বিশেষ প্রতিনিধি >>
গত একসপ্তাহ ধরে সৃষ্ট লঘুচাপে অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের প্লাবনে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার হাসপাতাল সড়ক,কয়েকহাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আজ বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে হাটু সমান পানিতে মানুষের বাজারঘাট সারতে হয়েছে।
ভূক্তভোগি এলাকাবাসি জানান, মঠবাড়িয়া পৌরশহরের দক্ষিণবন্দর মোহনার খালে অপরিকল্পিত অপরিসর একটি স্লইজ গেট নির্মাণ ও শহরের প্রাণ কেন্দ্রের প্রায় তিন কিলোমিটার খালের দুই পাড় জুড়ে প্রভাবশালীরা নানা স্থাপনা ড়গড়ে দখল করায় খাল সংকুচিত হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবন দেখা দিয়েছে। শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকা নিচু হওয়ায় সহজেই পানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দরের বাসিন্দা উন্নয়ন কর্মী ইসরাত জাহান মমতাজ বলেন, খালে অপরিকল্পিত স্লুইজগেট নির্মান ও খালের পাড়ে শহররক্ষা কোন বাঁধ না নির্মাণের ফলে যুগ যুগ ধরে পৌরবাসি বর্ষামৌসুমে এ জনদুর্ভোগ পোহায়। জোয়ার ও অতিবৃষ্টির জলাবদ্ধতার পানি অপসারণেরও কোন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়নি। জলমগ্ন শহরবাসির চলাচল তো দুরের কথা নিত্যদিনের রান্নাবান্নাও চলছেনা।
শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার মুদি ও ষ্টেশনারী ব্যবসায়ি দিলীপ সাওজাল জানান, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারে ৩/৪ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে শহর। দোকান পাটে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পথে। বুধবার হাটের দিনে দক্ষিণ বন্দরের চালের বাজারসহ ভাসমান কাঁচাবার পানিতে জলমগ্ন। গরুর হাট আর কাঁচা বাজারের হাট এখন পানিতে ভাসমান । বাসাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম জনদুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ২০ হাজার বাসিন্দা।অপরদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানির প্লাবনে শতাধিক মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। অনেক মাছ ব্যবসায়ির মাছ ভেসে গেছে। এতে মাছচাষিরা বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলার বলেশ্বর নদ তীরের কচুবাড়িয়া গ্রামের মাছ চাষি দুলাল হাওলাদার জানান, সোমবার রাতে তার তিন একর মাছের ঘের ডুবে গেলে ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে যায়। তিনি আরও জানান গত দুই মাস আগে সোনালী ব্যাংক থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এ মাছের ঘেরটি দাড় করিয়ে ছিলেন। অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের প্লাবনে তিনি এখন পথে বসেছেন। একই অবস্থার ক্ষতির সম্মূখিন উপজেলার সাপলেজা গ্রামের মাছ চাষি মোবারক হাওলাদার। তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের প্লাবনে মঠবাড়িয়ার অর্ধশত মাছ চাষি ক্ষতির সম্মূখিন। উপজেলার তুষখালী,বেতমোর, বড়মাছুয়া ও গুলিসাখালী এলাকার মাছ চাষীদের এই দু:সময়ে সরকারী বেসরকারী সহায়তা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহম্মদ মরিরুজ্জামান জানান, এভাবে আরও ৩/৪ দিন জলাবদ্ধতা অব্যহত থাকে তাহলে ডুবে থাকা বীজতলা নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন