ছোটবেলায় আমার দাদীর মুখে পঞ্চমুখী কচুর কথা খুব শুনতাম। আমার দাদীর বাবা বাড়ি তুষখালী পঞ্চায়েত বাড়িতে নাকি এই কচু বড় চিংড়ি ও ম্যাদ মাছের কাটা দিয়ে রান্না করা হতো! আমার বাবার নানা আছমত আলী পঞ্চায়েত নাকি এই রান্না খুব পছন্দ করতেন! খেতেও নাকি খুব সুস্বাদু ছিল ( কখনও গলাও চুলকাত) আমিও ছোটবেলায় খেয়েছি কিনা বলতে পারবো না! তবে বর্তমান রাজনীতিতে কিছু ধুর্ত পঞ্চমুখ দেখে আমার সেই পঞ্চমুখী কচুর কথাই মনে পড়লো! আমরা আরো একটা বিষয় জানি ধুর্তবোকারা নাকি যে ডালে বসে সেই ডালই কাটতে বসে! আমার অবাক লাগে বি এন পি’র মত একটা বড় রাজনৈতিক দল আজ পঞ্চমুখী কচুর দ্বারা গলা চুলকাচ্ছে! এক্ষেত্রে এই চুলকানী কিছুটা কমাতে পারতো বাঘা তেতুল!! কিন্তু তেতুল যে এখন টকত্বর চেয়ে মিষ্টত্বই বেশি! বি এন পি রাজনৈতিক দলককে আমি খুব বেশি পর্যালোচনা করার সুযোগ হয়নি! হয়তো এখন সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত না বলে। তবে এই দলটার প্রতি আমার বাংলাদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকের দল হিসেবে শ্রদ্ধা আছে। তবে তিনি ক্ষমতায় কিভাবে এসেছেন এবং ক্ষমতায় এসে কিভাবে বাংলাদেশের মুকুট( জাতীর পিতা) হত্যাকারীকে আশ্রয় ও সমর্থন করেছেন সেই প্রশ্ন, সেই তীর এই বি এন পি দলের প্রতি দেশবাসীর আছে ; আছে দেশ বিরোধী রাজাকারকে রাজনৈতিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্ন! কিন্তু তার পরও ছোট দুই ছেলেকে শুন্য হাতে নিয়ে যিনি রাজনীতির মাঠে নেমে বি এন পি দলটাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এলেন আজ তিনি জেলে আর তার গড়া দলের ডালে বসে যখন কিছু বসন্তের কোকিল বলে, ” আমি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না”!! হে বিবেকবান বি এন পি নেতাগণ আপনরা কি সেই ধুর্ত কাদের সিদ্দিকীকে একবারও বলেছেন যে, খালেদার মুক্তি চান না তো খালেদার প্লাটফর্মে কেন এলেন? নাকি নৌকায় ওঠার যোগ্যতা হারিয়েছেন? অবাক লাগে বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করা এই সকল লোক যখন ভোল পাল্টে বি এন পির ঘাড়ে বসে বি এন পির মাথা চেপে ধরে তখন আমার দুঃশ্চিন্তা হয় আল্লাহ না করুন আজ যদি জননেত্রী শেখ হাসিনা না থাকেন তাহলে হয়তো আমরা আওয়ামীলীগেও এরকম অনেক পঞ্চমুখী কচু দেখতে পাবো! আর এরা যে দুদিন পর অন্য কোন ঘাড়ে বসবে না তার কোন গ্যারান্টি আছে? তাই আমার মনে হয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের যদি তার দলের প্রতি শতভাগ বিশ্বাস ও নিরাপদ রাখার মানসিকতা না থাকে তাহলে তাদের রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া উচিৎ! তবুও একটা সম্মান থাকে! কিন্তু আজ যারা দুই তিনটা ভোট পায় না শুধু টক শো বাজীর উপর ক্ষমতা দেখায় তাদের নিয়ে আপনারা ঐক্য করেন? কিন্তু জানেন তারা নিজেরাই জানে না তাদের মনের কথা আর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে যে কথা বলছেন তার মধ্য কোন সামঞ্জস্যতা নেই? কি মনে করেন প্রধাণ মন্ত্রী এই কটা মোটামাথাকে তাঁর প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দিয়ে বসে আনতে পারেন না? পারেন!! হয়তো হতেও পারে! রাজনীতিে শেষ বলে কিছু নেই! কিন্তু আমার মনে হয় শেখ হাসি না তা করবেন না! কারণ আজ তিনি এই দেশকে যে অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন তাতে এমন পঞ্চমুখী না হলেও কোন প্রভাব ” নৌকার” পড়বে না! আমার শুধু তৃণমূল বিন পি নেতা কর্মিদের কাছে একটা প্রশ্ন আপনারা কিভাবে আপনাদের দলের নীতি ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি এমন জোটকে মেনে নেন? ১৪’র নির্বাচনে না এসে আপনাদের যে ভুল ছিল তারই একটা ধারাবাহিক ভুল হলো বি এন পির আজীবন দায়ীত্বে থাকা নেতাদের বাদ দিয়ে ভাঙ্গা কুলা দিয়ে জোট করে নির্বাচনী পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করছেন! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আপনারা আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে আপনাদের দাবী তুলে ধরেন দেখবেন আপনারা সফল হবেন! একটা দেশ যদি একজন শাসক দ্বারা যুগের পর যুগ শান্তিপূর্ণ ভাবে চলে, যদি দেশের উন্নতি হয়, যদি তৃতীয় শক্তি দমন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারেন তাতে ক্ষতি কোথায়? হ্যা হতে পারে ক্ষমতার প্রশ্ন! সেটাও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জন করে তা ভোগ করা যায়! কিন্তু সেটা যদি হয় ২১ আগষ্ট, তাহলে কোথায় থাকে সেই বিশ্বাস? কোথায় থাকে সেই পরিস্থিতি? আমাদেরকে ভাবতে হবে ২১ আগষ্টে শেখ হাসিনা মারা গেলে কে বা কারা Beneficiary হতো! তাহলে তারাই এই দায়ভার নিবেন? তাই আমরা চাইনা এই ধরণের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়ে কোন রাজনৈতিক দল ভাঙ্গনের মুখে পড়ুক! বসন্তের কোকিলরা একটা নির্দৃষ্ঠ সময়ের জন্য সুর দিবেন! তবে বসন্ত গেলে আর নয়! তাই কাক যদি দেখতে খারাপও হয়, থাকে যদি সে নর্দমায় তবুও আমি বলবো কাক প্রয়োজনীয়! বর্তমান এই দুটো ছবি ও তাদের উক্তি আমার মনে হয় সব রাজনৈতিক দলের জন্য একটা ভবিষ্যৎ ম্যাসেজ! পঞ্চমুখী খেতে ভালোলাগলেও তা কিন্তু কখনও খুব গলা চুলকায়…..!
-রুমানা রুমা, লেখিকা ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন