আজকের মঠবাড়িয়া অনলাইন ডেস্ক↪️

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশের ৪৮৮টি উপজেলায় ‘উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই ভবন নির্মাণে ‘উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এলজিইডি বিভাগ ভবন নির্মাণ কাজে সহায়তা করছে।

শিল্পকলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বাসসকে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণ প্রকল্প’র অধীনে ইতিমধ্যে বারটি উপজেলায় ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৫টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অপর ৫টির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি দুটি ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। ১২টি উপজেলায় ভবন নির্মাণের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলে গতবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বার উপজেলায় কাজ শুরু হয়।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের অধীনে এ পর্যন্ত ৬৩টি উপজেলায় ভবন নির্মাণের জন্য জমি পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে বাকি সব উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা ভবন গুলোতে তৃণমূল পর্যায়ে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির চর্চা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। রয়েছে ৫০০ আসনের একটি করে মুক্তমঞ্চ। ভবন এলাকায় অন্যান্য বিনোদন হিসেবে মঞ্চের সাথে রয়েছে জলের ফোয়ারা, বাগান, মানুষের চলাফেরা করার স্পেস।

এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পিপিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় উপজেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃতির লক্ষে উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমী ভবন ও মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে জাতীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয়ভাবে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ, চর্চা, প্রচার, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ এবং জনগণের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক (রক্ষণাবেক্ষণ) সুখদেব চন্দ্র দাস জানান, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে ৪৪টি শিল্পকলা একাডেমি ভবন রয়েছে। এসব ভবনে প্রশাসনিক বিভাগসহ প্রশিক্ষণ সুবিধা ও উন্মুক্ত মঞ্চ রয়েছে। মঞ্চে রয়েছে ৫০০ আসনের গ্যালারি। ৮টি জেলায় ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। বাকি ছয়টি জেলায় নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে আটটি বিভাগীয় শহরে আটটি শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৫টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি তিনটি বিভাগীয় শহরে আগে নির্মিত ভবনগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী জানান, শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম জেলা হতে উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ভাল মিলনায়তন,মুক্তমঞ্চ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে সংস্কৃতি চর্চা পিছিয়ে পড়ছিল। তৃনমূলে সংস্কৃতি বিকাশের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উপজেলা শিল্পকলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে গ্রাম পর্যায়ে নতুন প্রজন্ম তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ পাবেন। এবং এর ফলে তাদের মধ্য থেকে অসংখ্য শিল্পী, কলাকুশলী, অভিনেতা, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী জাতীয় পর্যায়ে এসে অবদান রাখতে পারবেন।
সূত্র > কালের কণ্ঠ

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন