স্কুল ছাত্র লায়েছ

স্কুল ছাত্র লায়েছ হত্যকান্ডের প্রধান আসামী রিপনকে আটক করেছে পুলিশ।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বালিকান্দি গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আটকের পর পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে ঘাতক রিপন জানিয়েছে, লায়েছ তার মায়ের পরকিয়া দেখে ফেলায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর রাতে সদর থানার এসআই ওয়াহেদ গাজী ও এসআই আব্দুল্লাহ আল জাহিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ পুলিশের সহযোগিতায় একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে। আটকের পর বুধবার সকালে ঘাতক রিপনকে হবিগঞ্জ শহরে নিয়ে আসা হয়।

প্রথমে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়। ডিবি অফিসে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক রিপন হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেন। স্বীকারোক্তিতে রিপন পুলিশকে জানায়, দীর্ঘদিন যাবত লায়েছের পিতা নয়ন চৌধুরী সৌদিতে থাকায় লায়েছের মা জেসমিন আক্তারের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। সম্পর্কের এক পর্যায়ে রিপন ও জেসমিন আক্তার প্রায় সময় গোপনে আমোদ ফূর্তিতে মেতে উঠত। বিষয়টি একদিন ছেলে লায়েছ দেখে ফেলে।

পরে লায়েছকে বিষয়টি কাউকে না জানানো কথা বলে শাসিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ছেলে মায়ের শাসন না মেনে তার বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দিবে বলে জানায়। এতে করে বিপাকে পড়ে যায় রিপন ও জেসমিন। গত ৬ নভেম্বর লায়েছের পিতা নয়ন চৌধুরী দেশে আসছে বলে পরিবারের লোকদের অবগত করলে লায়েছের মা ও রিপন লায়েছেকে আবারো পরকিয়ার বিষয়টি তার বাবার কাছে না জানানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু ছেলে কোনভাবেই মা ও রিপনের কথা মানতে রাজি হয়নি।

লায়েছ একবাক্যে বলতে থাকে বাবা আসলেই আমি বলে দিব। কোন রকমভাবে ছেলে লায়েছকে বুঝাতে না পেরে শেষে তাকে হত্যার পরিকল্পনা নেয় তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় বালিকান্দি গ্রামের পাশ্ববর্তী হাওরের মধ্যে ধানক্ষেতে নিয়ে লায়েছকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে পাষন্ড রিপন। তার সারা শরীর কুচিয়ে কুচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এঘটনার পর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠে এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। অবশেষে মঙ্গলবার সিলেট থেকে তাকে আটক করে পুলিশ

বৃহস্পতিবার আটক রিপনকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এদিকে রিপনকে আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন তাকে দেখার জন্য ভীড় করে। অনেকেই তার শাস্তির জন্য পুলিশের কাছে দাবী জানায়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, লায়েছে হত্যা কান্ডের প্রধান আসামী রিপনেকে গ্রেফতারের পর সে এ হত্যা কান্ডের কথা স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল বালিকান্দি গ্রামের নয়ন চৌধুরী পুত্র উচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র লায়েছ চৌধুরীকে উপর্যপূরি চুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন