মির্জা খালেদ,পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
গত ২৯ আগষ্ট পাথরঘাটা পৌর শহরের লাগোয়া গহরপুর গ্রামের আইউব আলী হাওলাদারের একটি নির্জন দিঘির পাড়ে তাল কুড়াতে গিয়ে এক নারী পানিতে উপুর হয়ে কিছু ভাসতে দেখে। চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন আসে। পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ টাইটস, বোরকা ও পায়ে পায়েল পরিহিত ২৪/২৫ বছরের এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বিকৃত লাশ ময়না তদন্ত করে তার কোন দাবীদার না থাকায় বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আঞ্জুমান এ মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে সমাহিত করা হয়। মিডিয়ায় প্রচারিত হয় খবর। পুলিশ সারা দেশের থানায় বার্তা পাঠায় । চলছে তদন্ত কিন্তু কোন সাক্ষি প্রমান পাওয়া যাচ্ছে না। নিহতের পরিচয় অজ্ঞাত, হত্যাকারির পরিচয় অজ্ঞাত। ধারনা রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যা করে ওই দিঘীতে ফেলে রেখে গা ঢাকা দিয়েছে হত্যাকারি। কে এই হত্যাকারি কে এই নিহত নারী এ প্রশ্ন এখন সারা উপজেলা ব্যপী মানুষের। একের পর এক বেওয়ারিশ লাশ পড়ার খবরে দিন দিন আতংক ছড়াচ্ছে মানুষের মনে।
একই রকম ঘটনা ঘটে চলেছে পাথরঘাটা উপজেলায় গত ২০১৩ সাল থেকে। এযাবৎ লাশ পড়েছে ১৩টি। এর মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয় প্রকার মানুষের লাশ আছে। ২টি ছাড়া কোন হত্যাকারীর পরিচয় উদ্ধার করা যায়নি। পরিচয় হীন থাকছে নিহতরা। পুলিশ তদন্ত করছে বছরের পর বছর। কিন্তু ফলাফল শূন্য। প্রায় অর্ধেক মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

পাথরঘাটা থানা সূত্রে জানা গেছে ডিসেম্বর ২০১৩ সাল থেকে আগষ্ট ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাথরঘাটায় ১৩টি অজ্ঞাত পরিচয় (বেওয়ারিশ) লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালে একটি, ২০১৪ সালে ২টি,২০১৬ সালে ৩টি,২০১৫ সালে ৪টি,২০১৭ সালে ২টি এবং ২০১৮ সালে একটি অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ প্রাপ্তিস্থানের মধ্যে থানার সন্নিকটে, পাথরঘাটা পৌরসভা ভবনের কাছে, কেএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ডোবায়, উপজেলা পরিষদ পুকুর ,কলেজ প্রাঙ্গন পুকুর ও খাল অন্যতম। মামলা গুলো থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ,পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) তদন্ত করছে। ঘটনার কোন সাক্ষ্য প্রমান না থাকায় তদন্ত করে পুলিশ নিহতের বা হত্যাকারির পরিচয় উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে ইতিমধ্যে ৬ (ছয়) মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোল্লা মো. খবীর আহমদ বলেন, পুলিশ বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে তদন্ত করেছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেও হত্যার কোন কøু অথবা স্বাক্ষ্য প্রমান না পাওয়ায় অবশেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে হচ্ছে। কোন নিহতের পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত বছর ১০ আগষ্ট পাথরঘাটা কলেজ প্রাঙ্গনে একটি পুকুর থেকে পানিতে খুটির সাথে বাধা এক তরুনীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে ৪ ছাত্রলীগ নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। কিন্তু কী ওই হতভাগ্য তরুনীর পরিচয় তা আজও জানতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশ। অবশেষে ১২.০৮.২০১৮ তারিখ পুলিশ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে।
বরগুনা জেলা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বেওয়ারিশ লাশ পড়তে থাকলে জনমনে আতংক সৃস্টি হওয়া স্বাভাবিক। হত্যা রহস্য উদঘাটন ও বিচারের আওতায় আনার জন্য শুধু পুলিশ নয় বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা আবশ্যক।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসনে বলেন, আমি জেলায় অতিসম্প্রতি এসেছি। কতগুলো সীমাবদ্ধতা আছে। তবুও যতদুর জানি সকল থানায় বার্তা পাঠান হচ্ছে। মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষা করাচ্ছি। উদ্ধারকৃতদের বিকৃত চেহারা । কেউ তাদের খুজঁতে আসে না। হত্যা রহস্য বের করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য পুলিশ যথা সাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।##

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন