দেবদাস মজুমদার >>

প্রায় সাড়ে পাঁচফুট লম্বা  ১০ কেজি ওজনের অচেনা মাছটি ঘিরে উৎসুক মানুষের জটলা। কুঁচে সদৃশ বিশালাকৃতির এ মাছটির শরীর বেশ তেলতেলে। মাছটি বেশ শক্তিশালীও। হাতে তুলে ধরে রাখা মুশকিল।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বহেলাতলা খালে আজ রবিবার বিকালে মো. জাকির হোসেন নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির  বামোশ মাছ। প্রায় ১০কেজি ওজনের বামোশ মাছটি বাইন অথবা কুচে সদৃশ হলেও এটি খুব সুস্বাদু ও দামি মাছ বলে সনাক্ত করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। সম্প্রতি বিষখালী নদীতে উপজেলার রামনা গ্রামের জেলে বাদল হাওলাদারের জালে এরকম আরও একটি বামোশ মাছ মাছটি ধরা পড়েছিল।

তেলতেলে শরীরের মাছটি হাতে ধরে রাখা মুশকিল। মাছটি বেশ সুস্বাদু ও দামি। তবে এ প্রজাতির মাছ আমাদের বাংলার মৎস্য সম্পদ থেকে থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে।  বাংলাদেশের মৎস্য গবেষক মো. শফি এবং মো. কুদ্দুসের যৌথ গবেষণার (২০০১ সাল) তথ্য মতে, বামোশ মাছ এক লাখ পর্যন্ত ডিম পাড়ে। বাংলাদেশে ভৈরব সেতুর কাছের নদে সবচেয়ে বেশী মাছ ধরা পড়ে।

বামনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাজিউল ইসলাম জানান, পুরুষ বামোশ সাত কেজি ওজনের হতে পারে। মঠবাড়িয়ার বহেরাতলা খালে  ধরা পড়া বামোশটি  প্রায় ১০ কেজি । এমন  পূর্ণাঙ্গ বামোশ  মাছ পাওয়া এখন অনেকটাই বিরল। কারণ এ প্রজাতির মাছ আমাদের উপকূলের নদ নদীতে হর হামেশা দেখা মেলেনা। আমাদের দেশে কংস, সোমেশ্বরী, পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও কর্ণফুলিতে বামোশ মাছ মেলে। তবে ঠিক আগের মত নয়। ১০-১৫ বছর বয়সী পুরুষ বামোশ সাগড়ে যায় সেখানে ব্রিডিং শেষে সম্ভবত মারা যায়। এরা ছোট ছোট শামুক,ঝিনুক, চিংড়ি, কেঁচো ও পোকা মাকড় খেয়ে বাঁচে। আমাদের দেশে এ মাছ বানেহারা, বামোশ, বাও বায়েম, বোয়া বায়েম ও তেলকমা নামে অঞ্চলভেদে পরিচিত। মাছটি বেশ দামি ও সুস্বাদু। তিনি আরও জানান, বামোশ মাছের শ্লেষ্মা ও গমের আটা সহযোগে আর্থাইটিস রোগের ঔষধ তৈরী হয়। এছাড়া চামড়া শিল্পে এ মাছের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। তবে এ প্রজাতির মাছ এখন অনেকটাই বিলুপ্তির দিকে। আমাদের দেশে এ মাছটির যথাযথ গবেষণা প্রয়োজন।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বামোশ মাছ উপকূলের নদ নদীতে বেশ বিরল। বাংলা নাম : বামোশ,বাউস,বানেহারা, English name : Indian-longfin cel, Local Name : Bamosh, Baush, Banehara, Scientific Name : Anguilla bengalensis . এটি একটি দামি মাছ। এটি সাগর অভিসারী ,প্রজননের সময় সাগরে অভিপ্রয়াণ করে। বালিতে বসবাসকারী ছোট ছোট অমেরুদন্ডী প্রাণী, মাছ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। মাছটির সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১১৮ সেমি হয়। আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি (FAO) সংস্থার ২০০৯ সালের তথ্য মতে, বামোশ মাছ ৮০ হাজার টনের ওপরে সারা বিশ্বে বাৎসরিক রপ্তানী হয়। এর মধ্যে চীন ও তাইওয়ান ৭৫ ভাগ রপ্তানী করে। যার ৭৫ ভাগের কাছাকাছি জাপান আমদানী করে। জাপানে এ মাছের বিশাল একটা বাণিজ্যিক বাজার রয়েছে।

প্রতিবেদনের ছবি >> মো. সাইফুল খানের ফেসবুক থেকে নেয়া।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন