বাংলাদেশের সর্বত্র তথা- ব্যবসায়, শিক্ষা, কৃষি, উন্নয়নমূলক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডসহ সকল কর্মক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। মোট কথা বাংলাদেশকে একটি তথ্য-প্রযুক্তিতে সম্বৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চায় এ দেশের সরকার ও জনগন। এলক্ষ্যে প্রযুক্তির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলো। পাশাপাশি এদেশের জনগোষ্ঠীকে তথ্য ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সরকার।

এমতাবস্থায় আমাদের মঠবাড়িয়া এখনো তথ্য প্রযুক্তিতে অনেক টা পিছিয়ে রয়েছে।
► কারন বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে কম্পিউটার ছাড়া একেবারে ই অচল, তাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কম্পিউটার শিক্ষার উপরে বিশেষ  জোর দিয়েছেন, তারই ধারবাহিকতায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারন আজকের দেশের প্রতিটি সেক্টরে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে (হাতে গোনা কয়েকটি সেকটর বাদে) কম্পিউটার এর উপরে পারদর্শি লোকবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এমনকি নিয়োগ সার্কুলারে ও কম্পিউটার জানা আবশ্যক লিখে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের হাজার হাজার তরুন তরুনী কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে লক্ষ লক্ষ ডলার ইনকাম করতে পারছে শুধু মাত্র কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে। এতে করে যেমনি বাংলাদেশের রেমিটেন্স বাড়তেছে, সাথে সাথে বেকারত্ব ও হ্রাস পাচ্ছে।
তাই আমি মনে করি মঠবাড়িয়াতে সরকারি পৃষ্টপোষকতায় একটি উন্নত মানের কম্পিউটার প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। যেখান থেকে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম অনেক এগিয়ে যেতে পারবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে মঠবাড়িয়ার তরুন প্রজন্ম ও বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ পাবে।

পৃথিবী আজ বিশ্বায়নের এমন চরম উৎকর্ষতায় পৌঁছেছে যখন প্রতিটি সচেতন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বিশ্বব্যাপী মিলিয়ন মিলিয়ন ওয়েবসাইট বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের ভার্চুয়াল মুখপাত্র অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে একটি ওয়েবসাটের গুরুত্ব কতটা, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করাটা কঠিন। যেসব ব্যক্তি, সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই সেসব প্রতিষ্ঠানকে আর স্মার্ট বলা হচ্ছে না কারণ সেসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। ওয়েবসাইট হচ্ছে এমন একটি প্রচার মাধ্যম যেখানে একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান অত্যান্ত স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে বিশি সংখ্যক মানুষের কাছে নিজেকে কিংবা তার প্রতিষ্ঠানের তথ্য সেবার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে সক্ষম।

► ২০১৫ সালের জুলাই মাসের দিকে আমি মঠবাড়িয়ায় আসি, সরকারি একটা প্রজ্ঞাপন দেখে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিলো যে দেশের প্রতিটি (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডায়নামিক ওয়েবসাইট করতে হবে, সেই লক্ষ্যে কাজ ও শুরু করি মঠবাড়িয়া সহ পার্শবর্তি উপজেলা পাথরঘাটা তে। এবং এই দুই উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠান কে তথ্য সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপ করে দেয়ার ব্যাবস্থা করি আমার প্রতিষ্ঠান ইসফট ইজি . কম (ESOFTEASY.COM) এর মাধ্যমে। কাজ করতে গিয়ে আমি সহ প্রতিষ্ঠান গুলো যেসকল প্রতিবন্ধকতার সম্মুক্ষিন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ২ টি কারন হচ্ছে
(০১) অনেক প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা ই নেই।
(০২) মঠবাড়িয়ার প্রতিটি এলাকা এখনো থ্রি জি (3G) ইন্টারনেটে কভারেজের অন্তর্ভুক্ত হয় নাই।

যার পরিপ্রেক্ষিতে সকল প্রতিষ্ঠান ওয়েবের আওতায় আসলে ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ই বিদ্যুৎ না থাকা ও থ্রি জি ইন্টারনেট কভারেজের আওতায় না পরায় প্রতিনিয়ত ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ করতে পারতেছে না বিধায় সরকারের মূল লক্ষ্য বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

► একটি উপজেলার সর্ববৃহত প্রশাসনিক দপ্তর হচ্ছে সেই উপজেলার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসাভা, আমাদের মঠবাড়িয়ার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা এখনো ডিজিটালাইজশন থেকে একটা টা ধাপ পিছিয়ে রয়েছে, কারন একটি উপজেলা ডিজিটাল রুপে গড়ে তুলতে হলে প্রথমে তার নিজস্ব দপ্তর গুলোকে ডিজিটাল করতে হয়। আমার মতে আমাদের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদে ও পৌরসাভাতে ও এমন একটি ওয়েবসাইট থাকা বাঞ্ছনীয়, যেখানে মানুষ উপজেলা পরষদ বা পৌরসভার সমস্ত তথ্য এক ক্লিকের মাধ্যমেই পেতে পারে। যেমন ধরা যাক এই সকল দপরের বর্তমান ও অতীতের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের  ছবি সহ তথ্য। প্রতিষ্ঠানের বাজেট বিবরনী, প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বা কার্য্যবিবরনী, ই-টেন্ডার, এই সকল দপ্তর থেকে জারী করা বিভিন্ন নোটিস সমূহ, এবং সকল উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড বিবরনী। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের ওয়েবে থাকবে প্রতিটি ইউনিয়েনর আলাদা আলাদা বিবরনী, যেখানে ওই সকল ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সকলের ছবিসহ তথ্য ও কার্য্যবিবরনী উল্ল্যেখ থাকবে।

আমি মনে করি এমতাবস্থায় যদি এই সকল ওয়েবসাইট করা ও তথ্য হালনাগাদ করা না হয় তাহলে বাংলাদেশ সরকারের ভিশন ২০২০ বাস্তবায়নে মঠবাড়িয়া অনেকাংশে পিছিয়ে পরবে, বা সংশ্লিষ্ট মহল যদি আশু পদক্ষেপ গ্রহন না করেন তাহলে ভবিষ্যতে ও মঠবাড়িয়া অন্য সকল উপজেলার চেয়ে পিছিয়ে থাকবে।

সর্বশেষে আমি মঠবাড়িয়ার সংশ্লিষ্ট মহলকে অনূরোধ করবো বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মঠবাড়িয়াকে সুন্দর, স্বনির্ভর ও  ডিজিটাল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

 

মোঃ আলী রেজা রনজু, প্রধান নির্বাহী, ESOFTEASY.COM। ফেসবুকঃ fb.com/alirezaranju
লেখক > মোঃ আলী রেজা রনজু, প্রধান নির্বাহী, ESOFTEASY.COM। ফেসবুকঃ fb.com/alirezaranju

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন