যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন বঞ্চিত উপকুলীয় মঠবাড়িয়া জনপদের মানুষের কাছে মঠবাড়িয়া-চরখালী-পাথরঘাটা সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার আকাঙ্খা ও দাবি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের। মহাদুর্খোগের এ সড়ক নিয়ে যুগ যুগ ধরে মঠবাড়িয়াসহ উপকূলবাসি চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এ জনপদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত করণে ১০৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের এমন উদ্যোগে উপকূলবাসি আনন্দিত। কিন্তু সড়ক নির্মোণেরকাজ শুরুর পর জনমানুষের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধে। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দায়সারাভাবে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে যা প্রত্যাশা পূরণে যথাযথ নয়। সামাজিক সাইট ফেসবুকে সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়। স্থানীয় অনলাইন সংগঠন সিটিজেন জার্নালিজম গ্রুপ নামে একটি তরুনদের উন্নয়ন প্লাটফরম নানাভাবে সামাজিক সাইটে প্রতিবাদ জানায়। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজি সড়কটি নির্মাণেঅনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন । তিনি তার ব্যাক্তিগত সামাজিক সাইটে এ বিষয়ে মঠবাড়িয়ার জনসাধারণের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এমপি ফরাজির খোলাচিঠিটি আজকের মঠবাড়িয়া অনলািইনে জনস্বার্থে হুবহু পত্রস্থ করা হলো।

প্রিয় মঠবাড়িয়াবাসি!!

আসসালামু আলাইকুম। আপনারা নিশ্চই জানেন যে, চরখালি মঠবাড়িয়া মহাসড়ক টি প্রশস্তকরণ ও সংস্কার মঠবাড়িয়ার প্রতিটি নাগরিকের প্রানণর দাবি ছিল। সেই লক্ষে আমি বার বার সংসদে এই রাস্তাটির ব্যাপারে কথা বলেছি এবং সর্বোপরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দ্বারা রাস্তাটি প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য একনেক এ অনুমোদন করিয়েছি। কিছুদিন পুর্বে আমি মহাসড়ক টির কাজ এর শুভ উদ্ভোধণ করি, সেই থেকে বিভিন্ন স্লটে পাচ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ আড়ম্ভ করে। কিন্তু কিছুদিন থেকে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো শিডিউল বহির্ভুত কাজ করে আসতেছে, আমি সেই মর্মে বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলি, সংশ্লিষ্ট সচিব থেকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলি ও তাদের কে রাস্তার কাজের দুর্নীতির বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আশু ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করি। সেইমর্মে  আজ শনি বার ০৫-০৫-০১৮ ইং তারিখে বিভাগীয় প্রকৌশলী সহ অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তাগন চরখালি টু পাথরঘাটা মহাসড়ক টি পরিদর্শনে যাবেন, আমি আশা করি আপনারা প্রত্যেকে রাস্তার কাজের দুর্নীতির বিষয়টি কর্মকর্তাদের দেখাবেন ও তাদের কে সহযোগীতা করবেন।।

প্রিয় ভাইয়েরা,

আমার জীবনের সব থেকে দুটি বড় স্বপ্ন ছিলো, (এক) মঠবাড়িয়া তে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন। (দুই) মঠবাড়িয়ার মহাসড়ক টি প্রসস্থকরন।। আমি ইনশাআল্লাহ আমার ২য় স্বপ্ন পূরণ এর দ্বারপ্রান্তে এসে এইভাবে দুর্নীতির করালগ্রাসে আমার স্বপ্ন ও আপনাদের প্রানের দাবীকে দুর্নীতির অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে দিতে পারি না।। ভাইয়েরা আমার, তাই দল মত নির্বিশেষে মঠবাড়িয়ার প্রত্যেক জনগন এর উপর আমার একটি ই দাবী থাকবে আপনারা এই মহাসড়ক এর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও সজাগ থাকুন, আমি আপনাদের পাশে আছি।। আমি আমার যায়গা থেকে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে যাব। আমি আপনাদের প্রতি মহাসড়ক এর কাজের ব্যাপারে কিছু কাজের শিডিউল নির্দেশনা প্রদান করতেছি আপনারা সেই শিডিউল এর বাহিরে কাজ হতে দেখলেই প্রতিবাদ করবেন বলে আশা রাখি।। প্রসস্থকরন শিডিউল (সবার বোঝার জন্য নিজ ভাষায় দিলাম: নিচের ১’ ফুট বালি ভড়াট, তার উপরে ৮” ইঞ্চি বালু ও ইটের খোয়া ভড়াট, তার উপরে ৮” ইঞ্চি ইটের খোয়া ও পাথর দিয়ে ভড়াট, তার উপরে কার্পেটিং প্রোসেস (বিটুমিন ও অন্যান্য)। এই নিয়মের বাহিরে কাজ হলে সেটা সম্পুর্ন পুকুর চুরির শামিল।

তাই সকলে আজ শনিবার নির্বাহী প্রকৌশলী সহ যে সকল কর্মকর্তাগন সড়কটি পরিদর্শনে যাবেন তাদের কে জনস্বার্থে সহযোগিতা করুন।।

ডা:রুস্তুম আলী ফরাজী

সংসদ সদস্য।

পিরোজপুর-০৩, মঠবাড়িয়া।

 

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন