SONY DSC

 

দেবদাস মজুমদার 🔹

জাতীয় নেতা, ভাষা সংগ্রামী ও পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া আসনের প্রয়াত মহিউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯১ সালে উপকূলে নারী শিক্ষা প্রসারে মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহিলা ডিগ্রী কলেজপ্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে কলেজটি আবাসিক কলেজ হিসেবে সহস্রাধিক ছাত্রী নিয়মিত অধ্যায়ন করছে। কলেজটি শুরুর দিকে নিজস্ব জমি ও ভবন ছিলনা। নানা সংকটরে ভেতর দিয়ে কলেজটি শুরু হয় মঠবাড়িয়া পৌর শহরের শেরে বাংলা পাঠাগারের অপরিসর কয়েকটি কক্ষে। পরে বহু কষ্টে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর খাদ্যগুদামের মধ্যবর্তী কিছু জলাবদ্ধ কৃষিজমি ক্রয় করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভবন নির্মাণের মত অর্থ ছিলনা। কি আর করা লড়াই শুরু করে তখনকার সময়ের শিক্ষকরা । তখও এমপিও ভূক্ত হয়নি কলেজটি। যতদুর মনে পড়ে অধ্যক্ষ খান এমএ সাত্তার আর শিক্ষক ইকতিয়ার হোসেন হোসেন পান্না, তপন কুমার হালদার, উদয় শংকর ভক্ত, শিবু সাওজাল,কবিতা মোদক, গীতা অধিকারীসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক( ( নাম মনে আসলে সংযুক্ত করব) কলেজটিতে তখন বিনা বেতনে কাজ শুরু করেন। আমি সার্বক্ষণিক তাদের সাথে ছিলাম। কয়েকটা শ্রেণী কক্ষের জন্য তখনকার সময়ে ওই কলেজের শিক্ষকদের লড়াই আমি নিজে কাছে থেকে দেখেছি। ছাত্রী সংগ্রহ আর গ্রামের গৃহস্থ বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাঠের খুঁটি বাঁশসহ নির্মাণ সামগ্রী সহায়তার কাজে আমিও কলেজ শিক্ষকদের সাথে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছি। তবে কোন চাকুরির আশায় নয়। স্রেফ একজন সাংস্কৃতিক কর্মী আর সাংবাদিক হিসেবে শিক্ষার এমন সামাজিক উদ্যোগমূল কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলাম। সত্যি বলছি গৃহস্থ বাড়ির কাঠ আর বাঁশের চালার টিনসেড ঘরে কলেজটির নিজস্ব জমিতে যাত্রা শুরু হয়। তার পরের ইতিহাস আরও দীর্ঘ। কলেজ অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা খান এমএমএ সাত্তার প্রয়াত হন। কলেজ অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন জনাব আজীম-উল-হক। এরপর কলেজের অগ্রযাত্রায় নানা পরিবর্তন আসে। সুরম্য ভবন , দৃষ্টিনন্দন কলেজ ক্যাম্পাস, ছাত্রীদের আবাসিক ভবন আর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুণগত মান কলেজটি এখন নারী শিক্ষার বাতিঘর হয়ে ওঠে। কলেজের শিক্ষানুরাগি ও দক্ষ গভর্ণিং বডির সুব্যাবস্থাপনায় সংকটে টিকে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে সাফল্যে এগিয়ে নেয়।

আশার কথা, মহিউদ্দ্দিন আহম্মেদ মহিলা ডিগ্রী কলেজ এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জেলা পর্যায় দুইবার ও উপজেলা পর্যায় পরপর তিনবার এইচএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল ও জেলার সেরা কলেজের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। নিশ্চয়ই এ অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাবে।

আমি কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরুর লড়াইয়ে কিছু অংশীদার ছিলাম বলে আমি কলেজটির শিক্ষার সাফল্যে সত্যি বুকের ভেতর গর্ব অনুভব করি। আমরা মঠবাড়িয়া বাসি গর্বিত কেননা শিক্ষায় অগ্রসর এ জনপদ। আমি কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহম্মেদ এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
অভিনন্দন জানাই কলেজ গভর্ণিং বডির সকল সম্মানিত সদস্য, সম্মানিত অধ্যক্ষসহ সকল শিক্ষক মণ্ডলি আর সকল শিক্ষার্থীকে ।

মহতী স্বপ্ন কখনই মরবার নয় আর সততার লড়াইয়েই সত্যিকার সাফল্য ফিরে আসে। শু ভ কা ম না ।
—————————————-
ছবি > জামান আবির

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন