মো. গোলাম মোস্তফা >>
কি হবে, কি হতে যাচ্ছে অক্টোবরে? রাস্তায়, ফুটপাতে, দোকানে,সেলুনে, হাটে-বাজারে, রিকশায়, বাসে সর্বত্র একই কথা, কি হতে যাচ্ছে অক্টোবরে? ১৭ কোটি নাগরিক সবাই কি রাজনীতি সচেতন! মাঝে মাঝে নিজেকে বোকা মনে হয়! রিকশায় উঠলে প্রশ্ন, সেলুনে গেলে প্রশ্ন এমনকি কাচা বাজারের সব্জী বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতারও একই প্রশ্ন নির্বাচন হবেতো? ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন সকলের! কারণ কি? কারণ ১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনকে মাথায় রেখেই হয়ত মানুষের এমন প্রশ্ন? তখন ১৫৩ টি আসনে বিনা প্রতিদন্ধিতায় সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় এমন প্রশ্নের অবতারণা! যদিও তখন ইলেকশন কমিশন বলেছিলেন ৪০% ভোট পড়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হল ১৮ র ডিসেম্বরের শেষে কি হবে? রাজনৈতিক ভাবে দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। AL (আওয়ামীলীগ) AAL (এন্টি আওয়ামীলীগ)।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডাঃ বদরুদ্দোজা, ড. কামাল হোসেন, আব্দুর রব, মাহামুদুর রহমান মান্না, কাজী জাফরুল্লাহ পরবর্তিতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সহ আরো অনেকে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চায় যোগ দেবেন এবং তারা BNPকে জামাত ছেড়ে দেবার প্রস্তাব দিয়েছেন, আরো কিছু প্রস্তাবের মধ্যে আছে তাদের ১৫০ সিট দিতে হবে। শোনা যাচ্ছে সকল প্রস্তাবেই BNP নমনীয় হয়েছেন। উল্লেখ্য, যাদের সমন্নয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছে বা হচ্ছে তাদের ব্যাক্তি ইমেজ থাকলেও মাঠে ময়দানে দু’একশ ভোট আছে বলে মনে হয়না। তবে চিন্তার বিষয় অন্যত্র। ড. কামাল হোসেনের খ্যাতি বিশ্বব্যাপী বিধায়, বিদেশে তার গ্রহনযোগ্যতা ব্যপক মাত্রায় এটি অস্বীকার করার যো নেই। তাই এবারের নির্বাচনে বিদেশী চাপ একটু বেশীই থাকবে, যাতে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন হয়। সম্ভবত সরকারও বিষয়টি ভিতরে ভিতরে ভাবছেন না তা নয়। যেহেতু, সরকারের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিনিয়ত মাঠের রিপোর্ট সংগ্রহ করছেন এবং তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করছেন। তথাপি সরকারের মাথাব্যথার অন্ত নেই। জনগণকে আস্থায় নিয়ে জাতিকে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়াই সরকারের মূখ্য ও মূল দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছে।
হাতে সময় খুবই কম।। AAL(বিরোধী জোট) মরিয়া হয়ে আছেন। সকল প্রকার সুযোগ কাজে লাগাতে তারা চেষ্টা করবেন। BNP র এক বড় নেতা, যিনি আগে বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন একসময়ে এরশাদ সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। সিনিয়র এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, নির্বাচন হবে কি? উত্তরে বলেছেন অসম্ভব। পরের প্রশ্ন ছিল BNP নির্বাচনে অংশ নেবে কি? উত্তরে বলেছেন, অসম্ভব। প্রশ্ন ছিল, গণতন্ত্র প্রক্রিয়ার বাহিরে ক্ষমতায় যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে কি? উত্তর ছিল, না। বললেন অপেক্ষা করুন অক্টোবরে সব পরিস্কার হবে। কি পরিস্কার হবে তা তিনি বলেন নি।
এদিকে শরিয়তপুরে নদী ভাঙ্গন কোনভাবেই থামছেনা। ইতিমধ্যে ১২/১৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বাদ যায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বীমা মসজিদ মন্দির এমন কি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিও। এলাকার হাজার হাজার পরিবার  মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছেন। জাতীয় নির্বাচন সমাগত, রাজনৈতিক কারণে শরিয়তপুরের নদী ভাঙ্গনের দিকে দৃষ্টি তেমন করে কেউ নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছেনা।  যদিও ইতিমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন । নদীর পানি কমা শুরু হলে ব্যবস্থা নেবেন বলে, আশ্বস্থ করেছেন।
এখনো পর্যন্ত BNP র কোন নেতা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন নি। ভাঙ্গন শুধু নদীতে নয়, ভাঙ্গন রাজনীতিতেও শুরু হতে দেখা যাচ্ছে। পত্র পত্রিকা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডয়ায় সরব হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত বড় বড় নেতা নেত্রীদের। এতদিন যারা মুখে কুলুপ এটেছিলেন তারা কোলা ব্যাঙ এর ঝাপি খুলে লম্ফঝম্প শুরু করে দিয়েছেন। বিদেশী (কাছের দূরের) বন্ধুরাও এবারে একটা স্বচ্ছ নির্বাচনই বাংলাদেশে আশা করছেন। কেউ নগ্ন হস্তক্ষেপ করবে বলেও মনে হয়না। জনগণের পাল্লা যে দিকে ভারী হবে সেদিকেই বিদেশীরা থাকবেন এমনটিই মনে হচ্ছে। সরকারও নিজের দিকটি ঠিক রেখেই স্বচ্ছ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে চাইবেন।
শেষ কথা বলে রাজনীতিতে কিছু নেই, তাই আমরাও উত্তর পারার দিকে নজর না দিয়ে “অক্টোবরের” দিকেই তাকিয়ে রইলাম। টানেলের অন্ধকার গহব্বর থেকে বেড়িয়ে স্নিগ্ধ আলোর ছটা জাতির গায়ে লাগুক এ কামনা আমার মত ১৭ কোটি আম জনতারও।।
লেখক > প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মাছরাঙা টিভি।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন