আগৈলঝাড়ায় ধর্ষণের ফলে কিশোরী অন্তস্বত্তা সন্তান প্রসবের জন্য ধর্ষিতা ও ধর্ষক পকে মাতুব্বরদের ৫০ হাজার টাকা জমা রাখার নির্দেশ

আগৈলঝাড়ায় ধর্ষনের ফলে এক কিশোরী সাত মাসের অন্তস্বত্তা। অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ে দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে কিশোরীর পরিবার।

স্থানীয় মাতুব্বরদের প্রহসনের শালিশ ব্যবস্থা। জানা গেছে, উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের গৌহার গ্রামের রহমান বেপারীরর ছেলে ও ছয়গ্রাম কলেজের এইচএসসি’র ছাত্র শাকিল বেপারী পাশ্ববর্তি বাড়ির এক দিন মজুরের মেয়েকে ধর্ষন করে। ধর্ষনের ফলে ওই কিশোরী অন্তসত্তা হয়ে পরে।

বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে বিচার দাবি করলে স্থানীয় মাতুব্বররা অসহায় ওই কিশোরীর পাশে না দাড়িয়ে উল্টো প্রভাবশালী ধর্ষকের পরিবারের সাথে হাত মিলায়। আর্থিক সংগতি ও লোকজন না থাকার কারনে ধর্ষিতার পরিবার আইনের আশ্রয় নিতে পারেনি। বর্তমানে কিশোরী সাত মাসের অন্তসত্তা। অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ধর্ষিতা ও তার পরিবার। গত বুধবার রাতে ৭নং ওয়ার্ড সদস্য সাকিব হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বে ধর্ষিতার বাড়িতে অবশেষে প্রহসনের শালিস বৈঠক বসায় মাতুব্বররা।

ওই শালিশ বৈঠকে অন্যন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মাতুব্বর আলহাজ্ব লাল মিয়া গোমস্তা, আ. জলিল, মতলেব বেপারী(মোহরার), ব্যাংকার ইসমাইল হোসেন গোমস্তা অন্যতম। শালিশ বৈঠকে পবিত্র কোরান শরীফ হাতে ধরিয়ে মেয়েক মাতুববররা ঘটনার জন্য কে দায়ী বলতে বললে মেয়ে শাকিলের নাম বলে। একইভাবে শাকিলকেও কোরান নিয়ে বলতে বলা হলে শাকিল ঘটনার জন্য দ্বায়ী নয় বলে জানায়। এসয় মাতুব্বররা ধর্ষিতার সন্তান প্রসবের জন্য মেয়ে পকে ২৫ হাজার টাকা ও ছেলে পকে ২৫ হাজার টাকা তাদের কাছে জমা রাখার জন্য নির্দেশ দেন। এছাড়াও মাতুব্বররা রায় প্রদান করেন যে, সন্তান জন্মের পর তার ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অপরাধী জন্মদাতা শনাক্ত করা হবে ? এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃস্টি হয়েছে। মাতুব্বরদের চাপের মুখে বর্তমানে ধর্ষিতার পরিবার থানায় গিয়েও আইনের আশ্রয় নিতে পারছেনা। এব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাকে কেউ অবহিত করেনি। তার পরেও তিনি খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন