শিক্ষাঙ্গন প্রতিনিধি 🔹

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় নিষিদ্ধ শর্টকাট নামে একটি গাইড বইয়ের মডেল প্রশ্নপত্র হুবহু মিল রেখে তৈরী করা প্রশ্ন দিয়ে ২য় সাময়িক পরীক্ষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একই দিনে ধর্ম পরীক্ষায় তিন ধরণের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহন করা হয়েছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী মহলে ক্ষোভের সৃস্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ৫৬ নম্বর মডেল ও ৫৯ নম্বর বকসীর ঘটিচেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই সহা¯্রাধিক শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সাময়িক চলমান পরীক্ষায় সরকারের নিষিদ্ধ গাইড ‘শর্টকাট সাজেশন’ থেকে হুবহু তৈরী করা প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
গতকাল শুক্রবার রাতে মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আ’লীগ সহ-সভাপতি ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর অভিভাবক আরিফ-উল-হক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, গত বুধবার (৯আগস্ট) দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্নপত্র যাহা ‘শর্টকাট সাজেশন’ এর ১১৯ পৃষ্ঠার ৭নং মডেল এর সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহকৃত প্রশ্নের হুবহু মিল রয়েছে। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা প্রশ্নপত্রের সাথেও ওই গাইডের ১৪৭ নং পৃষ্ঠার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন ওই দিন চতুর্থ শ্রেণীর ধর্ম পরীক্ষার সময় তিন ধরনের প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবহিত করলে ওই পরীক্ষা স্থাগিত করা হয়। এদিকে এ খনর ছড়িয়ে পড়লে শর্টকাট গাইড ক্রয়ের ধুম পড়ে যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কতিপয় শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সাথে গাইড বই প্রকাশনা সংস্থার লোকদের যোগসাজসে বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই গাইডের মডেল প্রশ্ন হুবহু পত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম জানান, ধর্ম পরীক্ষার দুই ধরনের প্রশ্নপত্র শিক্ষা অফিস ভুলক্রমে তার বিদ্যালয়ে সরবরহ করে। অন্য স্কুলের প্রশ্নের সেট বিলি করার পর ধরা পরলে তাৎক্ষনিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ‘শর্টকাট সাজেশন’ থেকে প্রশ্নপত্র তৈরীর বিষয়ে বলেন, অভিভাবকগণ অভিযোগ দিলে তাৎক্ষনিক আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, গাইড বই থেকে প্রশ্নপত্র তৈরীর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি.এম. সরফরাজ বলেন, নিষিদ্ধ গাইড বই থেকে প্রশ্ন তৈরি করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন