নূর হোসাইন মোল্লা↪️ (শেষ পর্ব)
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে নেছারাবাদ-কাউখালী-ভান্ডারিয়া আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেছারাবাদের অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম, মঠবাড়িয়া আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডাঃ আনোয়ার হোসেন এবং পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাথরঘাটার গোলাম সবুর টুলু নির্বাচিত হন। চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি প্রশস্তকরণের দাবী বিভিন্ন মহল থেকে উঠলে তাঁরা এ সময়ে সড়কটি উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণে ভান্ডারিয়া,মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা উপজেলায় কিছু কাজ করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে কাউখালী-ভান্ডারিয়া-ইন্দুরকানি আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মঠবাড়িয়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী ফরাজী এবং পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাথরঘাটার শওকত হাছানুর রহমান রিমন নির্বাচিত হন। আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী নিযুক্ত করেন। তিনি এ সড়কটির ভান্ডারিয়া অংশের অধিকাংশই প্রশস্ত করেন। এ সড়কটির মঠবাড়িয়া অংশ খানাখন্দে ভরপুর হওয়ায় সড়কটি উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের জন্যে সাংবাদিকগণ এবং ২/৪ জন হিতৈষী ব্যক্তি লেখালেখি শুরু করেন। ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী ফরাজী ২০১৪ সালে সড়কটি উন্নয়নের জন্যে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করেন। কিন্তু কোন ফল হয়নি। ২০১৫ সালে এ সড়কটি উন্নয়নের প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদে পুনরায় উত্থাপন করেন। জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের বলেন যে, সড়কটি প্রশস্তকরণ দরকার। কিন্তু প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। অতঃপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মঠবাড়িয়া উপজেলা নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিগণ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ওয়াবদুল কাদেরের সাথে সাক্ষাৎ করে চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কটি উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের জন্যে একখানা আবেদনপত্র তাঁর নিকট পেশ করেন। অতঃপর তাঁরা এ ব্যাপারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী ফরাজী বিষয়টি ৩য় বারের মতো জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এ ব্যাপারে ডাঃ ফরাজীকে একখানা ডিও লেটার দেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি ডিও লেটার মাননীয় মন্ত্রীর বরাবরে পেশ করেন।

১৩/০৩/১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অভ্যন্তরিণ যাচাই কমিটির সভায় চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের প্রকল্পটি গৃহীত হয় এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ৭৪৪৪.৯৭ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে অনুমোদনের জন্যে ২৮/০৭/১৬ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করেন। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে মঠবাড়িয়া পৌরসভায় একটি বাইপাস সড়ক নির্মানের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকায় মঠবাড়িয়া উপজেলা নাগরিক কমিটি ০৫/০৬/১৬ তারিখে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বাইপাস সড়ক নির্মানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর বরাবরে একখানা আবেদন পত্র পেশ করেন। এর অনুলিপি ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজীকে দেয়া হয়েছে। ২০/০৬/১৭ তারিখে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদিত হয় এবং বাস্তবায়নের জন্যে ১০৪ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়। এ জন্যে আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। একই সাথে মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের, পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন মহারাজসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী ফরাজীকে ধন্যবাদ জানানোর একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্বেও তাঁর অ্যডাসিটির জন্যে তাঁকে ধন্যবাদ দিতে পারলাম না। কারণ ০৩/০৭/২০১৭ তারিখে তিনি মঠবাড়িয়ায় বলেছেন চরখালী-পাথরঘাটা সড়ককে তিনি মহাসড়কে উন্নীত করে মঠবাড়িয়াকে ১০০ বছর এগিয়ে দিয়েছেন। জনগনের প্রশ্ন হচ্ছে, এ সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত হয়েছে ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী ফরাজীর একক চেষ্টায়, না আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মহিউদ্দিন মহারাজ, শওকত হাছানুর রহমান রিমনসহ সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তাগনের চেষ্টায়? ডাঃ ফরাজী সাহেব আপনি ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এম.পি. ছিলেন। এ দীর্ঘ সময়ে আপনি মঠবাড়িয়াকে এগিয়ে দিলেন না কেন? সড়কটির ইতিহাস পড়ুন এবং নিজেকে মূল্যায়ন করুন। এ সড়কে আপনার অবদান কতটুকু? সর্তকতার সাথে কথা বলুন এবং অপরের অবদানকে স্বীকার করুন। এতে আপনার মর্যাদার হানি হবে না। (সমাপ্ত)

* লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সদস্য সচিব, মঠবাড়িয়া উপজেলা নাগরিক কমিটি।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন