মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি >

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গত ইউপি নির্বাচনের বিরোধের জের ধরে বড়মাছুয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কাইয়ুম হাওলাদার (৩৫) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার মো. মামুন ফকির (৩৫) ও নয়ন হাওলাদার (২৭) নামে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার আদালতে সোপর্দ করেছে। নির্বাচনী বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী দুর্বত্তদল সোমবার দিবাগত রাত আটটার দিকে ইউপি সদস্য কাইয়ূমকে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে মঠবাড়িয়া পৌরন শহরের দক্ষিণ বন্দর হাসপাতাল সড়কের ওপর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। আহত ইউপি সদস্য কাইয়ূম বড়মাছুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ।
গুরুতর আহত কাইয়ুম হাওলাদারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর অবস্থা সংকটজনক।

এঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে আহতের ইউপি সদস্যর ভাই আব্দুল হালিম বাদী হয়ে সন্ত্রাসী টোকাই জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামানসহ ১৪জনকে আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ এঘটনায় এজাহার ভুক্ত আসামী মো. মামুন ফকির ও নয়ন হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে । আজ মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতাকৃতদের পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে।

থানা ও মামলাসূত্রে জানাযায়, উপজেলার বড়মাছুয়া ইউপির ৪নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাইয়ুম হাওলাদার গত ইউপি নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করায় তার প্রতিপক্ষরা এর বিরোধিতা করে আসছিল। চলমান কাবিখা প্রকল্পের ইউপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে কাইয়ুম প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে ইউনিয়ন পরিষদের কার্য সম্পাদন করে আসছেন। এতে প্রতিপক্ষরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কাইয়ুমের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সোমবার রাতে উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১০০ গজ দূরে মঠবাড়িয়া-বড়মাছুয়া সড়কে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তার পথ রোধ করে। পরে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলাপাথারি কুপিয়ে ও পিটিয়ে কাইয়ূম হত্যার চেষ্টা চালায়। তার আর্ত চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে সংকটজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয় কোন্দলের কারনেই এঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের পর দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।

ছবি > মো. শাহাদাত হোসেন

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন