বরগুনা প্রতিনিধি 🔹

বরগুনায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিকার না পেয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে নাসরিন নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নাসরীন বরগুনার সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনবুনিয়া গ্রামের মো. শাহ আলমের মেয়ে। অন্যদিকে বরগুনার আমতলীতে বনশ্রী (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত নাসরিনের বাবা ও এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী শাহ আলম বলেন, নয় বছর আগে তার মেয়ে নাসরিনের সাথে একই এলাকার ইউসুফ মৃধার ছেলে মহসীনের বিয়ে হয়।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের পর তাদের মধ্যে মাঝেমাঝেই বাকবিতণ্ডা হয়েও আবার সেটা নিজেরাই ঠিক করে নিত। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে মহসীনের সাথে স্থানীয় এক মেয়ের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তা নিয়ে নাসরিন ও মহসীনের মধ্যে ঝগড়া হলে, মহসীন নাসরিনকে মারধর করতো। মহসীনের পরকীয়ার বিষয়ে তার স্বজনদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি নাসরিন।

তিনি আরো বলেন, গত ২৪ জুন রবিবার মহসীনের পরকীয়ার জের ধরে আবারো নাসরিনের সাধে বাকবিতণ্ডা হয় মহসীনের। এ সময় মহসীন নাসরিনকে মারধর করেন। এর পরপরই নাসরীন গায়ে কেরাসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও মহসীন নাসরিনকে প্রতিহত করেনি। এমনকি অগ্নিসংযোগের পরও বাঁচানোর চেষ্টাও করেনি। পরে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নাসরিনের বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে বরগুনা থানায় মামলা দায়ের করেন। নাসরিন ও মহসিন দম্পত্তির দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স পাঁচ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স তিন মাস।

এ ব্যাপারে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, নাসরিনের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে তার স্বামী মহসীনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য আসামীদেরও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন