মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানীসাফা ইউনিয়নের চার নস্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদারকে(৫৮) তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৭জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছ্ ে। নিহত বিএনপি নেতা হাবিবুরের মেঝ ছেলে হাফিজুর রহমান বাদি হয়ে আজ বুধবার মঠবাড়িয়া থানায় এ হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় ধানীসাফা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশীদ তালুকদার(৪২)কে প্রধান আসামী ও ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস তালুকদারসহ নামীয় ১৭জন ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

পুলিশ মামলায় এজাহারভূক্ত আসামী উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের মো. রুস্তুম তালুকদারের ছেলে মাছুম তালুকদা(৪০)কে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারের পিছন হতে নিহত ওই বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ । ময়নাতদনস্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তার করার পর আজ বুধবার দুতুরে উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। এসময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন দুলাল ও উপজেল্ াযুবদলের আহ্বায়ক আবুবকর সিদ্দিক বাদলসহ উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী ও গ্রামবাসিরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়, গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় তুষখালী বাজারের একটি ঔষধের দোকানে ’ বসা থাকা অবস্থায় ধানীসাফা ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা ইদ্রিস তালুকদারের নেতৃত্বে তার দলবল বিএনপি নেতা হাবিবুরকে তুলে নেয়। এর পর থেকে সে নিখোজ ছিল। এ ঘটনায় স্বামী নিখোঁজের বিষয়ে স্ত্রী মালেকা বেগম সোমবার বিকালে মঠবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছিলেন।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, রবিবার সকালে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তুষখালী বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সকাল ১০টার দিকে ১০টার দিকে তুষখালী বাজারের একটি ঔষধের দোকানে তিনি বসা থাকা অবস্থায় ধানীসাফা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদের নির্দেশে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আ.লীগ নেতা ইদ্রিস তালুকদার তার দলবল মিলে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমানকে তুলে নেয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা তুষখালী বাজার সংলগ্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে তার লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে লাশ উদ্ধার করে।
মামলায় আরও অভিযোগ আনা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্রিস তালুকদারের সাথে হাবিবুর রহমান তালুকদারের পরিবারের গত ইউপি নির্বাচন নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। গত রবিবার ইদ্রিস তালুকদারের ছেলেদের সাথে হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলেদের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ তার দলবল দিয়ে হাবিবুর রহমানকে তুলে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার উপ পরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, মামলায় অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে হত্যা ও পরে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে.এম তারিকুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত হাবিবুরের লাশ ময়না তদন্ত শেষে আজ বুধবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ হত্যা মামলায় এজাহার নামীয় মাছুম তালুকদার নামে এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অপর আসামীরা পলাতক তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন