রংপুর: বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিম নিবন্ধনে রিটেইলররা অর্থ নিলে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে লাইসেন্স বাতিল করার হুশিয়ারি দেয়ার পরও টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জায়গায় চলছে সিম নিবন্ধন।

শুক্রবার রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড ও খুচরা সিম বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এরশাদ মোড় ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড, সেনপাড়া, আশরতপুর, মেডিকেল মোড়, ধাপসহ মহানগরীর বেশ কিছু এলাকার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী গ্রহণকরা সিম নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধনে টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর এরশাদ মোড় ব্রিজ সংলগ্ন ইসলাম মেডিসিন কর্নারে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে যে কোনো সিম/রিম নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধনে গ্রাহকের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

এসময় সিম পুনঃনিবন্ধন করতে আসা আক্তারুজ্জামান আকাশ অভিযোগ করে বলেন, বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ না নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পরও এখানে সিম প্রতি ২০ টাকা নিচ্ছেন খুচরা দোকানদাররা।

একই চিত্র দেখা গেছে, ওই এলাকার আশপাশের মোবাইল সিম বিক্রয় প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দোকানে।

এদিকে গ্রাহকদের এই অভিযোগ স্বীকার করে ইসলাম মেডিসিন কর্নারের স্বত্ত্বাধিকারী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম/রিম নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধনে আমরা কোম্পানির পক্ষ থেকে সামান্য কিছু বোনাস পাবো। কিন্তু সিম নিবন্ধনে বিদ্যুৎ খরচসহ বিভিন্ন খবর আছে, এজন্যই আমি ২০ টাকা করে নিচ্ছি। এসময় আশপাশের দোকানগুলোতেও টাকা নেয়া হয় বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে মডার্ন মোড় এলাকার বাংলালিংক কাস্টমার পয়েন্টের ইনচার্জ মাসুম বিল্লাহ্ বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজন কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছি। তবে বাংলালিংক গ্রাহকদের কাছে গিয়ে তারা সরাসরি বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধন করছেন বলেও জানান।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মোবাইল অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের বৈঠক করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এসময় তিনি বলেন, ‘বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম/রিম নিবন্ধন ও পুনঃনিবন্ধনে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নিলে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের কালো তালিকাভূক্ত করা হবে। একেই সঙ্গে এসব রিটেইলারের অনুমোদন বাতিল করা হবে।’

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন