ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মিরপুর শাহ আলী থানা এলাকায় জঙ্গিদের দখলে নেয়া ওই ৬ তলা ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ সুইসাইডাল বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো নিষ্ক্রিয় করতে অনেক সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

কিছুদিন আগে ফ্রান্সের প্যারিসে হামলাকারীরা সুইসাইডাল বেল্ট ব্যবহার করেছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করে। এবার বাংলাদেশেই এসব আত্মঘাতী সরঞ্জাম পাওয়া গেল।

৬ তলা ভবনটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান প্রায় শেষের দিকে। এ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। অভিযান এখনও চলছে।

JMB jmb2 jmb3

বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সুইসাইডাল বেল্ট পাওয়া গেছে। ওগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে অনেক সময় লাগবে।

ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে একটি বস্তার ভেতরে ২০টির মতো গ্রেনেড আছে, যেগুলোকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বম্ব ডিজপোজাল টিম খুব সতর্কতার সাথে বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও সুইসাইডাল বেল্টগুলো ভেতর থেকে বের করার চেষ্টা করছে। যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজর দেয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইলও উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইলটি এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

অভিযান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘হোসনি দালানে যে ধরনের গ্রেনেড দিয়ে আক্রমণ করা হয় এখানকার গ্রেনেডগুলোও একই রকম। এগুলো একই কারিগরের তৈরি।’
jmb4
আটককৃতদের ব্যাপারে মনিরুল বলেন, ‘কারাগারে আটক জেএমবি নেতা মাওলানা সাইদুর রহমানের বিরোধী গ্রুপের কর্মী এরা। এই ভবনে দুটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় ওরা। একটি ৩ মাস ও অপরটি ৪ মাস আগে।’

যেসব মানুষ ঘর থেকে খুব কম বের হয়, আশপাশের মানুষের সাথে যারা কম মেলামেশা করে এবং বেশিরভাগ সময় সন্ধ্যা বা রাতে ঘর থেকে বের হয় সেসব মানুষের ব্যাপারে পুলিশকে জানাতে বলেন ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার। জঙ্গিদের আচরণ ওইরকম বলে জানান তিনি।

বুধবার দিবাগত রাত ১টা থেকে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ধারণা করা হয়েছিল, ওই ভবনের বাসিন্দাদের জিম্মি করে রেখেছে জঙ্গিরা। কিন্তু অভিযান শেষে পুলিশ জিম্মির কথা অস্বীকার করেন। সকালে পুলিশ ওই ভবন ও এর আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখে। রাস্তা থেকে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।

এর আগে মিরপুর ১-এর (রোড-৯, সেকশন-এ) ওই ভবনের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমাও ছোড়ে জঙ্গিরা। ভবনটি উড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বেই চলে এ অভিযান। ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অভিযানে অংশ নেয় পুলিশের বিশেষ টিম সোয়াতের সদস্যরা। এ ছাড়া র‌্যাবসহ পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেয় অভিযানে।

 

*গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার

*মিরপুরে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান, বিস্ফোরণ-গুলি

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন