পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বিএনপি সমর্থকদের বাধা এবং নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের আয়োজন করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি নেত্রী বলেন, “এই কমিশন অথর্ব। এদের কাছে থেকে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আশা করতে পারি না, পাবো না।”

আসন্ন পৌর নির্বাচনকে ‘লোকদেখানো’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আজ নির্বাচনের নামে এটা শুধু প্রহসন করা হচ্ছে। এটা প্রহসন।”

খালেদা জিয়া বলেন, “আপনারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেখেছেন, এখনো তারা (সরকার) একই অবস্থা করছে। আমাদের লোকজনকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। আমাদের লোকজনকে গণহারে গ্রেপ্তার করছে, যাতে কেউ নির্বাচনে কাজ করতে না পারে।”

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মাঝপথে সরে দাঁড়ান বিএনপির প্রার্থীরা। ওই নির্বাচনে অনিয়মের নানা ঘটনা গণমাধ্যমে আসে।

মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।

ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ বিএনপির লোকজনকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছে ও হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তারা বাধ্য হয়ে এসব কাজ করছে,” বলেন খালেদা জিয়া।

সরকারের ‘অপকর্মের’ বিরুদ্ধে সবাইকে ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেত্রী বলেন, “আমি বলব, এটা ডিসেম্বর মাস, আমাদের বিজয়ের মাস। জাগুন, জাগুন, দেশ বাঁচান। এখন আমাদের জাগতে হবে, সময় এসেছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন।”

সরকারবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের আর্থিক অনুদান দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।

ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র নয়ন বাছার, ফেনীর সোনাগাজীর জামসেদ আলম এবং বগুড়া সদরের শিহাবউদ্দিন সেলিমকে অর্থ সহায়তা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “এই কমিশন হলো হাসিনা পদলেহী একটি কমিশন। কাজেই যতক্ষণ তার (শেখ হাসিনা) পা ধরে থাকতে পারবে, ততোক্ষণ টিকে থাকতে পারবে।

“তারপর যাবেনটা কোথায়? কত দূর? তারপর দেশের মানুষ আছে না। অন্যায় যে করছেন, তার বিচার হবে না?”

পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “পৌর নির্বাচনে যেসব অনিয়ম হচ্ছে, আওয়ামী লীগ কী কী ষড়যন্ত্র করছে ভোটে জেতার জন্য-তার সব তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। আপনারা ভাববেন না আমাদের তথ্য পাওয়ার জায়গা নেই বা পাব না। আমরা সব জেনেছি। কীভাবে আপনারা করবেন।

“চোরামি করে মানুষকে বলবেন, নিজেদের জনপ্রিয়তা আছে। আমি বলব-ক্ষমতা থেকে সরে গিয়ে নির্বাচন করে প্রমাণ করুন- জনপ্রিয়তা আছে কি নাই। সেটাই আমরা চাই।”

অনুষ্ঠানে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা শহীদুল ইসলাম বাবুল, আমিরুজ্জামান শিমুল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এজমল হোসেন পাইলট, তারিক উজ জামান তারেক, আলমগীর হোসেন সোহান, নাজমুল হাসান, মনিরা আখতার রিক্তা, ইশতিয়াক আহমেদ নাসির, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি প্রমুখ ছিলেন।

এর আগে দুপুরে গুলশানের কার্যালয়ে জানুয়ারি থেকে তিন মাসের আন্দোলনে নিহত নিউ মার্কেট থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর পরিবারকে দলের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, শামীমুর রহমান শামীম, শায়রুল কবির খান, ‘ছাত্রদল তৃণমূল হেলপ লাইন’ নেতা নাসিরউদ্দি শাওন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন