মঠবাড়িয়া  প্রতিনিধি >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বরের নাদের অব্যাহত ভাঙ্গনে বড়মাছুয়ার স্টীমার ঘাটসহ ৮টি বসতঘর ও দোকান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ঢাকা ও খুলনা থেকে আসা স্টীমারের যাত্রী সাধারণের তীরে উঠতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বলেশ্বরের অব্যহত ভাঙ্গনে স্টীমারের টিকেট বুকিং কাউন্টারসহ ৩টি দোকান যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া ঢাকা ও খুলনা হতে আসা স্টীমারের যাত্রীরা ওঠানামায় চরম দুর্ভোগের স্বীকার হয়।
গত শনিবার ও রোববারের অব্যহত ভাঙ্গনে বড়মাছুয়া স্টীমার ঘাটের পল্টনের সিড়ি, ৩টি বসত ঘর ও ৬টি দোকান ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের ট্রলারের মাধ্যমে স্ট্রীমারে উঠতে হচ্ছে।
এদিকে ঘাট সংলগ্ন দোকানের মালামাল হারিয়ে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ও বসত ঘর হারিয়ে ৩টি পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাতে বড় মাছুয়া স্ট্রীমার ঘাট এলাকা হঠাৎ করে ভাঙ্গনের কবলে পড়লে স্টীমারের পল্টনে ওঠার সিড়ি ও ৩টি বসতঘরসহ ৬টি দোকান বলেশ্বরে বিলীন হয়ে যায়।
এতে ব্যবসায়ী হাবিব হাওলাদার (৬০), আ. মালেক (৫০), হানিফ বেপারী (৬৫), জাহাঙ্গীর হাং (৪০), আল আমিন (৩০), বেল্লাল (৩৫), আ. খালেক আকন (৬০), শাহিন (৩৫) ও কৃষকের আইপিএম ক্লাব ঘর সম্পূর্ণ পল্টনের নিচে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এসময় নিজের দোকান ঘরে থাকা ব্যবসায়ী হাবিব হাওলাদার ও স্থানীয় ছলেমান মাটি চাপা পড়ে আহত হন।
ঢাকা হতে স্টীমার যোগে আসা যাত্রী ফারুক হাওলাদার জানান, পল্টনের সিড়ি বিলীন হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে উপরে ওঠতে হয়েছে।
ব্যবসায়ী মালেক খান জানান, গত ৩০ বছর ধরে বেড়ী বাধের বাইরে ঘাট সংলগ্ন হোটেল ও মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু নদী ভাঙ্গনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ী চলে যাওয়ায় সে এখন স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
স্ট্রীমার ঘাটের সারেং আলী আজম জানান, ১৯৮৮ সালে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক নির্মিত ঘাটটির মাটিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। শনিবার রাতেই হঠাৎ করে সেই ফাটল ধরেই দোকান ও বাসাবাড়ী নিয়ে ঘাটের সিড়ি সহ নদী গর্ভে সব বিলীন হয়ে যায়। বড়মাছুয়া স্টীমার ঘাটের টার্নিমাল সুপারিনডেন্ট ফেরদৌস আহমেদ বলেন, দৈনিক দুটি স্টীমার এই ঘাট থেকে ঢাকা ও খুলনা রুটে চলাচল করে। ঘাট ও সিড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের পারাপারের জন্য তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউ,পি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার জানান, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন