মেহেদি হাসান বাবু :

১৯৭0 সালের ৬ই জুন সন্ধ্যায় ইকবাল হল (সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) এর ১১৬ নম্বর রুম এ কাজী আরেফ আহমদ আ স ম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ ও মনিরুল ইসলাম কে ডেকে সিরাজুল আলম খান জানান, জয় বাংলা বাহিনীর পতাকা তৈরী করার কথা।

এই ব্যাটালিয়ন ফ্ল্যাগই অদূর ভবিষ্যতে বাঙ্গালী জাতীয় রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকার সম্মান লাভ করবে। মনিরুল ইসলাম মণি বললেন পতাকার জমিনটা হবে ব্যাটল গ্রিন।

শাহজাহান সিরাজ বললেন-রক্ত লাল একটা কিছু যেন থাকে পতাকায়।
কাজী আরেফ আহমদ তখন গাড় সবুজ জমিনের মাঝখানে গোলাকার লাল রঙের উদিত সূর্য এঁকে সবাইকে দেখান।
সেই সময় পাকিস্তানী সরকার জনগণ কে বিভ্রান্ত করতে United state of Bengal নামের এক কাল্পনিক রাষ্ট্রের প্রচারণা করছিল,তাই কাজী আরেফ পতাকার
মাঝখানে রক্ত লাল প্রভাত সূর্যের মাঝে সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র রাখার প্রস্তাব দেন, (পাটের রং সোনালী এবং পাকা ধান ক্ষেতের রং ও সোনালী) সকলে একমত হলেন,পতাকাকে আরও সুন্দরভাবে আঁকানো হল কুমিল্লা ছাত্রলীগ এর সেক্রেটারী শিব নারায়ণ দাস কে দিয়ে। তিনি তখন ঢাকা তে ছিলেন। রাতে কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াস এর তিন জন (সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক) পতাকা অনুমোদন করেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর অনুমোদন করার দায়িত্ব পরে আব্দুর রাজ্জাকের উপর। তিনি ঐ রাতে এক টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাসায় গিয়ে ঐ পতাকা দেখিয়ে তা অনুমোদন করেন।পরদিন
সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঐ পতাকাই ব্যাটেলিয়ন ফ্ল্যাগ হিসাবে জয়বাংলা বাহিনী কে প্রদান করেন।
বাহিনীর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করেন আ স ম আব্দুর রব।

ওই পতাকাই ১৯৭১এর ২ মার্চ ঢাকা ইউনিভার্সিটির বট তলায় স্বাধীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আহূত লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে তিনি প্রদর্শন করেন।
১৯৭১সালের ২৩ শে মার্চ পাকিস্তান রিপাবলিক দিবসে পল্টন ময়দানে আনুষ্ঠানিক ভাবে পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশ এর পতাকা উত্তোলন করা হয়।
জয় বাংলা বাহিনী চার প্লাটুন কুচকাওয়াজ দ্বারাই পতাকাকে অভিবাদন জানান।
পরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন এ গিয়ে তার হাতে পতাকা দেন। তিনি তাঁর গাড়িতে ও বাড়িতে বাংলাদেশ এর পতাকা উত্তোলন করেন। ঐ পতাকা পরবর্তীতে প্রবাসী সরকার অনুমোদন করেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ঐ পতাকার মাঝের বাংলাদেশ এর মানচিত্র তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেন।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন