সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ

বগুড়ায় শিয়া মসজিদে নামাজরতদের ওপর গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যার ঘটনাতেও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ‘দায় স্বীকারের’ খবর দিয়েছে ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শিবগঞ্জের হরিপুরে শিয়া মসজিদে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। সেজদার সময় পেছন থেকে চালানো গুলিতে নিহত হন মুয়াজ্জিন, আহত হন আরও তিনজন।

এরপর জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ তাদের ওয়েব পোর্টালে জানায়, ইসলামিক স্টেট ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

এর ঠিক এক মাস আগে পুরান ঢাকার ইমামবাড়ায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে গ্রেনেড হামলায় দুইজন নিহত হন, আহত হন শতাধিক। বাংলাদেশে সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও শিয়াদের ওপর এ ধরনের হামলা এর আগে হয়নি।

ইমামবাড়ার ঘটনার পরও আইএস জড়িত বলে দাবি করেছিল ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’। আইএসকে উদ্ধৃত করে তাদের খবরে লেখা হয়েছিল, “বাংলাদেশে খিলাফতের সৈনিকরা বহু-ঈশ্বরবাদীদের ধর্মীয় আচারের সময় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, বৃহস্পতিবার বগুড়ার হামলাকারীদের মধ্যে একজন টুপি-পাঞ্জাবি পরা এবং অন্য দু’জন চেক শার্ট-প্যান্ট পরিহিত ছিলেন। এর আগে ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি হত্যা এবং আশুলিয়ায় তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ খুন এবং দিনাজপুর ইতালীয় পাদ্রিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাতেও হামলাকারী ছিলেন তিনজন।

ওই তিনটি ক্ষেত্রে হামলাকারীরা মোটর সাইকেলে এলেও শিবগঞ্জে শিয়াদের মসজিদে হামলাকারীরা এসেছিল পায়ে হেঁটে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ আইএস- এর দায় স্বীকারের খবর দিয়েছিল, যাকে ভিত্তিহীন বলেছে বাংলাদেশ সরকার ।

বগুড়ার হামলার পর গণভবনে এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মের নামে হামলাকারীদের ‘উন্মাদ’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, যারা মসজিদে হামলা চালায়, তারা ‘সাচ্চা মুসলিম’ নয়।

এর ঠিক আগের দিন ঢাকার দারুস সালামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আল বাণী ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা ভাই নামে একজন নিহত হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি ছিলেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান।

হোসাইনী দালানে বোমা হামলা, আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যা এবং সাভারে ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গেও জেএমবি ও মাহফুজ জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বাড্ডা থেকে নাহিদ হোসেন নামের ওই তরুণকে গ্রেপ্তারের পর বলা হয়, ‘জিহাদি জন’ নাম ব্যবহার করে তিনি ইন্টারনেটে আইএস এর প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।

পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ইসলামিক স্টেট-দাওলা আল ইসলামিয়া নামের একটি পেইজ চালাতেন নাহিদ। সেখানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারের পাশাপাশি আইএসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করা হতো।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আইএস সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে পুলিশ। তবে বিদেশি হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে থেকেই বলা হয়েছে, আইএস এর কোনো কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে নেই।

এদিকে আইএস এর মাসিক পত্রিকা ‘দাবিক’ এর সর্বশেষ সংখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একজন ‘আঞ্চলিক নেতার অধীনে’ তারা নতুন হামলার জন্য সংগঠিত হচ্ছে।

২০০৫ সালের ২১ অগাস্ট দেশব্যাপী জেএমবির বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে শায়খ রহমানকে ‘উপ-মহাদেশের ১৯তম জিহাদি নেতা’ বলা হয়েছে ‘দি রিভাইভাল অব জিহাদ ইন বেঙ্গল’ শিরোনামে ওই নিবন্ধে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন