মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি >>
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাগরিকা সাচকী(২৫)নামে বাকপ্রতিবন্ধী এক গৃহবধূ ও মো. জাহাঙ্গীর ফরাজি(৪৫) নামে এক গাছ ব্যবসায়ির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনীয় গ্রামে স্বামীর বসতঘর হতে গৃহবধূ সাগরিকা ঝুলন্ত লাশ ও আজ বৃহস্পতিবার সকালে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে গাছ ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর ফরাজির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুই পরিবারের স্বজনদের দাবি সাগরিকা মানসিক দুশ্চিন্তায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে ও ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর ঋণের বোঝা সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে।
গৃহবধূ সাগরিকা উপজেলার চালিতাবুনীয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি শুকচাঁন সাচকীর স্ত্রী। সে নিসন্তান ।
অপরদিকে জাহাঙ্গীর উপজেলা সদর ইউনিয়নের বকশীর ঘটিচোরা গ্রামের মৃত খালেক ফরাজির ছেলে। সে তিন সন্তানের জনক।
থানা ও হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, মঠবাড়িয়ার চালিতাবুনীয়া গ্রামের মৃত উপন্দ্রে নাথ সাচকীর ছেলে শুকচাঁন সাচকীর সাথে গত আড়াই বছর আগে বরগুনার ছোট বদরখালী গ্রামের রণজিত রায়ের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে সাগরিকা রায়ের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ওই গৃহবধূ নানা মানসিক অশান্তিতে ভুগছিল। বুধবার রাতে স্বামী শুকচাঁন টিভি দেখতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী দোকানে গেলে সাগরিকা ঘরের আড়ার সাথে কাপড়ের ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
অপরদিকে উপজেলার বকশীর ঘটিচোরা গ্রামের গাছ ব্যবসায়ি মো. জাহাঙ্গীর ফরাজি ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন এনজিওর ঋণ গ্রস্ত হয়ে পরে। ওই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে মানসিক কষ্টে সে গত এক মাস আগে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে সে ঘরে রক্ষিত কীটনাশক পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের স্বজনরা তাকে আশংকাজনক অবস্থায় মঠবাড়িযা উপজেলা স্বাস্থ্র কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে.এম তারিকুল ইসলাম জানান, দুইজনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় আজ বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন