পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি 🔹

বরগুনার পাথরঘাটায় সেীদি প্রবাসী ক্লিনিক এণ্ড ডায়গনিস্টটিক সেন্টার নামের একটি বেসরকারী ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় আস্ত্রপচারের সময় প্রসূতি মোসা. সালমা বেগম (২৫) নামে এক নারীর মৃত্যূর অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। শনিবার (১৪জুলাই) রাত ২টার দিকে পাথরঘাটা সৌদী প্রবাসি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যূর খবর শুনে আত্মীয় স¦জন এবং এলাকাবাসি সৌদী প্রবাসি ক্লিনিক ঘেরাও করে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসক ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
সালমা বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের শিকারী পাড়া গ্রামের মো. মনির হোসেনের স্ত্রী ও পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বড় পাথরঘাটা গ্রামের মো. হানিফার মেয়ে।

মৃত সালমা বেগমের স¦ামী মো.মনির জানান, সালমা বেগমের প্রসব জনিত ব্যাথা অনুভব হলে পাথরঘাটা সৌদী প্রবাসি ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়।সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষ শেষে রাত অনুমান দেড়টার দিকে চিকিৎসক রুনা রহমান অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রপচার করেনএবং একটি ছেলে শিশু জন্ম নেয়। ঘন্টা খানিক পর অপরাশেন থিয়েটার থেকে বের করে সালমার হাইপ্রেসার বলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলে। তাৎক্ষনিক ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যা¤¦ুলেন্স ভাড়া করে দেন। স্বজনদের সন্দেহ হলে নিকটবর্তী পাথরঘাটা উপজেলা স¦াস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আনোয়ার উল্যাহর কাছে রোগির সবশেষ অবস্থা পরীক্ষার জন্য গেলে তিনি সালমাকে মৃত ঘোষনা করেন এবং বলেন, আরও ১ থেকে দেড় ঘন্টা আগে রোগী মারা গেছে।

অস্ত্রপচারের সময় অপারেশন থিয়েটারে সহযোগী হিসেবে থাকা সেবিকা দীপা রানী বলেন, ডাক্তার রুনা রহমানকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বার প্রসূতিকে অজ্ঞান করার ইনজেকশন প্রযোগ করতে দেখেছেন। অপরদিকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার আনোয়ার উল্যাহ জানান, রুনা রহমান সার্জারীর ডাক্তার নয়। এবং তার অবেদনবিদ (এনস্থেশিয়া)হিসেবে তার কোন সার্টিফিকেট নাই। ডাক্তার রুনা রহমান বরিশলের প্রাকটিস করে থাকেন।

পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউপ চেয়ারম্যান ও পাথরঘাটা পৌর মেয়র ক্লিনিকে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে মরদেহটি বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এব্যপারে ক্লিনিক পার্টনার মো. নীরু শিকদার টেলিফোনে একজন প্রসূতির মুত্যুর কথা স্বীকার করে বলেন মেয়র মহোদয় বিষয়টি মিমাংসা করে দিবেন। ডাক্তার রুনা রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পাথরঘাটা পৌর সভার মেযর মো. আনোয়ার হোসেন শনিবার (১৪ জুলাই) টেলিফোনে (বেলা২:৩০)কালেরকণ্ঠকে বলেন, ভিক্টম অতিদরিদ্্র তারা কোন মামলায় যেতে চায়না তাই উভয়পক্ষকে নিয়ে ফয়সালা করে দেয়া হবে।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খবীর আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন