মাইনুল ইসলাম <>

বিপ্লব স্পন্দিত বুক আর পিঠকে জীবন্ত পোস্টার বানিয়ে গনতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করা স্পর্ধিত তারুন্যের প্রতিক শহীদ নূর হোসেন। সব অর্জনের পিছনেই ত্যাগ থাকে বা থাকতে হয়। স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনে ত্যাগীদের মধ্য নুর হোসেন ছিলেন ব্যতিক্রম।নিশ্চিত মৃত্যর মুখেও ছিলেন পাহাড়ের মতো অবিচল। ঝাঁকড়া চুলের উদাম শরিরের সেই জীবন্ত পোস্টারের কারনেই পতন হয়েছিল স্বৈরাচারের,পুনরুদ্ধার হয়েছিল গণতন্ত্র। মঠবাড়িয়ার সন্তান হিসেবে আমাদের আমাদের করেছেন গর্বিত। শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করছি নুর হোসেন সহ স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনে সকল শহীদদের।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছিলেন— ‘ময়েজ উদ্দিন, তিতাস, রমিজ, বসুনিয়া, চুন্নু এমনি হাজারো আত্মাহুতির প্রয়োজন হলো গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার লড়াইয়ে। উদাম নূর হোসেন যেদিন বুকে-পিঠে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” লিখে জীবন্ত পোস্টার আর সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদ হয়ে আমাকে সালাম করে বলল, “আপা, আমাকে দোয়া করবেন” ভীষণভাবে আঁতকে উঠেছিলাম আমি। আতঙ্কে চিৎকার করে বলেছিলাম, “শার্ট পরো এই ছেলে, শার্ট পরো।” বারণ মানেনি সেদিন বীরপ্রসূ বাংলার বীর সন্তান নূর হোসেন। এগিয়ে গিয়েছিল সামনের দিকে। তার এ অগ্রযাত্রা ছিল হয়তো গণতন্ত্রের দিকে। কিন্তু সামরিক স্বৈরাচারের বন্দুকের গর্জনে ঢলে পড়েছিল নূর হোসেন। ঘাতক বুলেট নিথর, নিস্পন্দ, স্তব্ধ করে দিয়েছিল সেই সচল প্রতিবাদকে। সেই জীবন্ত গণতন্ত্র প্রেমিক পোস্টারকে।”

শামসুর রাহমান লিখেছিলেন: ‘উদোম শরীরে নেমে আসে রাজপথে, বুকে-পিঠে রৌদ্রের অক্ষরে লেখা অনন্য স্লোগান, বীরের মুদ্রায় হাঁটে মিছিলের পুরোভাগে এবং হঠাৎ শহরে টহলদার ঝাঁক ঝাঁক বন্দুকের সীসা নূর হোসেনের বুক নয় বাংলাদেশের হৃদয় ফুটো করে দেয়; বাংলাদেশ বনপোড়া হরিণীর মতো আর্তনাদ করে, তার বুক থেকে অবিরল রক্ত ঝরতে থাকে, ঝড়তে থাকে।’

শহীদ নূর হোসেন স্মৃতি রক্ষায় আপনারা যারা কাজ করে যাচ্ছেন সবাইকে লাল সালাম।

আপনাদের প্রচেষ্টা স্বার্থক হোক এই প্রত্যাশায়।

লেখক <> মাইনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, ফিনল্যাণ্ড আওয়ামীলীগ ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন