আসন্ন পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে তিন সংসদ সদস্যকে (এমপি) সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে তাদের কারণ দর্শাতেও বলা হয়েছে।

এছাড়া আচরণবিধি স্মরণ করিয়ে দিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়েছে ইসি।

সংসদ সদস্যরা হলেন, বরগুনা-২ আসনের হাচানুর রহমান রিমন, ঢাকা-২০ আসনের এমএ মালেক ও নাটোর-২ আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করে রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘চিঠিগুলো রাতেই সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ডেসপাসে জমা দেওয়া হয়েছ। তবে তারা সোমবার চিঠিগুলো হাতে পাবেন।’
ইসি সূত্র জানায়, ৫ জনের বেশি লোক নিয়ে মনোনয়ন জমা, আগাম প্রচারণা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করায় তাদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সতর্কও করা হয়েছে। যাতে ভবিষৎতে এ ধরণের কাজ না করেন। নির্বাচনী আচারণবিধি অনুযায়ী সংসদরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ৫ জনের বেশি লোক নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিষেধ রয়েছে।

সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকা-২০ আসনের এম এ মালেক, বরগুনা-২ আসনের হাচানুর রহমান রিমন ও নাটোর-২ আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুলকে রাতেই কারণ দর্শানো নোটিস পাঠানো হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদকে আচরণবিধি স্মরণ করালো ইসি
নির্বাচনে মন্ত্রীরা ও সংসদ সদস্যরা যেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন তা স্মরণ করিয়ে সংসদ সচিবালয় ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি।
সচিব সিরাজুল ইসলাম চিঠিগুলো মন্ত্রিপরিষদ মোহাম্মদ শফিউল আলম ও সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আশরাফুল মকবুলকে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইসিতে এলে স্পিকার ও মন্ত্রী-সাংসদের অবহিত করে চিঠি পাঠোনোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উনারা (মন্ত্রী–এমপি) আচরণবিধির বিষয়ৈ যানেন। তারপরও ইসির পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেউ যেন আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন। যদিও এখনো মন্ত্রিসভার কেউ বিধি করেননি।’
‘সংসদ সদস্য বিষয়টি মাননীয় স্পিকারকে অবহিত করতে সংসদ সচিবালয়কেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ যোগ করেন সচিব।
রবিবার বিকালে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সাংবাদিদের বলেন, ‘সে যেই-ই হোক না কেন, যিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি দলীয় প্রধানদেরও আচরণবিধি মানার পরামর্শ দিয়েছেন।
নির্বাচনী আচরণ বিধিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনও ব্যক্তি, হুইপ, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সংসদ সদস্যরা নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
তবে দলীয় প্রাধানরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু জনসমাবেশ করতে পারবেন না।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ২০ দল তাদের মেয়র প্রার্থী দিয়েছে। যদিও ২২টি দল মনোনয়ন প্রত্যায়নে নমুনা স্মাক্ষর ইসিতে জমা দিয়েছিল।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন