বও দিতে পারে। বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরোধিতা দিন দিন বাড়তে থাকলে তিনি সেনা বাহিনীর বিকল্প হিসেবে এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করেন। প্রশিক্ষণ, পোষাক এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে এ বাহিনীকে সুসজ্জিত করা হয়। এ বাহিনীর অফিসারগণ বঙ্গবন্ধুর একান্ত অনুগত। এ বাহিনীর অফিসারগণ(লীডার) ভারতের দেরাদুনে এবং সৈনিকদের ঢাকার সাভারে ভারতীয় সেনা অফিসারের তত্ত্বাবধানে ৬ মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরেকে আইন শৃংখলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত করা হত। এ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে জনগনের সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। কারন সেনা বাহিনী , বিডিআর( বর্তমানে বিজিবি) ও পুলিশকে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রক্ষী বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন ভারতীয় সেনা বাহিনীর তত্বাবধানে হয় ? রক্ষী বাহিনী আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার চাইতে আওয়ামীলীগের শত্রু এবং সমালোচকদের দমন করতে অধিক সময় ব্যয় করেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সম্পর্কে এ বাহিনী দ্রুত সমালোচনার সম্মুখিন হয়। তাঁরা বাম পন্থি গুপ্ত দলগুলোর সশস্ত্র আক্রমনের শিকার হয়। এক সময়ে এ বাহিনী জনমনে ভীতি সৃষ্টি করেছে। পরিনামে বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তায়তায় চীর ধরে । এ বাহিনী নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে তথা পুলিশ, বি.ডি.আর. (বর্তমানে বি.জি.বি) আর সেনা বাহিনীতে চরম বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেনা বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী জুনিয়র অফিসার কর্তৃক বঙ্গবন্ধু আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনেও এ বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করেননি। বরং রক্ষী বাহিনীর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূরুজ্জামান সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আবুল হাসান খান খন্দকার মোস্তাকের আনুগত্য স্বীকার করেন। মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরি বলেন, যারা রক্ষী বাহিনীর সদস্য নির্বাচন, প্রশিক্ষণ, পোষাক, পরিচালনা ইত্যাদি ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের জ্ঞান, মেধা, অভিজ্ঞতা ও দুরদর্শীতার যথেষ্ট অভাব ছিল।

সেনা বাহিনীর অসন্তোষঃ

জাতীয় রক্ষী বাহিনী গঠন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেনা বাহিনীর প্রতি নজর দেননি। সত্যিকার অর্থে কাগজ পত্রে সেনা বাহিনীর কোন নাম ছিল না। সেনা বাহিনীর জন্যে আইনগত কোন ভিত্তি ছিল না। টেবল অব অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ইষ্টাবলিশমেন্ট বলে কোন জিনিস ছিল না। তাদের বেতন দেওয়া হত এডহক ভিত্তিতে। কারণ বঙ্গবন্ধু বেতন দিতে বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর মুখের কথায় সেনা বাহিনীর অস্তিত্ব নির্ভর করত। সেনা বাহিনীর জেনারেল চীফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম.এ. মঞ্জুর বলেন, সেনা বাহিনী ছিল একটা স্বেচ্ছাসেবক দলের মত। অফিসার ও সৈনিকরা স্বেচ্ছাসেবকের মত কাজ করত, বিনিময়ে তাঁরা কিছুই পেত না। এদের প্রশাসন ছিল না, ছিলনা তাদের প্রয়োজনীয় রসদ, অস্ত্রশস্ত্র, গায়ের কোট ও পায়ের বুট। ছিলনা তাদের ইউনি ফরম। শীতের রাতে কম্বল গায়ে দিয়ে পাহারা দিতে হত। অনেক সিপাহী লুঙ্গি পরে কাজ করত। তদুপরি, তাদের ওপর ছিল হয়রানী। জেনারেল মঞ্জুরের ভাষ্যে, পুলিশ সেনা বাহিনীর লোকদের পিটাত। পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সরকারি আমলারা সেনা বাহিনীকে ঘৃণার চোখে দেখত। একবার সেনা বাহিনীর কয়েকজন সিপাহীকে মেরে ফেলে। আমরা শেখ মুজিবের কাছে গেলাম। মুজিব কথা দিলেন, তিনি ব্যাপারটি দেখবেন। পরে তিনি জানালেন যে, ওরা কলাবরেটর ছিল বলে মেরে ফেলেছে। জেনারেল মঞ্জুরের মতে, সেনা বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্যে শেখ মুজিব সকল পন্থাই ব্যবহার করেছেন। বলা আবশ্যক যে, সেনা বাহিনীর প্রতি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীবর্গ এবং সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোভাব ভাল ছিল না। অথচ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন এ সব নেতারা কলকাতায় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে দিন কাটিয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা বাহিনীর লোকেরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, হয় স্বাধীনতা, নয় মৃত্যু। সেনা বাহিনী ক্ষমতা চায়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি তাঁদের পূর্ণ আনুগত্য ছিল। স্বাধীনতা লাভের পর সেনা বাহিনীকে অবজ্ঞা করে সেনা বাহিনীর বিকল্প হিসেবে জাতীয় রক্ষী বাহিনী নামে একটা প্যারামিলিটারি বাহিনী গঠন করায় সেনা বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, রক্ষী বাহিনী পরিচালিত হত সেনা বাহিনীর অফিসার দ্বারা এবং এ বাহিনীর প্রথম পরিচালক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান (বীর উত্তম), উপ পরিচালক(প্রশাসন) ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে পাকিস্তান প্রত্যাগত লেঃ কর্ণেল আবুল হাসান খান এবং লেঃ কর্ণেল সাবিহ উদ্দিন। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন লে: কর্ণেল আনোয়ারুল আলম, লে: কর্ণেল সরোয়া হোসেন মোল্লা ও লেঃ কর্ণেল আজিজুল ইসলাম।

সেনা বাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা দ্বন্ধঃ

সেনা বাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা (পাকিস্তান প্রত্যাগত) নামে ২টি শিবিরে বিভক্ত ছিল। প্রায় ২৩হাজার অফিসার ও সৈনিক পাকিস্তানে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে দেশে ফিরে এলে সেনা বাহিনীতে রেষারেষি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পাকিস্তান প্রত্যাগত অফির্সারা মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব মেনে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু চাকরির জন্যে তাঁদেরকে মানতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের সমালোচনা এবং তাঁদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করতেন। এরুপ অবস্থা সেনা বাহিনীর ঐক্য ও শৃঙ্খলার জন্যে আদৌ সহায়ক ছিলনা। এ ছাড়া পাকিস্তান প্রত্যাগত অফিসার ও সৈনিকদের বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে আত্তীকরণের ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। পরিণামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং জাতীয় ৪ নেতা নারকীয় হত্যার শিকার হন। ১৯৭২ সালের জুন মাসে ঢাকায় বিমান বাহিনীর কিছু জুনিয়র ও নন কমিশন্ড অফিসার তাদের বেতন, ভাতা, রেশন, পোষাক এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্যে আন্দোলন শুরু করেন। তারা বিমান বাহিনীর প্রধান ও অন্যান্য অফিসারগণকে অন্তরীণ করে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালান। কারণ সে সময় বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি অপ্রতুল ছিল এবং সমরিক বাহিনীতে এ আন্দোলন ছিল সেনা আইন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি। এ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের কোর্ট মার্শাল করে চাকুরিচ্যুত করা হয়। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যে বিমান বাহিনীতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মেজর ডালিমের বোনের বিয়েতে অপ্রীতিকর ঘটনাঃ

১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে ঢাকা লেডিস ক্লাবে মেজর শরিফুল হক ডালিমের খালাত বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে রেড ক্রসের চেয়ারম্যান ও ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফা এর পুত্র মেজর ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী তাসমিন জাহান নিম্মীকে উত্যক্ত করলে মেজর ডালিম তাকে চড় মারেন। গাজীর ভাড়াটে গুন্ডা বাহিনী মেজর ডালিম ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এর প্রতিশোধ হিসেবে মেজর ডালিম তাঁর সহকর্মী কতিপয় সেনা অফিসার ও সৈনিক নিয়ে গাজী গোলাম মোস্তফার নয়াপল্টনস্থ বাসা আক্রমন ও তছনছ করেন। মেজর ডালিম এটা করে সেনা আইন লংঘন করেন। তার উচিত ছিল বিধি অনুযায়ী প্রতিকার চাওয়া। কারন সেনা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে আইনের শাসন মেনে চলা।
উভয় পক্ষই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছে বিচার চাইলেন। বঙ্গবন্ধু একটি সামরিক পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে অফিসারদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার বিচারের ব্যবস্থা করেন। এতে ২২ জন জুনিয়র অফিসারকে চাকরিচ্যূত করা হয়। এদের মধ্যে মেজর ডালিম, মেজর নূর চৌধুরী ও মেজর বজলুল হুদা ছিলেন। এ তিনজন বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এতে তাঁরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি দারুণ ক্ষুব্ধ হন এবং সেনা বাহিনীর মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার পরিণামে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হন। গাজী গোলাম মোস্তফা এবং মেজর ডালিমের মধ্যে অনাকাংখিত ঘটনায় ২২ জন সামরিক অফিসারের অপসারণ ও অব্যহতি প্রদান করা উচিত হয়নি।

ব্রিগেডিয়ার শফিউল্লাহকে সেনা প্রধান নিয়োগ এবং দ্বন্দ্বঃ

মুক্তিযুদ্ধের সময় পদোন্নতিপ্রাপ্ত লেঃ কর্ণেল, কর্ণেল এবং পরে ব্রিগেডিয়ার শফিউল্লাহকে মেজর জেনারেল পদোন্নতি দিয়ে সেনা প্রধান নিয়োগ দেয়া হয়। সেনা বাহিনীতে সিনিয়র ছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও জেনারেল ওসমানির পরামর্শে বঙ্গবন্ধ জেনারেল জিয়াকে উপ প্রধান এবং মেজর জেনারেল শফিউল্লাহকে সেনা প্রধান নিয়োগ করায় নৈতিক দিক দিয়ে সেনা বাহিনী পরিচালনায় স্বভাবতই তাঁর দুর্বলতা থাকার কথা। জেনারেল শফিউল্লাহ এবং জেনারেল জিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ভাল ছিল না। কারণ জেনারেল জিয়ার সিনিয়রিটি ডিঙ্গিয়ে জুনিয়রকে সেনা প্রধান করা হলে সিনিয়রকে অবসর দেয়া উচিৎ। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোর্শারফের সাথে জেনারেল শফিউল্লাহ এর সম্পর্ক ভাল ছিল। সেনা বাহিনীতে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যে জেনারেল জিয়া ও ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোর্শারফ এবং অন্যান্য অফিসারগণ চেষ্টা চালান। জুনিয়র অফিসারগণ বিষয়টি জেনে তাঁরাও এর সুযোগ গ্রহণ করতে সচেষ্ট হন। জেনারেল শফিউল্লাহ এবং জেনারেল জিয়াউর রহমানেরে মধ্যে দ্বন্দ্ব চলাকালে সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে শওকত আলী, আবু তাহের, জিয়া উদ্দিন, নূরুল ইসলাম, এম.এ. মঞ্জুর প্রমুখ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করেন। তাঁরা মনে করেন, খালেদ মোশাররফ নানা বিষয়ে সেনা প্রধানকে পরামর্শ প্রদান করেন। এ নিয়ে সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ বেশ বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখিন হন। এভাবে সেনা বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে। সেনা প্রধান তঁদেরকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হননি। এমনকি বঙ্গবন্ধু আক্রান্ত হয়ে সেনা প্রধানকে সাহায্যের অতি জরুরী সাহায্যের অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, আমি কিছু করার চেষ্টা করছি । আপনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে পারেন কিনা – বলে তামাশা করেন । বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন । সেনা প্রধান কিছুই করতে পারেননি, বরং তিনি খন্দকার মোস্তাকের আনুগত্য স্বীকার করেন।

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিঃ

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি কম-বেশি সব দেশেই থাকে। চোরাকারবার, মজুদদার, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বাংলাদেশে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। বাজারে রটে গেল, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠজন এতে জড়িত। এমনকি তাঁর আত্মীয় পরিচয়দানকারীরাও পিছিয়ে নেই। দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,চোরাকারবার ও মজুদদারদের বিরুদ্ধে তথা আইন শৃংখলা পুন প্রতিষ্ঠার অভিযান পরিচালনা করার জন্যে বঙ্গ বন্ধু ১৯৭৪ সালে ২৮ এপ্রিল সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন। দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,চোরাকারবার ও খাদ্য দ্রব্যসহ নিত্য প্রয়োনীয় জিনিসপত্র মজুদ করার অভিযোগে আওয়ামীলীগ নেতাদের গ্রেফতার করতে থাকেন। আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ওপর চাপ আসতে থাকে। এক সপ্তাহের মধ্যেই সেনা বাহিনীকে অভিযান বাতিল করে ব্যারাকে ফিরে যেতে আদেশ দেওয়া হয়। চোরাকারবার সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাড়ায় ।
সরকারি তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর ৩ বছরে কমপক্ষে ৬ হাজার কোটি টাকার মালামাল সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়েছে। চারদিকে বঙ্গবন্ধু কেবল জনগনের দুর্দশার কথা শুনতে পান। বঙ্গবন্ধুর চারপাশে থাকা চাটুুকারদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বেমালুম অস্বীকার করে বলতেন, এসব দুষ্টু লোক ও রাষ্ট্রবিরোধিদের কর্মকান্ডের অংশ বিশেষ। দূর্নীতিবাজরা সদ্য স্বাধীন দেশের জাতীয় সম্পদ নানাভাবে ধ্বংস করে দেশটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ২০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সাহায্য আসার পরও ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে দেশটা দেওলিয়া হওয়া থেকে রেহাই পায়নি। এমন অবস্থায় দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইন শৃঙ্খলার ক্রমাবনতির পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এর প্রভাব সামরিক বাহিনীতেও পড়ে।………(চলমান)

# লেখকঃ অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
মোবাঃ ০১৭৩০-৯৩৫৮৮৭

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন