মো. মেহেদী হাসান বাবু >>

পিরোজপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে (১২৭, ১২৮ ও ১২৯) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পিরোজপুর-২ আসনে ইতিমধ্যে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সরকারের বন ও পরিবেশমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপিকে। তবে অন্য আসনে বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি তৎপরতা চালাচ্ছেন বেশ কয়েক নতুন মুখ। এর মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক নেতাও। এ ছাড়া বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনী যুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না চালালেও গোপনে গোপনে চলছে জামায়াতের প্রচারণাও। জানা গেছে, পিরোজপুরে অন্তত দুটি আসনে জামায়াত প্রার্থী দিতে পারে। পিরোজপুর-১ : সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ— এ তিন উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-১ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এখন পর্যন্ত আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল এমপি। এ ছাড়াও এ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম এবং আওয়ামী লীগ দলীয় পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক। যিনি এমপি আউয়ালের আপন ভাই।এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলম এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সাকিব বাদশাও নৌকা প্রতীকপ্রত্যাশী। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার জন্য জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ব্যাপক তৎপরতা চালিছে যাচ্ছেন। বসে নেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী এলিজা জামান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফখরুল আলম ও জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। সবাই নিজেদের মতো করে দলের প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এ ছাড়া এ আসনে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীও প্রার্থী হতে পারেন। পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানি) : এ আসনে বর্তমান এমপি বন ও পরিবেশমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। জেপি মহাজোটে থাকার কারণে সম্প্রতি ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম ভাণ্ডারিয়ায় এক সমাবেশে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে ১৪ দলের প্রার্থী ঘোষণা দেন। এ কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে আর কোনো প্রার্থী উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। বিএনপি থেকে সাবেক মন্ত্রী নূরুল ইসলাম মঞ্জুর ছেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দুবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবীর ও যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপি নেতা একেএম রেজাউল করিম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ইন্দুরকানি উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ বিন সাঈদীও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি জোটের শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রার্থী হিসেবে অনেক আগে থেকেই মাঠে নেমেছেন। পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) : এ আসনে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী পরাজিত হয়েছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজীর কাছে। ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র এমপি জাতীয় পার্টিতে(এরশাদ) যোগদান করেছেন । ফলে তিনি এখন লাঙল প্রতীকে  নির্বাচনী প্রচারণা  চালাচ্ছেন। 

এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চিকিৎসক নেতা ডাঃ এম নজরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডাঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র রফিউদ্দীন আহমেদ ফেরদৌস, এছাড়াও রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুব লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ তাজ, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহানাজ পারবীন ডলি প্রার্থী হতে আগ্রহী। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন, জেলা বিএনপির সদস্য কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন দুলাল, পৌর বিএনপি সভাপতি কেএম হুমায়ুন কবির এবং মত্স্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন