মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি <>

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিএম সরফরাজ এর সভাপতিত্বে ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি, ঘুর্ণিঝর প্রস্ততি কর্মসূচির (ঈচচ) ইউনিট টিম লিডার ও ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণদের নিয়ে আগাম প্রস্ততি মূলক সভা করেছেন। সভায় সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আজ শনিবার বুলবুলের প্রভাব ও ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেতের পর উপজেলার বলেশ^র নদ তীরবর্তী ও জেলে পাড়ার মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের সম্ভাব্য আঘাত হানার বিষয়ে মেগাফোনে জনগণকে আগাম সতর্ক বার্তা দেয়া হচ্ছে। উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তুষখালী, বড়মাছুয়া, আমড়াগাছিয়া,সাপলেজা, বেতমোড় ইউনিয়নে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্ততি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। উপজেলায় ১৫ টি ইউনিটে সিপিপির মোট ১২৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তত রয়েছেন।

এদিকে বুলবুলের প্রভাবে বলেশ^র নদে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্ষেতাছিড়া ও কচুবাড়িয়া পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নদের প্লাবনে হুমকীর মুখে রয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে এসব এলাকার মানুষ রাতের ঝড়ে পড়ার আতংকে পাশ^বর্তী সাইক্লোন শেল্টারে ভির করছে। এসময় গৃহস্থ পরিবার গুলো সাথে করে তাদের গবাদি পশু নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনছেন।

জানাগেছে, উপজেলার ৫৮টি সাইক্লোন শেল্টারে দুপুর থেকে আতংকিত হয়ে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ ্এর তত্বাবধানে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা বলেশ^র নদের মাঝের চরের ১২০০ জেলে পরিবার সদস্যদের অর্ধেক মানুষকে মাঝের চর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওই চরের বাকি জেলে পরিবার গুলোকে নদী পার করে উলুবাড়িয়া সাইক্লোন শেল্টারে উঠিয়ে দিয়েছেন। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে আশ্রিত পরিবার গুলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ করছেন।

বলেশ্বর নদ তীরের বড়মাছুয়ায় সেনাবাহিনী নির্মিত ঘূণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে দুপুরের দিকে ২ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সন্ধ্যার আগে উপজেলার ৫৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্যেগ কবলিত মানুষের ভীর বাড়বে। অনেক পরিবার নিজের বসতি ফেলে গাঁয়ের আশপাশের পাকা বাড়িতেও আশ্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে শুক্রবার দিনগত গভীর রাত থেকে আজ শনিবার দিনভর বিরামহীন প্রবল বর্ষণ চলছে। মাঝে ্মাঝে হাল্কা বাতাস বইছে। হাটবাজারেও স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। যানবাহনেরও তেমন চলাচল নেই। সব মিলিয়ে উপকূলীয় মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের আতংকে মানুষের মাঝে ভয় বিরাজ করছে।

উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বলেশ্বর নদ তীরবর্তী তুষখালী,বড়মাছুয়া, আমড়াগাছিয়া,সাপলেজা, বেতমোড় ইউনিয়নসহ সিপিপির প্রতিটি ইউনিটে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব এলাকায় সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা সব ধরণের প্রস্ততি নিয়ে মাঠে রয়েছেন ।
এদিকে আজ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ও দমকা বাতাসে ধানক্ষেত নেতিয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় কৃষির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ঝাঁটিবুনীয় গ্রামের তরুণ কৃষক নূরুল আমীন রাসেল জানান, দিনভর বৃষ্টি ও শুক্রবার দিনহত গভীর রাতে দমকা বাতাসে ধানক্ষেত নেতিয়ে পড়েছে। নেতিয়ে পড়া ধানের চারায় শিষ বের হচ্ছে। বৃষ্টি ও বাতাসে এসব ধান চিটা হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) রিপন বিশ্বাস জানান, স্বেচ্ছাসেবদের সতর্ক রাখা হয়েছে। যাতে ঝড় শুরুর আগেই মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়। বিকাল ৫টার মধ্যে মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্র নিয়ে আসা হবে। এজন্য উপজেলা পরিষদে সার্বক্ষণিক একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে আশ্রয় কেন্দ্রে না যাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। এসব বিপন্ন এলাকায় বসতি মানুষজন এবার সচেতনভাবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বেশ তৎপর রয়েছেন।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন