­­­­­­দেবদাস মজুমদার >

পথের ধারে আমাদের জীবধারনে নান গাছ পালা আর লতা বেড়ে ওঠে। প্রকৃতিগতভাবেই চারপাশে অনেক দরকারী উদ্ভিদ জন্মে। তবে সবকিছু চেনা জানা হয়না। ভেষজ অনেক উদ্ভিদ আমাদের শরীরে ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। ইউনানী আর কবিরাজি বিশেষজ্ঞরা ভেষজ উদ্ভিদ ভাল চেনেন। অনেক স্ব-শিক্ষিত কৃষকও চেনেন। আমাদের উদ্ভিদের গুনাগুণ জানা জরুরী। কেননা দরকারী এসব উদ্ভিদ আসলে আমাদের শরীরের রোগব্যাধির ওষুধ ।0-4

পথে চলতে গিয়ে অজানা কত উদ্ভিদের ফুল দেখে আমরা মুগ্ধ হই। দরকারী এসব ফুল ও লতা পাতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত। কেননা প্রাণ ও প্রকৃতি আমাদের জীবনধারনে দরকারী। কোন কোন উদ্ভিদ মাদবদেহের শক্তি বলের মহৌষধ হিসেবে কাজে লাগে।

উপকূলীয় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সড়কের পাশে কিছু দুই একটি উলট কম্বল গাছের দেখা মেলে। এসব উলট কম্বল উদ্ভিদ প্রকৃতিগতভাবেই বেড়ে উঠেছে।উলট কম্বল ফুল মূলত বর্ষার ফুল। এখন শরতে এ ফুল টিকে ধাকবার কথা নয়।কাঁঠালিয়া উপজেলা সদর হতে এক কিলোমিটার দুরে একটি মোবাইল টাওয়ারের সম্মূখ সড়কের পাশে একটি ‍উলট কম্বল গাছে একটা ফুল ঝড়ে পড়ার অপক্ষোয় ছিল। মেরুণ রঙে দারুণ শোভন এই উলট কম্বল ফুল। 0-5

ওলট কম্বল, এটিকে অনেকে Devil’s Cotton বলেও চেনে কারন এই গাছের হুল চামরায় জালা ধরায়। এটির বৈজ্ঞানিক নাম Abroma augusta, ঔষধি গাছ হিসাবে পরিচিত এই গাছটি পাওয়া যায় এশিয়ার সর্বত্র। সাধারণত এপ্রিলের শুরুর দিকে এই গাছে ফুল ফোটা শুরু হয়। ওলট কম্বল মানবদেহের শক্তি বলের ঔষধি গাছ।

অন্যান্য স্থানীয় নাম: ওল্টকম্বল

বৈজ্ঞানিক নাম : Abroma auguusta

পরিবার : Sterculiaceae/ Malvaceae

ওলট কম্বল গাছ ৮ থেকে ১০ ফুট লম্বা হয়। বেশি মোটা হয় না। গাছের ছালে রেশমের মতো আঁশ থাকে, ফুলের রঙ মেরুন। ফল পঞ্চকোণবিশিষ্ট লোমাবৃত। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে ধূসর বর্ণের হয়। এর পাতা, গাছ ও মূলের ছাল ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।0-2

বিশেষ করে মেয়েদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয় অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম পরিমাণ হয়ে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ওলট কম্বল একটি পরীক্ষিত ওষুধ। এর মূলের ছাল থেকে এক ধরনের আঠাজাতীয় রস বের হয়, যা গর্ভাশয়ের শক্তি বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে বন্ধ্যত্ব রোগীদের ক্ষেত্রে উলট কম্বলের মূলের ছাল ভিষন উপকারী। পাতা ও কাণ্ডের রস গনোরিয়া রোগে বিশেষ উপকারী। দীর্ঘদিন থেকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব, জরায়ু সংক্রান্ত রোগ, বন্ধ্যত্ব, ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কার্যকর এটি। এ থেকে তৈরি ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
ওলট কম্বল, শুলফা বীজ, আওবেল, সারাকা ইন্ডিকা, চায়নারুট, শুকনা পুদিনা, শিয়ালকাঁটা, কপচিনি, জটামাংসী, তজ, বড় এলাচসহ অন্যান্য উপাদান নিয়ে ওষুধ তৈরি করা হয়।0-1

ওলট কম্বল গাছের পরিকল্পিত আবাদ তেমন চোখে পড়েনা। সাধারণত গাঁয়ের গৃহস্থ বাড়িতে অনেকেই প্রয়োনীয় ওষুধি বলে দুই একটি গাছ রোপন করে থাকে। এছাড়া সড়কের পাশে মাঝে মাঝে দুই একটি গাছ চোখে পড়ে। ওলট কম্বল থেকে মানুষের নানা রোগের উপশমের ওষুধ মেলে। তাই পরিবেশে বান্ধ ওলট কম্বল গাছ রোপন করা উচিত।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন