মো. গোলাম মোস্তফা  >

পত্র পত্রিকায় প্রতিনিয়ত দুঃসংবাদ ছাড়া ভাল সংবাদ খুব একটা চোখে পড়ে না । কিন্তু অতি সম্প্রতি কয়েকটি ছোট ছোট মহৎ কাজের সংবাদ পড়ে আশাবাদি হয়েছি। তাই  ঈদ-উল-আযহার উৎসব শেষে পাঠকদের শুভেচ্ছা স্বরুপ আজকের লেখা নিবেদন করছি ।“ মঠবাড়িয়া” একটি উপজেলা, তা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি অন লাইন পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশের অন্য কোন উপজেলা সদর থেকে প্রকাশিত হয়  কিনা আমার জানা নেই । এটি আমাদের মঠবাড়িয়ার মাটির উর্বরতারই ফসল । এজন্য আমরা গর্ব বোধ করতে পারি, গর্ব করতে পারি এর পিছনের লোকগুলোকে নিয়েও । আর এর বদৌলতে  মঠবাড়িয়াসহ আসে পাশের  এলাকার নিজ বাড়ির সকল প্রকার খবরা খবর প্রতিনিয়ত খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা মানুষগুলো । তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি আমাদের প্রচেষ্টায় এর ভাল ব্যবহারের দিকটিও ঈর্ষান্নিত কম নয় । আর তাই এর পিছনে যারা আছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি প্রশংসিত কাজের কথা উল্লেখ না করলেই নয় । হোক সেগুলো ক্ষুদ্র, তথাপি ভাল কাজের প্রশংসাতো করতেই হয় । অতি সম্প্রতি “ছোট্ট মনুদের জন্য ভালবাসা” র সংগঠন ও মঠবাড়িয়ার সকল স্থরের সাংবাদিক ভাইদের প্রচেষ্টায় একটি মহৎ কাজ! সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে, এতে করে জন সচেতনাও বৃদ্ধি পায়  বৈ-কি ! দিনমজুর বাবার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী সেতু আক্তার যাত্রীবাহী  টম টম উল্টে দুর্ঘটনার গুরুতর আহত হয়ে টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছিলনা । এমন সময়ে মঠবাড়িয়ার কতিপয় যুবকের আন্তরিকতার বহিপ্রকাশ “ছোট মনুদের জন্য ভালোবাসা” র সংগঠনটি পথ চলার শুরুতেই বিপন্ন  শিশুটির পাশে দাড়ায়।  এমন একটি সুন্দর ও মহতি উদ্যোগ নেওয়ায় এবং মঠবাড়িয়ার প্রতিটি সাংবাদিক তাঁদের পত্রিকায় সংবাদটি প্রচার করায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতায় অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৪৩,৫০০/ টাকা সহায়তা মেলে ।  সেতুর বাবা অতি দরিদ্র বেল্লাল শাহ কান্নাজড়িত কন্ঠে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন । সেতুর সঠিক চিকিৎসা করাতে পারবেন বলে সহযোগিতা করায় মঠবাড়িয়ার প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সকল পত্রিকার সম্পাদক, সকল সাংবাদিক ও “ ছোট্ট মনুদের জন্য ভালোবাসা” র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সকলকে  ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ।  কাজটি ছোট হলেও এটি ছিল মহৎ ও সমাজের জন্য সুন্দর একটি ম্যসেজ, এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই ।

অতি সম্প্রতি আরও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট সুন্দর কাজ মঠবাড়িয়ার সাংবাদিকরা করে যাচ্ছেন, যা হয়তো অনেকের চোখের আড়ালেই রয়ে যাচ্ছে । বেশ কয়েক বছর যাবৎ পবিত্র ঈদের পূর্বে কিছু সংখ্যক গরীব অসহায় দুস্তদের মাঝে নুতন কাপড় ও সেমাই, চিনি সহ খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে  মঠবাড়িয়ার প্রেস ক্লাবের সভাপতি, সম্পাদক ও সাংবাদিকবৃন্দের সহযোগিতায় । প্রতি বছর শীতে কিছু সংখক কম্বল গরীব দুখিদের মাঝে বিতরন করা হয় । ঢাকার পল্টনে “ শিশুদের জন্য সুন্দর পৃথিবী “ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা  জহিরুল ইসলাম গরীব শিশুদের মুখে সপ্তাহে একটি দিন খাবার বিতরন করে থাকেন তাই বা কম কিসে !

জাগো লক্ষ নূর হোসেন নামে সামাজিক সংগঠনের আহ্বায়ক সবুজ রাসেল  এর মঠবাড়িয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বৃক্ষরোপনের কর্মসূচির উদোগ নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবি রাখে।

এছাড়া মঠবাড়িয়া কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন শিক্ষক  খাদেম আলী খন্দকার  স্যারের অসুস্থতার সংবাদ  মঠবাড়িয়ার অনলাইন মিডিয়ায় প্রচার পাওয়ায়  স্যারের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা  তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ।  উপরে উল্লেখিত কাজ গুলো জিনি বা যারা করে যাচ্ছেন নিরবে একনিষ্ঠ ভাবে,  তাঁদেরকে  আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই । আমার বিশ্বাস এই ছোট ছোট শুভ কাজগুলো একসময়ে মহীরুহুতে পরিনত হবে ।  সকলের  অব্যহত প্রচেস্টার মাধ্যমে শুভ কাজ গুলো টিকে থাকবে ।

আশা করছি এমনিভাবে মঠবাড়িয়াতে আরও অনেক ছোট ছোট সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত গরীব দুঃখী মেহেনতি মানুষ গুলো উপকৃত হবে । “ছোট মনুদের ভালবাসা” বা “শিশুদের জন্য সুন্দর পৃথিবী” এবং এরকম সংগঠন গুলো সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রিশন করে এক  একটি ট্রাস্ট হিসাবে আত্ত প্রকাশ করতে পারে । তবেই এর ব্যপকতা ও বিস্তৃতি সমাজে ছড়িয়ে পড়বে ব্যপক ভাবে এবং দাতাদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে । সারা বছর চাঁদা তুলে নীতি নিয়মের মধ্যে ট্রাস্টগুলো পরিচালিত হতে থাকলে এর কলেবর বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজের বেশী সংখ্যক গরীব দুঃখী অসহায় শিশুরা বিভিন্ন প্রকারের সহযোগিতা পেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে এবং গরীব মেধাবী শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসা সহযোগিতায়ও আসতে পারেবে ।  সংঙ্গঠনের শুভ উদ্যোক্তাদের  প্রতি আবেদন , আপনারা সামনের দিকে এগিয়ে যান, সংগঠন গুলো ট্রাস্টে রুপান্তর করার চেস্টা করুন।  নীতিমালার মধ্যে পরিচালনা করলে সংগঠনের কারও মৃত্যু হলে বা কোন কারনে কেউ চলে গেলেও ট্রাস্ট চলবে অনন্তকাল আর এর সুফল পাবে সমাজের বঞ্চিত শিশুরা ।

এমন শুভ কাজের  প্রত্যাশায়  আপনাদের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য  ব্যাক্তিগতভাবে ও মঠবাড়িয়াবাসির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, পাশাপাশি স্বচ্ছল ব্যক্তিদেরকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে সামাজিক সংগঠন গুলো টিকিয়ে রাখার আহবান জানাচ্ছি।

ধন্যবাদ সকলকে ।

লেখক >  মানব সম্পদ  ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মাছরাঙা টেলিভশন ।

 

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন