সমস্যা প্রথমে সামাজিক পরে আইনশৃংখলা আর এর ভেতরে রাজনীতির মারপ্যাচ ! এসবের মধ্যে আবার শিক্ষার পরিবেশেও বিরুপ প্রভাব শুরু হয়ে যায় । সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পক্ষ বিপক্ষ যখন বিবদমান হয় তখন বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক বলয়ে পচন শুরু হয়ে গেছে। উত্তরনের উপায় কেউ না খুঁজলে সমস্যা আরও ঘনিভূত হবে।

আমাদের মঠবাড়িয়া জনপদ শিক্ষায় অগ্রসরমান একটা সমৃদ্ধ জনপদ। এ নিয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। এ রকম একটা জনপদে রাজনৈতিক ,সামাজিক আর নিরাপত্তাহীনতা নানা রকম শংকার সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক কালের মঠবাড়িয়ার দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্ত:স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা নিয়ে মাঠে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি দু:খজনক। খেলার মাঠে শিক্ষার্থী অসহিষ্ণু হয়ে ওঠার দায় প্রশাসন ও শিক্ষকদের ওপর বর্তাবে। যেহেতু তাদের ব্যবস্থাপনায় দুই স্কুলের মধ্যকার খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গুলিসাখালী জিকে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় দুটি আমাদের জনপদের দুটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান । দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে আার আন্তরিক যোগাযোগ আছে। চেনা জানাও কম নয়। আমি উপজেলা শিক্ষা ট্রাস্টের একজন নগণ্য সদস্য । তাছাড়া আমার ৩৫ বছরের সাংবাদিকতার জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাগ্রেই রয়েছে। স্কুলের খেলাধূলার প্রতিযোগিতা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা পুরানো একটি অপ কালচার। তবে এটা সভ্য সামাজিক মানুষের সাথে যায়না। আমরা এসব অপ কালচারগুলো নিবারণের উদ্যোগ না নিয়ে জিইয়ে রাখি এটাও অপ কালচার।

গত ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে মঠবাড়িয়া সড়রের শহীদ মোস্তফা খেলার মাঠে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন স্কুল-মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ফুটবল খেলা শুরু হয়। খেলায় গুলিসাখালী জোন চ্যাম্পিয়ান দল গুলিসাখালী জি.কে.ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ বনাম সাপলেজা জোন চ্যাম্পিয়ান সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ অংশ গ্রহণ করে। এসময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দল খেলায়রদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। এতে চয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়। গুলিসাখালী জিকে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দাবি সাপলেজা মডেল স্কুলের একজন জন শিক্ষকের ইন্ধনে হামলা চালিয়ে ছয়জন শিক্ষার্থীকে আহত করা হয়েছে।
কি ঘটেছিল সেটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কারন স্কুল পর্যায়ের খেলা নিয়ে থানায় মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে বিষয়টি আইনী জটিলাতার আবর্তে চলে গেছে।

এঘটনায় গুলিসাখালী জিকে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মো. জামাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে এজাহার নামীয় ১১ জন ও অজ্ঞাতনামা ১৪০ জনকে আসামী করে মঠবাড়িয়ায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এখন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেদিন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীদের সেখানে তদন্ত ছাড়াই পুলিশ ১৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করেছে। এমনকি যে ক্রীড়া শিক্ষক প্রধান আসামী হয়েছেন তখন নাকি তিনি মঞ্চে বসা ছিলেন। এসব অবশ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি । পুলিশের অবশ্য এখানে সঠিক তদন্ত করা ছাড়া কোন কিছু নেই। কিন্ত প্রশ্ন হচ্ছে এরকম একটা ঘটনা মামলা পর্যন্ত গড়ালো কেন ? মামলায় অজ্ঞাত ১৪০জন আসামী কেন ? পুলিশ কি তদন্ত ছাড়াই মামলাটি গ্রহণ করেছেন ? দুই স্কুলের এরকম একটা ঘটনায় শিক্ষা দপ্তর কিংবা শিক্ষক সমিতির কোন ভূমিকা ছিলনা কেন ? মামলা কি অনিবার্য ছিল ? সামাজিক সমাধানের কি অন্য কোন উপায় ছিল না ? দুটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিবদমান প্রতিপক্ষ হয়ে গেল কেন ? শিক্ষক নেতারা কেন শান্তির্পূণ সমাধানের পথ খুঁজলেন না ? এসব প্রশ্ন এখন সামাজিক সাইটে ঘুরে ফিরে আসছে। সামাজিক সাইটের কিছু মন্তব্য উল্লেখ করতে চাই । তবে তার আগে দেখি দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিবাদের ধরন।

মঠবাড়িয়ায় ৪৭তম স্কুল-মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া ফুটবল খেলায় গুলিসাখালী জি.কে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফুটবল খেলোয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধ কর্মসূচী পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে গুলিসাখালী ইউনিয়নের ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা অংশ নেন। সোমবার সকালে ১১টায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্বস্ব প্রতিষ্ঠানের সম্মুখ সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধ করেন গুলিসাখালী ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। এতে গুলিসখালী ইউনিয়নের ৪টি মাধ্যমিক, ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসার প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা অংশ নেন।

মানবন্ধনে গুলিসাখালী জি.কে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমল চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউ,পি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো, মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, শিক্ষক নেতা আলহাজ্ব আঃ লতিফ সিকদার, প্রধান শিক্ষক আনোয়ার মাহমুদ, সঞ্জয় কুমার হাওলাদার, মো. শাহ আলম, শিক্ষক মো. শাহ জালাল ও সমাজ সেবক স্বপন তালুকদার প্রমুখ।

অপরদিকে আন্তঃ স্কুল-মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে মারধর ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা নেয়ায় সাপলেজা ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষ-শিক্ষার্থীক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা থানার ওসির মো. গোলাম ছরোয়ারের অপসারণ দাবি তুলে পাল্টা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থীরা ১৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে উপজেলা সদরে এসে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন, সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাশেদ হাওলাদার, জি.কে. ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর হোসাইন মোল্লা, এন.সি তমেজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, বিবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও সাপলেজা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা শিক্ষক ও শিক্ষাদের নামে মামলা গ্রহণের নিন্দা জানিয়ে ওসির অপসারণ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ছরোয়ার সাংবাদিকদের বলেছেন তাকে অপসারণে শিক্ষার্থীদের দাবি একেবারেই অযৌক্তিক। কয়েক শিক্ষার্থী জখমের ঘটনায় বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এটা অবশ্য পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শিক্ষা দপ্তর আর স্থানীয় শিক্ষক সমাজের দায়িত্বটা আসলে কি ? স্কুলের খেলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটখাটো অপ্রীতিকর ঘটনা নিবৃত্ত করা কিংবা ঘটনা পরবর্তী শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াটা জরুরী ছিল বলে একজন নগণ্য সংবাদকর্মী হিসেবে আমার কাছে মোটা দাগে মনে হচ্ছে।

দুই স্কুলের মধ্যে বিবাদ নিয়ে সামাজিক সাইটে গত কয়েকদিন ধরে মঠবাড়িয়ার মানুষ নানা বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কে বলছেন এটা রাজনীতির মার প্যাচ। কেউ বলছেন দুই ইউনিয়নের মধ্যে অন্তর্গত রাজনৈতিক বিরোধ । কেউ বলছেন মঠবাড়িয়ার শিক্ষক সমাজ আর শিক্ষক সমিতি ঘটনা পরবর্তী কোন সুষ্ঠু সমােধানের পথ বের করতে না পারার কারনে মামলা ও প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন সামাজিক উদ্যোক্তার কিছু মন্তব্য এখানে হুবহু তুলে দেয়া সংগত বলে মনে হচ্ছে।

স্থানীয় সিটিজেন জার্ণালিজম গ্রুপের আহ্বায়ক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট মোস্তাফিজ বাদল  মনে করেন, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খেলা নিয়ে বিরোধকে ই্উনিয়নের গ্রুপিং বৈরিতার চোখে ঘটনাকে দেখা নিশ্চয়ই ঘৃণিত কাজ। অাশা করছি, এই ঘটনাকে নিয়ে কেউ গ্রুপিং হীনমন্যতার পরিচয় দিবেন না। সাধারণ অনেক মানুষের কষ্টের জায়গা হলো, ওসি-কে কেন জড়িয়ে কচিকাঁচা শিক্ষার্থীরা কারা রাস্তায় নামালো? মারামারি হলো জনসমক্ষে। হাসপাতালের ডাক্তার কর্তৃক সার্টিফিকেট দিল। ওসি (তদন্ত)  অফিসার তদন্ত করলেন। এই ঘটনায় বাদী মামলা করলে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য। প্রশ্ন হলো, এমতবস্থায় ওসি ( প্রশাসন) তুহিন সাহেবের বিরুদ্ধে ব্যানার দিলেন কেন?
দ্বিতীয়ত, ব্যানারের বানান দেখলে লজ্জা লাগে। কে বা কারা কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের হাতে এই ধরনের ভুলে ভরা ব্যানার ধরিয়ে দিয়েছে?
ছাত্ররা বিবাদে জড়ালে মুরুব্বি শিক্ষকরা মিমাংশা করতে পারবেন না, অার তাতে বাদীর অাবেদনের প্রেক্ষিতে ওসি মামলা নিলে ছোট বাচ্চাদেরকে ফুঁসলিয়ে রাস্তায় নামিয়ে মানববন্ধন, মিছিল কিংবা মামলায় জড়ানো – এগুলো শুভ লক্ষণ হতে পারে না। অাসলে অামাদের মঠবাড়িয়ার কপাল পুড়ছে। প্রতিদিন পবিত্র জায়গাগুলো কলুষিত হচ্ছে। এ কোন পথে হাঁটছি আমরা।

জনাব মোস্তাফিজ বাদল আরও প্রতিক্রয়ায় বলেন, গুলিশাখালীর গোলকিপারের সাথে সাপলেজা স্কুলের একজন খেলোয়াড়ের সামান্য হাতাহাতি হলো। এই দৃশ্য দেখার সাথে সাথে দর্শকের সাড়িতে দাঁড়ানো সাপলেজার শতাধিক ছাত্র মাঠে প্রবেশ করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাইর শেষ। কমপক্ষে ছয় জন খেলোয়াড় দস্তুরমত অাহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ছাত্রদের মাইরের দৃশ্য যারাই দেখেছেন তারা সবাই ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন।
শিক্ষক সমিতি নিজেদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো ও লেজুড়বৃত্তি করা ছাড়া কোন কাজ করে না। অামি কয়েকজন হেড স্যারের সাথে ব্যাপারটি মিমাংশার জন্য অনুরোধ করেছি। সবাই দুঃখ প্রকাশ করছে মাত্র। এবং অনেক স্যারই হতাশ হয়ে মনে করছে, এটি রাজনৈতিক নোংরামি।

মঠবাড়িয়ার কৃতি সন্তান বর্তমানে ফিনল্যাণ্ড প্রবাসি মো, মাইনুল ইসলাম মঠবাড়িয়ার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নিয়মিত সামাজিক সাইটে লিখে এখন তরুণদের কাছে জনপ্রিয় । তাঁর লেখায় নিরপেক্ষতা আছে বলে আমি নিয়মিত পড়ি। তিনি মঠবাড়িয়ার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈরী কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশ। তিনি আশা করছেন রাজনৈতিক/সামাজিক – যেভাবেই হোক দুই স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা উচিত।

জনাব মাইনুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত সামাজিক সাইটে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইন্টার স্কুল,ডিসি গোল্ড কাপ সহ এলাকা বেইজ যে সমস্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট হয় তাতে মারামারি মোটামুটি একটা কমন ব্যাপার।আমিও এক সময় খেলাধুলা করতাম,টুকটাক খ্যাপেও যাইতাম তাই সব ধরনের অভিজ্ঞতাই আছে।এমন কি মাইর থেকে বাঁচার জন্য জার্সি খুলে খালি গায় পাবলিকের সাথে মিসে গেছি।

এ গুলো নিয়ে কোনদিন কাউকে মামলা করতে দেখি নাই। এই রকমই একটি ঘটনায় প্রথম দেখলাম মঠবাড়িয়ার এক স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর এক স্কুলের শিক্ষক মামলা করে দিয়েছেন !! আবার মামলা নেওয়ার কারনে ওসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই মামলায় কি সমস্যার সমাধান হবে না বাড়বে? মঠবাড়িয়ার শিক্ষক সমিতি কি করলো ? রাজনৈতিক নেতাদের ভুমিকা কি ? কারন প্রতিটা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাজনীতির সাথেই সরাসরি জড়িত ।

আবার দেখছি কিছু অতি উৎসাহী লোক সাপলেজার সাথে আমড়াগাছিয়াকে ইউনিয়নও জড়িয়ে ফেলছে !! কারন কি? ওটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফের ইউনিয়ন- এই কারনে ? এখন তো আমার মনে হচ্ছে সাপলেজা না হয়ে অন্য ইউনিয়ন হলে এই মামলা হতো না।
নাক কিন্তু আমাদেরও আছে। রাজনীতির পাঠশালায় আমার জন্ম, সুদুর ফিনল্যানডে থেকেও অনেক কিছু টের পাই।
উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ আপনার কাছে বিষ ফোড়া মনে হইতেই পারে, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের কাছেই ও এখন অ্যান্টিবায়োটিক।

রাজনৈতিক/সামাজিক – যেভাবেই হোক দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যার দ্রুত সমাধান করুন।তা না হলে কোটা আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিবে।

ঐতিহ্যবাহী মঠবাড়িয়া কেএম লতিফ ইনস্টিটিউশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামান খান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, খুবই দু:খজনক ও লজ্জাস্কর ঘটনা। খেলাধূলায় মারামারি, হাতাহাতি এমন কি রক্তারক্তির ঘটনা তালতলা বেলতলা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ও দেখা যায়। এর সমাধান বা বিচারিক ফয়সালাও করে থাকে খেলা কর্তৃপক্ষ তাদের খেলা আইন অনুযায়ী। সারা দেশের মত মঠবাড়িয়াতেও এই খেলায় আপীল কমিটি আছে, যারা বিগত বছরগুলোতে কেএম, সাপলেজা, তুষখালী, মিরুখালী,উদয়ন, বেতমোর, বড়মাছুয়া, মোমেনিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত খেলায় সংঘটিত সংঘাত সংঘর্ষের বিচার কার্য বিভিন্নভাবে পরিস্হিতি পরিবেশ অনুযায়ী সম্পাদন করেছেন। কাজেই তথ্যানুযায়ী জিকে ইউ: মাধ্য: স্কুলটি মারামারিতে আক্রান্ত দল হলেও তাদের আপীল বিভাগের কাছ থেকে বিচার আদায় করে নেয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু তারা আপীল বিভাগে আবেদন করেও তার ফলাফল প্রাপ্তির আগেই সরাসরি শিক্ষক ছাত্রদের বিরুদ্ধে আসামীর বিশাল তালিকা দিয়ে মামলা করলেন, মানববন্ধন করলেন। এটা হলো প্রথম বিস্ময়। অথচ ওখানে ইউপি নেতা, শিক্ষক নেতা অনেকেই ছিলেন। আবার এর প্রতিক্রিয়ায় মাঠে মারমারিতে আক্রমনকারী হিসেবে অভিযুক্ত দল মামলা দাতাকে দোষারোপ না করে মামলা গ্রহীতাকে দোষারোপ করে দৃষ্টিকটু ব্যানারসহ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করলে সমাজ ২য় বার বিস্মিত হয়েছে।
অথচ ওখানেও ইউপি নেতা ও শিক্ষক নেতারা ছিলেন। এই উভয় গ্রুপের নেতারা শুরুতেই বসতে পারতেন। এখনও আমি মনে করি জনাব আলহাজ আ: লতিফ সিকদার ও জনাব আলহাজ নূর হোসাইন মোল্লা কেএম লতীফের হেড মাস্টার সাহেব এবং ইউএসইও সাহেবকে নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের টেবিলে গিয়ে জরুরী ভিত্তিতে নিস্পত্তির রাস্তা আবিস্কার করুন। কারন উভয় দিকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নকল্পে নেপথ্য ইন্ধনের ঘ্রাণ পাওয়া যায়, যা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এড়িয়ে চলা অত্যাবশ্যক। আল্লাহ সবাইকে কলহমুক্ত করুক।

পুনশ্চ : মঠবাড়িয়ার শিক্ষার পরিবেশ বিনস্টের এখতিয়ার আসলেই কারও নেই। তবে দায় আছে সবার শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার। এখন রাজনীতিক,প্রশাসন ও শিক্ষক নেতাদের মিলেই সামাজিক উদ্যোগে এর শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হবে। আমি মঠবাড়িয়ার কয়েকজন গুণি শিক্ষকের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে জেনেছি সামাজিক বৈঠৈকেই দুই স্কুলের সমস্যার সমাধান দ্রুত সম্ভব।

লেখক : সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন