স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম নেতৃত্বাধীন জোট ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। বুক ও পিঠে সাদা রঙে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ শ্লোগান লিখে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদক নূর হোসেন। মিছিলটি ঢাকার জিপিও’র সামনে জিরো পয়েন্ট এলাকায় এলে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেনসহ তিনজন শহীদ হন। আহত হন আরও অনেকে। জিপিও’র সামনে চার রাস্তার মোড়ে নূর হোসেনের আত্মদানের স্থানটিকে নূর হোসেন স্কয়ার নাম দেওয়া হয়। একটি ভাস্কর্যও সেখানে রয়েছে। নূর হোসেনের পৈত্রিক বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাতবুনিয়া গ্রামে।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তার পরিবার স্থান পরিবর্তন করে ঢাকার ৭৯/১ বনগ্রাম রোডে আসে। পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন পেশায় আটো-রিকশা চালক। তাঁর মায়ের নাম মরিয়ম বিবি। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে বলেছেন, শহিদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। তাঁর আত্মাহুতির ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছিল ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ১০ নভেম্বর একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ।

দেশের সকল উচ্চতম ব্যাক্তিবর্গের মুখে শহীদ নূর হোসেন জয়জয়কার, সেখানে নূর হোসেন কে তার পিতৃপুরুষের জনপদ মঠবাড়িয়ার মানুষ জানি না, সে কোথাকার সন্তান। নূর হোসেন একটি সাহসিকতার মূর্ত প্রতিক।

আমাদের তরুণদের আকুল আবেদন মঠবাড়িয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নূর হোসেন চত্বর বাস্তবায়ন করা হোক এবং মঠবাড়িয়া-সাপলেজা সড়কটি শহীদ নূর হোসেন সড়ক নামকরণ করা হোক।

লেখক <>  মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন