দেবদাস মজুমদার >>

নিয়তির পরিহাসে ওরা কেউ বাক প্রতিবিন্ধী, কেউ শারিরীক আর কেউবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। নির্বাক মুখে কথা নেই তবে বুকের ভেতর ভাষার অনুভূতি প্রবল। আমাদের মহান ভাষা সংগ্রামের কিছুটা হয়ত ওরা বুঝে গেছে। তাই প্রতিবন্ধী ওদের প্রলয় বন্ধ নেই। মহান একুশে ফ্রেব্রুয়ারী ওদের বুকের ভেতর গর্ব জাগায়। নিভুত চরের আশ্রিত এসব প্রতিবন্ধী শিশুর দল ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মিলিত হয়েছে। বড়দের সহায়তা নিয়ে ওরা নিভৃত চরে গড়ে তুলেছে শহীদ মিনার। কলাগাছ দিয়ে তৈরী এ শ্রদ্ধার মিনারে ওরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। ভাষা শহীদদের নামে মিলাদেরও আয়োজন করে। কাগজে শহীদ মিনারের ছকি এঁকে ওরা কলাগাছের মিনার সাজিয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন করে।
পিরোজপুরের কাউখালীর সন্ধ্যা নদী তীরের নিভৃত আমড়াজুরী চরে আবাসনে আশ্রিত ১০ জন বাক প্রতিবন্ধী শিশুর দল মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের আয়োজন করে। মঙ্গলবার দিনভর ওরা ১০ প্রতিবন্ধী মিলে কলাগাছের শহীদ মিনার নির্মাণ করে এবার মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তুতি নেয়। চরে আশ্রিত সুবিধা বঞ্চিত এ ১০ প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে স্থানীয় প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংগঠন প্রতিবন্ধী শিশুদের মাতৃভাষা দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদী তীরের নিভৃত চর আমড়াজুরী আবাসন প্রকল্পে ৪০টি পরিবারবাস করে। ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী চরের এ আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। ওই আবাসনে আশ্রিত দরিদ্র পরিবারগুলোতে ১০জন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে চার শিশু বাক প্রতিবন্ধী শারমীন(১৪), রিফাত(১১), রিয়াজ(১৮) নিজাম(৮) । পাঁচ শিশু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী আসমা(১০), তানজিলা(১৫), আরিফা(১২), জাহিদ(১৮) নয়ন(৮) । এছাড়া এক শিশু শারিরীক প্রতিবন্ধী কান্তা(১০) চরে বসবাস করে। এসব শিশু স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী পাঠশালায় মাঝে মাঝে লেখাপড়া করে আসছে।
চরে আশ্রিত এ ১০ প্রতিবন্ধী শিশু মিলে এবার নিজেদের মত করে মাতৃভাষা পালন। কলাগাছে বানানো শহীদ মিনার পাদদেশে এসব শিশুরা শহীদ মিনার অংকন করে। চার বাক প্রতিবন্ধীর “মা” মনজিলা বেগম সকল প্রতিবন্ধী শিশুদের হাতে কাগজ ও রং পেনসিল তুলে দেন।
চার বাক প্রতিবন্ধী শিশুর মা মঞ্জিলা বেগম বলেন, মাতৃভাষা দিবস পালনের এমন আয়োজনে আমরা খুশী। এতে আমাগো পোলা মাইয়ারাও খুব খুশী। ওরা সবাই একসাথে কলাগাছের শহীদ মিনারে ফুল দেবে। এছাড়া শহীদগো জন্য মিলাদ ও দোয়ারও আয়োজন করা হইছে।
আমড়াজুরী আবাসনের প্রকল্পের সভাপতি মো. চাঁন মিয়া বলেন, আবাসনে ১০ শিশু প্রতিবন্ধী। ওরা মাতৃভাষা পালন করছে এতে চরবাসি আমরা সবাই খুশী।
কাউখালী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আবদুল লতিফ খসরু বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিশুদের একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে ও শহীদ মিনারের সাথে পরিচিত করিয়ে দিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। চরে আশ্রিত ১০জন প্রতিবন্ধী শিশু ও চরবাসি মিলে এখানে মাতৃভাষা উদযাপন করেছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন