SONY DSC

দেবদাস মজুমদার >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আজ শুক্রবার দুপুরে আকস্মিক ঝড় বৃষ্টিতে উপজেলার বলেশ^র নদ তীরের মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েন। প্রায় ২০ মিনিটের হাল্কা ঝড়ো বৃষ্টিতে নদী তীরবর্তী মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঝড়ে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ^র নদ তীরের ক্ষেতাছিড়া,কচুবাড়িয়া জেলে পল্লীর অন্তত ৪০টি ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষেতাছিড়া ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য মো. আফজাল হোসেন জানান, বেশ কিছু গাছ পালা উপরে পড়েছে। বলেশ^র নদে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে বড়মাছুয়া, ভোলমারা, খেজুরবাড়িয়া, ক্ষেতাছিড়া ও কচুবাড়িয়া এলাকার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার ডাল ফসল ২ ফুট পানিতে তলিয়ে বিনস্ট হয়েছে। ক্ষেতাছিড়া ও কচুবাড়িয়া পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নদের প্লাবনে হুমকীর মুখে রয়েছে।
বিকেলে হাল্কা বৃষ্টি শুরু হলে এসব এলাকার মানুষ রাতের ঝড়ের পড়ার কবলে আতংকে পাশ^বর্তী সাইক্লোন শেল্টারের দিকে যেতে শুরু করে। এসময় গৃহস্থ পরিবার গুলো তাদের ঘরবাড়ি দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন কেউ কেউ।

জানাগেছে, উপজেলার ৫৫টি সাইক্লোন শেল্টারে এখন ঝড় আতংকিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ ্এর তত্বাবধানে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা বলেশ^ও নদেও মাঝের চরের ১২০০ জেলে পরিবারের সদস্যদের অর্ধেক মানুষকে মাঝের চর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওই চরের বাকি জেলে পরিবার গুলোকে নদী পার হয়ে উলুবাড়িয়া সাইক্লোন শেল্টারে উঠিয়ে দিয়েছেন। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবার গুলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ করছেন।

সরেজমিনে বলেশ^ও নদেও বড়মাছুয়ায় সেনাবাহিনী নির্মিত ঘূণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে ৩০০ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিতে দেখা যায়। ওই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত স্থানীয় খেজুরবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ নাসিমা বেগম(২৭) বলেন, দুপুর দুইটার কালে বৃষ্টির লগে দমকা বাতাস শুরু হইলে বসত ঘরের চালা উড়ে যায়। এরপর দড়ি দিয়া গাছের লগে ঘর বাইন্দা ডরে এই আশ্রয় কেন্দ্রে আইছ। গরুবাছুরও নিয়া আইছ। আল্লা যেন রাইতে আর ঝড় না দেয়।
একই গ্রামের বৃদ্ধ পানচাষি ধীরেন্দ্র নাথ বিশ^াস( ৫৫) বলেন, মোর ঘরডা দুপারের হাল্কা ঝড়ে নড়ে উঠলে ডর পাই। হেরপর দড়ি দিয়া গাছের লগে বাইন্দা রাখছি। মাঠের ফসল ডুইবা গেছে। রাইতে ঘরচাপা পইরা মরার ভয়ে সন্ধ্যার আগেই আশ্রয় কেন্দ্রে আইছি।

শুধু এ আশ্রয় কেন্দ্রে নয় উপজেলার ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র এখন দুর্যেগ কবলিত মানুষের ভীর। অনেক পরিবার নিজের বসতি ফেলে গায়ের পাকা কোনও বাড়িতেও আশ্রয়ের জন্য ছুটছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে আশ্রয় কেন্দ্র না যাওয়ায় এসব মানুষ চরম বিপন্ন হয়েছিল। এবার তারা এমন ভুল আর করতে রাজি হনননি।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক আগাম প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এই দুর্যোগের সম্ভাব্য আঘাত হানার বিষয়ে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক দল মেগাফোনে জনগণকে আগাম সতর্ক বার্তা দেয়া হয়। উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেবলেশ^র নদ তীরবর্তী তুষখালী,বড়মাছুয়া, আমড়াগাছিয়া,সাপলেজা, বেতমোড় ইউনিয়নে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিএম সরফরাজ এর সভাপতিত্বে ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি, ঘুর্ণিঝর প্রস্ততি কর্মসূচির (ঈচচ) ইউনিট টিম লিডার ও ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণদের নিয়ে আগাম প্রস্ততি সভা করেন। সভায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা পরিষদে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

উপজেলার ৫৫টি সরকারি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং বেসরকারি পর্যায়ের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে স্কুল ,কলেজ, মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদ, দুর্যোগ কবলিত জনগণের আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। উপজেলায় সিপিপির মোট ১হাজার ২৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবেলা কমিউনিটি বেইজ কাজ করছেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ বলেন, ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে নদী তীরের বিপন্ন মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্র নিয়ে আসা হয়েছে। সেই সাথে তাদেও গবাদিপশু নিয়ে আসা হয়েছে। বিকেল থেকে এসব আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে শুকনা খাবার ও পানি বিতরণ করা হয়েছে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন