(পূর্ব প্রকাশের পর)↪️
১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেনারেল এরশাদ ভান্ডারিয়ার আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নিযুক্ত করেন। এ দুই মন্ত্রী বরিশাল-রাজাপুর-ভান্ডারিয়া-চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা পর্যন্ত রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অন্তর্ভূক্ত করেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভান্ডারিয়া-কাউখালী আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মঠবাড়িয়া আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম.এ জব্বার ইঞ্জিনিয়ার এবং পাথরঘাটা-বামনা আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বামনার সৈয়দ রহমাতুর রব ইরতিজা আহসান নির্বাচিত হন। এম.এ জব্বার ইঞ্জিনিয়ার জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

উল্লেখ্য, তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্যে আদালত তাঁকে ২০১৩ সালে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান করেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে পলাতক আছেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং এম,এ জব্বার ইঞ্জিনিয়ার এ সড়কটি পাকা করনের চেষ্টা করেন। এ সড়কের বরিশাল-ঝালকাঠী অংশ কার্পেটিং হয় এবং কালিজিরা সেতু নির্মিত হয়। ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে রাষ্ট্রপতি জেনারেল এরশাদ পাথরঘাটায় এক জনসভায় ভাষণে চরখালী-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়ককে মহাসড়কে পরিণত করার ঘোষণা দিয়ে পাথরঘাটায় ভিত্তি প্রস্তরফলক স্থাপন করেন।

১৯৮৮ সালের নির্বাচনে পাথরঘাটা-বামনা আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পাথরঘাটার নুরুল ইসলাম মনি, মঠবাড়িয়া আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম,এ জব্বার ইঞ্জিনিয়ার এবং ভান্ডারিয়া-কাউখালী আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার মঞ্জু নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি জেনারেল এরশাদ আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে যোগাযোগ মন্ত্রী, এম,এ জব্বার ইঞ্জিনিয়ারকে পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং নুর মোহাম্মদ আকনকে প্রথমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পরে অতিরিক্ত সচিব নিযুক্ত করেন। তাঁদের চেষ্টায় সড়কটির নির্মান কাজ শুরু হয়। এ সময়ে এম এ জব্বার ইঞ্জিনিয়ার মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা অংশের এলাইনমেন্ট পরিবর্তনের জেষ্টা করেন। এমনকি এ ব্যাপারে লেখকের সাথে দেওয়ানী মামলায় জড়িত হন। এ সড়কের তুষখালী-মঠবাড়িয়া অংশের আংশিক কার্পেটিং হয়। তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে লেঃ জেনারেল হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করার পর ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে এ তিনটি আসন থেকে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের ৮ দলীয় জোটভুক্ত বাকশালের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ এবং পাথরঘাটা-বামনা আসন থেকে বি,এন,পি’র নুরুল ইসলাম মনি নির্বাচিত হন। রাজাপুর-কাঠালিয়া আসন থেকে বি.এন.পি’র ক্যাপ্টেন (অবঃ) শাহজাহান ওমর নির্বাচিত হন। বি.এন.পি সরকার জেনারেল এরশাদের মহাসড়কের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে এবং পাথরঘাটায় নির্মিত ভিত্তি প্রস্তরফলক ভেঙ্গে ফেলে। এ সড়কটি আঞ্চলিক সড়কে পরিণত হয়। বরিশাল-চরখালী মহা সড়কের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলে। কিন্তু চরখালী-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কের কাজ মন্থর গতিতে চলে। এ সময়ে এ সড়কের তুষখালী-সাফা পর্যন্ত ইট সলিং হয় এবং তুষখালী-মঠবাড়িয়া-গুলিসাখালী পর্যন্ত কার্পেটিং হয়। পাথরঘাটা থেকে কাঁঠালতলী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত কার্পেটিং হয়।

১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টি ও জাসদের সমর্থনে জুন মাসে সরকার গঠন করেন। এ নির্বাচনে এ অঞ্চল থেকে জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ডা. মো. রুস্তুম আলী ফরাজী এবং পাথরঘাটা-বামনা আসন থেকে ইসলামী ঐক্য জোটের প্রার্থী গোলাম সরোয়ার হিরু নির্বাচিত হন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যোগাযোগ মন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কটি সম্পূর্ণ কার্পেটিং দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করেন। উল্লেখ্য, কাজ সম্পন্ন হওয়ার ছয় মাস পূর্বেই তিনি ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এ সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্যে শুভ উদ্ভোধন করেন। সড়কটি ১২ ফুট প্রস্থ হওয়ায় বিপরীতমূখী দুইটি বাস অতিক্রম করতে অসুবিধার সম্মুখীন হয়। শেখ হাসিনার সরকার গাবখান এবং ভান্ডারিয়া সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ভান্ডরিয়া সেতু মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যথাসময়ে উ‌দ্ধোধন ক‌রেন। কিন্তু গাবখান সেতুর নির্মাণ কাজ ২০০১ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ায় বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সা‌লে এ সেতুটির শুভ উ‌দ্ধোধন ক‌রেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনে বি.এন.পি. ১৯০ টি আসনে জয়লাভ করেও জামায়াত-ই ইসলামীকে সাথে নিয়ে সরকার গঠন করে। এ নির্বাচনে ভান্ডারিয়া-কাউখালী আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মঠবাড়িয়া আসন থেকে বি.এন.পি’র প্রার্থী ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী এবং পাথরঘাটা-বামনা আসন থেকে বি.এন.পি’র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি নির্বাচিত হন। এ সময়ে ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী এবং নুরুল ইসলাম মনি এ সড়কটি উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ তথা মহাসড়কে উন্নীত করার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। ( চলবে)

লেখক > নূর হোসাইন মোল্লা, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন