দেবদাস মজুমদার 🔶

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কে ভান্ডারিয়া অংশে মদার্শী বেইলী সেতর সড়ক যোগযোগ চালুুুু করা হয়নি। ফলে উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ এ আঞ্চলিক সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধসে যাওয়া সেতুর স্থানে বিকল্প একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করলেও তা যানবাহন চলাচলের উপযোগি নয়। এ সড়কে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় উপকূলীয় তিন উপজেলার জনসাধারণ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এছাড়া পাথরাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হতে মাছ পরিবহনে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

গত ১২ আগস্ট রাত তিনটার দিকে মঠবাড়িয়া গামী দুটি পাথরবোঝাই ট্রাক (পটুয়াখালী ট-১১-০০৬৫ ও পিরোজপুর ট-১১-০২১১) ভান্ডারিয়ার মাদার্শী সেতু পার হওয়ার সময় প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ বেইলী সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এতে খুলনা-পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্তত ১১ রুটে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বরগুনা, পাথরঘাটার, মঠবাড়িয়া সঙ্গে পিরোজপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ ১১টি রুটে যান সরাসরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। বর্তমানে সেতু সংলগ্ন খালে বিকল্প একটি কাঠের সাঁকো দিয়ে জনসাধারণ পারাপার হচ্ছেন। এদিকে সেতু ভেঙে খালে পড়ে যাওয়া উপকূলীয় পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হতে সারাদেশে মাছ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা ৩৮ কিলোমিটার সড়কের ২০ টি বেইলী ব্রিজ রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। ফলে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। সম্প্র্রতি ওই সড়কের মাদার্শী সেতুুুু ধসে বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেতুগুলোর স্থায়িত্ব ১০ বছর হলেও, সেগুলো স্থায়িত্বের প্রায় তিন গুণ সময় অতিক্রম করেছে। ফলে খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে সেতুগুলো।

সড়ক ও জনদ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে,পিরোজপুর সড়ক বিভাগের চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটার ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে ১৯৮৮ সালের দিকে নির্মান করা হয় ২০ টি সেতু । এসব সেতুর স্থায়িত্ব ১০ বছর হলেও প্রায় তিন গুণ সময় অতিক্রম করেছে। যা বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
সেতুর ধারণক্ষমতা ১০ টনের অধিক না থাকলেও, সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত ১৫ থেকে ২০ টনের অধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন যানবাহন চলাচল করছে। ফলে দিন দিন সেতুগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। এছাড়া রাতের বেলা একাধিক ট্রাক একসাথে অতিক্রম করার সময় ধ্বসে পড়ছে সেতুগুলো। গত বছর জুন মাসে একই সড়কের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গুদিঘাটা নামক স্থানে দুইটি পাথর বোঝাই ট্রাক একসাথে ওঠার ফলে একটি সেতু ধসে পড়ে যা আজও পুনঃনির্মান করা হয়নি।
ভান্ডারিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. তানভীর আহম্মেদ জানান, গত ১২ আগস্ট মাদার্শী খালের উপরে বেইলী সেতুটি ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের ১১রুটের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এখন একটি কঠের সাঁকো দিয়ে আতঙ্কের মধ্যে শুধু জনসাধারণ কোন মতে পারাপার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-চরখালী সড়ক রুটে পথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হতে সারাদেশে সরাসরি মাছ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছেনা। সেতু ভেঙে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনে চরম দুরাবস্থা বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হতে সারাদেশে মাছ সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। পাথরঘাটা ও মঠবাড়িয়া উপজেলার যানবাহন পার্শ্ববর্তী বামনা ৪০ কিলোমিটার পথ বাড়তি ঘুরে একটি ফেরী পথে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা যাতায়ত করছে। এতে বাড়তি সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পিরোজপুর এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পিরোজপুর সড়ক বিভাগের অধীনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০টি বেইলী সেতু রয়েছে। যার মধ্যে ৪৩টি বেইলী সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কেই রয়েছে ২০ টি সেতু।
তিনি আরও বলেন, ভান্ডারিয়া-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কে ভান্ডারিয়া অংশে মদার্শী বেইলী সেতু ধসের পর সেখানে একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাবনা কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদ পেলেই দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন