মো. খালিদ আবু :পিরোজপুর প্রতিনিধি >
পিরোজপুরে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও অতি সম্প্রতি হঠাৎ করে উতপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলা। মাত্র সাত দিনে পিরোজপুর সদর ও মঠবাড়িয়ায় এক ইউপি চেয়ারম্যান ও দুই মেম্বরকে হাতুড়িপেটা ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আহত জনপ্রতিনিধিরা  সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী।
একের পর এক জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। জীবনভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না অনেকেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এবং সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দেয়া ও না দেয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ হামলার শিকার হন পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা ডুমুরিতলা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য তপন কুমার সাহা (৪৫)। তাকে গত সোমবার দুপুরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। অবস্থা গুরতর হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল ও আহত ব্যক্তির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে তপন কুমার ডুমুরিতলায় বাড়ির সামনের সড়কের পাশে চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় পাঁচ থেকে সাতজন দুর্বৃত্ত সেখানে গিয়ে তপনকে হাতুড়িপেটা করে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসান মসিউর জানান, তপন কুমারের বাঁ পা ভেঙে গেছে। এ ছাড়া তার ডান পা ও পিঠে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আহত তপন সাহা বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
শারিকতলা ডুমুরিতলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ওমর ফারুক শেখ বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিরাজুর রহমান ও সাবেক সদস্য তপন কুমার সাহার ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরাও নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত আছি। তপন কুমার পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। এ ছাড়া মিরাজুর ও তপন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ এ কে এম এ আউয়ালের অনুসারী।
এদিকে একই ইউনিয়নের (সদর উপজেলার ৬নম্বর শারিকতালা- ডুমুরিতলা ইউনিয়ন) চেয়ারম্যান মিরাজুর রহমান রাজু মোল্লাকে (৪০) কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর জেলা শহরের বলাকা ক্লাব রোডের মসজিদের নিকট রাস্তায় তাকে এলাপাতারি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তার বড় ভাই পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল আহসান জুয়েল মোল্লা জানান, একদল দুর্বৃত্ত তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। মিরাজুর রহমান রাজুও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ এ কে এম এ আউয়ালের অনুসারী।
এদিকে মঠবাড়িয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে কাইউম হোসেন (৩৫) নামের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ১৬ জানুয়ারী সন্ধ্যায় পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার খাদ্য গুদামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। কাইউম হোসেন উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

পুলিশ, হাসপাতাল ও আহত ব্যক্তির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে কাইউম মোটরসাইকেলে মঠবাড়িয়া থেকে বড়মাছুয়া যাচ্ছিলেন। মঠবাড়িয়া শহরের খাদ্য গুদামের কাছে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে কাইউমকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। স্থানীয় ব্যক্তিরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে ওই রাতেই তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় কাইউমের ভাই আবদুল হালিম বাদী হয়ে বড় মাছুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল শেখকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি মামুন ফকির ও নয়ন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে।

উল্লেখ্য, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের বিরোধ রয়েছে। গত বছরের ২৫ জুলাই দুই নেতার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে লিটন প-িত নামের এক যুবলীগ কর্মী খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে রফিউদ্দিন আহমেদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। এরপর থেকে দুই নেতার অনুসারীরা প্রায়ই হামলা ও সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছেন। ইউপি সদস্য কাইউম রফিউদ্দিনের অনুসারী এবং তাকে কুপিয়ে জখম করা মামলার আসামি জুয়েল শেখ ও মাইনুল ইসলাম আশরাফুর রহমানের অনুসারী।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন